ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বগুড়া কৃষকের হাসি কেড়ে নিয়েছে সবজির দরপতন বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও বিকল্প অর্থায়নে গুরুত্ব এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ প্রস্তাবসহ ২৩ সমঝোতায় এগোল বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হাটে ঢুকেই গুলি, বের হওয়ার সময় বলল ‘আজ স্বাধীন পুষ্পপাড়া ’ পাবনায় বিলে বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু আহত আরও কয়েকজন পাকা জুম ধানে সোনালি হাসি, ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত রাঙামাটির জুমিয়ারা সংসদীয় কূটনীতিতে বাংলাদেশ-ব্রিটেন সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যয় চন্দ্রনাথ পাহাড়ে সবুজ প্রকৃতি, নজরুল ও বন্ধুত্বের অমলিন স্মৃতি শনিবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ

২৭-এ শুরু ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৬:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯৯ বার পড়া হয়েছে

আগামী বছর পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন: পানিসম্পদমন্ত্রী

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়ন হবে প্রকল্প: পানিসম্পদমন্ত্রী
২৪ জেলায় কৃষি ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের আশা

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের ২৪টি জেলার কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। পানি সংরক্ষণ ও সেচ সুবিধা বাড়ার ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত হবে।

পদ্মা ব্যারেজকে একটি মেগা প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করে পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি, কৃষি, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে। সংরক্ষিত এই পানি শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে।

আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে যেকোনো দিন রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন। ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পানিসম্পদমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ প্রকল্পটি দেশীয় অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জিওপি (এড়াবৎহসবহঃ ড়ভ চধশরংঃধহ) প্রকল্প থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, আমরা গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত হয়েছি এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নিয়েছি। এরপর থেকেই দেশের উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি সেক্টরে কীভাবে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায় এবং জনগণের স্বার্থ কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

এ ছাড়া প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পদ্মা নদীর পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ওই অঞ্চলের কৃষি, শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নতুন নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০০৪ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় প্রকল্পটির কারিগরি সমীক্ষা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাটি এবার বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা।

প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রায় সাত বছরের মধ্যে ব্যারেজটির নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী পদ্মা ব্যারেজে ৭৮টি স্পিলওয়ে ও ১৮টি আন্ডার স্লুইস নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি থাকবে দুটি ফিশ পাস এবং একটি নেভিগেশন লক। এসব অবকাঠামোর মাধ্যমে পানি নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণ, মাছের চলাচল এবং নৌযান চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পদ্মা নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ হওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পদ্মা ব্যারেজের সাইট পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন আজাদ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ হারুন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মিয়া, কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আসলাম মিয়া, জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীনসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :