এলএনজি সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তরে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় : ০৯:০৯:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশে ভাসমান এলএনজি সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তর ইউনিট-এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ধরনের বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।
সোমবার ঢাকার মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ আগ্রহের কথা জানান। বৈঠকে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি খাতে অংশীদারত্ব, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সাম্প্রতিক নীতি সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এফএসআরইউ প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রদূত বলেন, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়বে। বাংলাদেশে কাজ করতে মার্কিন কোম্পানিগুলো অত্যন্ত আগ্রহী উল্লেখ করে তিনি এসব প্রতিষ্ঠানকে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এফএসআরইউ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি সরবরাহ সক্ষমতা দেখাতে পারলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। কম সময়ে কার্যকর সরবরাহ পরিকল্পনা দিতে পারলে প্রতিযোগিতায় তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানো, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ব্যবসার পরিবেশ আরও সহজ করার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন। দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে বিদ্যমান সুযোগগুলো কাজে লাগানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
জ্বালানি সহযোগিতার প্রসঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহের বিষয়টিও উঠে আসে। ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত ১৩ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ১১৭টি এলএনজি কার্গো বা জাহাজভর্তি এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গানভর ইউএসএ এলএলসির সঙ্গে এ-সংক্রান্ত চুক্তিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
বৈঠকে কৌশলগত সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগের পুরোনো বাধ্যবাধকতা বাতিলের বিষয়টি রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরাসরি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমেছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
নতুন আমদানি নীতিতে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রশংসা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে নীতিটির কিছু ধারা আরও ব্যবসাবান্ধব করার সুযোগ রয়েছে বলেও মত দেন তিনি।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমদানি নীতি একটি চলমান প্রক্রিয়া। বাজার ও অর্থনীতির বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বৈঠকে শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান এবং মার্কিন দূতাবাসের ইকোনমিক চিফ এঞ্জেলো পালাজ্জেলো উপস্থিত ছিলেন।

















