ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি  স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক আলোচনা

Subhalakshi Chowdhury :অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ‘শুভলক্ষী চৌধুরী’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪০:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ৩০২ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি  স্বর্ণালী চৌধুরীর সৌজন্যে

অনিরুদ্ধ

উনিশ’শ সাতচল্লিশ-এ ভারত ভাগের পর এপার-ওপার বাংলায় আলাদা মানচিত্র হল। কুশিয়ারার জল ভাগ হলেও কিন্তু বরাক উপত্যকায় সিলেটের আঞ্চলিক ভাষার প্রচলন থেমে যায়নি। ৫২’তে মায়ের ভাষার জন্য বাংলাদেশের অকুতোভয় সন্তানেরা অকাতরে প্রাণ উৎসর্গ করেছে, তেমনি বরাকের শিলচরেও বাংলা ভাষার জন্য রক্ত ঝরেছে।

সময়টা ১৯৬১ সাল। অসম রাজ্যের রাজ্য ভাষা হিসাবে বাংলাকে অন্তর্ভূক্তির দাবীতে আন্দোলন চলাকালীন ১৯ মে শিলচর রেলস্টেশন এলাকায় আধাসামরিক বাহিনীর ছোড়া গুলিতে শহীদ হন ১১জন বাঙালি। তাদের স্মরণে শিলচর শহরের গান্ধিবাগে গড়ে তোলা হয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

দেশ ভাগ হয়েছে, মনের জমিন ভাগ হয়নি। কুশিয়ারা, বরাক দিয়ে জল গড়ানো থেমে যায়নি। শিলচরে মাথা উচু করা সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রসার দিন দিন বেড়েই চলেছে। সমৃদ্ধ হচ্ছে আর্থসামাজিক অবস্থান। মানুষে মানুষে সৌহার্দ্যরে বন্ধন আরও দৃঢ় হচ্ছে। কাধে কাধ মিলিয়ে চলার সম্মিলিত শক্তি আরও মজবুত হয়েছে। কোন জাত নয়, মানুষ হিসেবে দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আজ বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে, ‘হাত বাড়ালেই বন্ধু, পা বাড়ালেই পথ’।

মায়ের সঙ্গে

এবারে একটু থামলেন স্বর্ণালী চৌধুরী। কি যে ভাবছেন তিনি। তারপর স্মৃতির জানালা খুলে দিলেন। জীবন চলার পথে একের পর এক বাধার দেওয়া ডিঙ্গিয়ে আজকের অবস্থানে পৌছানোর গল্পটা দীর্ঘ। তার ভাবনায় কাউকে ছোট করে কেউ কখনও বড় হতে পারে না। পারস্পারিক সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে।

স্বর্ণালী চৌধুরীর বড় সন্তান প্রফেসর। ছোট মেয়ে শারীকভাবে কিছুটা সমস্যা থাকলেও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে আছেন। মায়ের শিক্ষায় সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনে আলো জ্বালাতে কাজ করে বরাক উপত্যকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শুভলক্ষী চৌধুরী। শিলচর লায়ন্স ক্লাব অফ স্মাইল-এর দ্বিতীয় মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য কর্মসূচি চালু করেন।

সঙ্গীত পরিবেশন

এক হার না মা নারীর নাম শুভলক্ষী চৌধুরী। শারীরিক সমস্যাকে দূরে ঠেলে দিয়ে তিনি নিজেকে সমর্পিত করেছেন সমাজের অনগ্রসর মানুষের কল্যাণে। মা স্বর্ণালী চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় কোন বাধাই তার কাজের গতি কমিয়ে দিতে পারেনি। তিনিই আমাদের সমাজের শুভ বোধের সারথী।

সম্প্রতি শিলচরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কবি সম্মেলন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ভূপেন হাজারিকার গান পরিবেশন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন শুভলক্ষী চৌধুরী। ৭৫তম আজাদি কা অমৃত মহোৎসব উপলক্ষে আহ্বায়ক বিশিষ্ট সমাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব স্বর্ণালী চৌধুরী অংশ গ্রহণকারী সবার হাতে জাতীয় পতাকা এবং ত্রিরঙ্গা উত্তরীয় পরিয়ে দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Subhalakshi Chowdhury :অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ‘শুভলক্ষী চৌধুরী’

আপডেট সময় : ১০:৪০:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

ছবি  স্বর্ণালী চৌধুরীর সৌজন্যে

অনিরুদ্ধ

উনিশ’শ সাতচল্লিশ-এ ভারত ভাগের পর এপার-ওপার বাংলায় আলাদা মানচিত্র হল। কুশিয়ারার জল ভাগ হলেও কিন্তু বরাক উপত্যকায় সিলেটের আঞ্চলিক ভাষার প্রচলন থেমে যায়নি। ৫২’তে মায়ের ভাষার জন্য বাংলাদেশের অকুতোভয় সন্তানেরা অকাতরে প্রাণ উৎসর্গ করেছে, তেমনি বরাকের শিলচরেও বাংলা ভাষার জন্য রক্ত ঝরেছে।

সময়টা ১৯৬১ সাল। অসম রাজ্যের রাজ্য ভাষা হিসাবে বাংলাকে অন্তর্ভূক্তির দাবীতে আন্দোলন চলাকালীন ১৯ মে শিলচর রেলস্টেশন এলাকায় আধাসামরিক বাহিনীর ছোড়া গুলিতে শহীদ হন ১১জন বাঙালি। তাদের স্মরণে শিলচর শহরের গান্ধিবাগে গড়ে তোলা হয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

দেশ ভাগ হয়েছে, মনের জমিন ভাগ হয়নি। কুশিয়ারা, বরাক দিয়ে জল গড়ানো থেমে যায়নি। শিলচরে মাথা উচু করা সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রসার দিন দিন বেড়েই চলেছে। সমৃদ্ধ হচ্ছে আর্থসামাজিক অবস্থান। মানুষে মানুষে সৌহার্দ্যরে বন্ধন আরও দৃঢ় হচ্ছে। কাধে কাধ মিলিয়ে চলার সম্মিলিত শক্তি আরও মজবুত হয়েছে। কোন জাত নয়, মানুষ হিসেবে দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আজ বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে, ‘হাত বাড়ালেই বন্ধু, পা বাড়ালেই পথ’।

মায়ের সঙ্গে

এবারে একটু থামলেন স্বর্ণালী চৌধুরী। কি যে ভাবছেন তিনি। তারপর স্মৃতির জানালা খুলে দিলেন। জীবন চলার পথে একের পর এক বাধার দেওয়া ডিঙ্গিয়ে আজকের অবস্থানে পৌছানোর গল্পটা দীর্ঘ। তার ভাবনায় কাউকে ছোট করে কেউ কখনও বড় হতে পারে না। পারস্পারিক সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ মানুষকে সমৃদ্ধ করে।

স্বর্ণালী চৌধুরীর বড় সন্তান প্রফেসর। ছোট মেয়ে শারীকভাবে কিছুটা সমস্যা থাকলেও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে আছেন। মায়ের শিক্ষায় সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনে আলো জ্বালাতে কাজ করে বরাক উপত্যকায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শুভলক্ষী চৌধুরী। শিলচর লায়ন্স ক্লাব অফ স্মাইল-এর দ্বিতীয় মেয়াদে সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য কর্মসূচি চালু করেন।

সঙ্গীত পরিবেশন

এক হার না মা নারীর নাম শুভলক্ষী চৌধুরী। শারীরিক সমস্যাকে দূরে ঠেলে দিয়ে তিনি নিজেকে সমর্পিত করেছেন সমাজের অনগ্রসর মানুষের কল্যাণে। মা স্বর্ণালী চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় কোন বাধাই তার কাজের গতি কমিয়ে দিতে পারেনি। তিনিই আমাদের সমাজের শুভ বোধের সারথী।

সম্প্রতি শিলচরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কবি সম্মেলন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ভূপেন হাজারিকার গান পরিবেশন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন শুভলক্ষী চৌধুরী। ৭৫তম আজাদি কা অমৃত মহোৎসব উপলক্ষে আহ্বায়ক বিশিষ্ট সমাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব স্বর্ণালী চৌধুরী অংশ গ্রহণকারী সবার হাতে জাতীয় পতাকা এবং ত্রিরঙ্গা উত্তরীয় পরিয়ে দেন।