রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
- আপডেট সময় : ০৭:৫৫:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করা বাংলাদেশের সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী রবিবার সপরিবারে বঙ্গভবনের আনুষ্ঠানিক আবাস ত্যাগ করতে যাচ্ছেন। দীর্ঘ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ভবন থেকে বিদায়ের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক বক্তব্যে রাষ্ট্রপতির পরিবারের এক সদস্য জানান, বঙ্গভবন ছাড়ার সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। শিগগিরই তিনি পরিবার নিয়ে রাজধানীর গুলশানে নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে উঠবেন।
রাষ্ট্রপতি পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। শুক্রবার বিকেলে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর করা পদত্যাগপত্র বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন।
স্পিকার বলেন, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি আরও জানান, গুরুতর অসুস্থতার কারণেই মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নিজেকে অসমর্থ মনে করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রে শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় দেশের প্রতি তার ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতির অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি ওঠে। এ দাবিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে কর্মসূচি ও আন্দোলনও হয়েছে।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়ের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে বঙ্গভবন ছাড়ছেন মো. সাহাবুদ্দিন। এখন তিনি নতুন জীবনের পর্ব শুরু করবেন নিজ বাসভবনে, যেখানে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের ব্যস্ততার পরিবর্তে কাটবে ব্যক্তিগত সময় ও পারিবারিক পরিসরে।



















