ঢাকা ১২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প ইসরায়েলে বহুমুখী হামলার প্রস্তুতি, মিত্রদের একজোট করছে ইরান এলএনজি সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তরে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র নিউ মেক্সিকো’র নাম পরিবর্তন করে নিউ আমেরিকা রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট : প্রধানমন্ত্রী সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবল একদিনে রেকর্ড ১,৫৫৮ ভর্তি, মৃত্যু ৪ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে গুরুত্ব রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ  কোটি টাকা কোথায় আটকে আছে অর্থ

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিউআর কোডে হবে শনাক্তকরণ, নির্ধারিত রুট ছাড়া চলবে না

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের লাগামহীন চলাচল নিয়ন্ত্রণে অবশেষে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা এসেছে সংসদে। একটি নিবন্ধনের বিপরীতে একাধিক যান চলাচল বন্ধে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কিউআর কোডের মাধ্যমে অটোরিকশা শনাক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে। নির্ধারিত রুটের বাইরে এসব যান চলতে পারবে না; মহাসড়ক ও প্রধান সড়কেও নিষিদ্ধ করা হবে।

সোমবার জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা জানান।

সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার বা অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব যান মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করছে। অথচ বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার হলেও শুধু ঢাকাতেই রয়েছে ৪৮ হাজারের বেশি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট।

অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সরকার বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলেও সংসদে উল্লেখ করা হয়। বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে একদিকে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে চাপ রয়েছে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত যান অবৈধ চার্জিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, এ বাস্তবতায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

রেহানা আক্তার রানু আরও বলেন, এসব যানে ব্যবহৃত সস্তা লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। অদক্ষ চালক ও ত্রুটিপূর্ণ ব্রেকের কারণেও দুর্ঘটনা বাড়ছে। তবে লাখ লাখ মানুষের জীবিকা এসব যানকেন্দ্রিক হওয়ায় এগুলো ঢালাওভাবে উচ্ছেদ না করে নীতিমালার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অটোরিকশা খাতের সঙ্গে কর্মসংস্থান জড়িত। তাই কর্মসংস্থান ব্যাহত না করে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নতুন ব্যবস্থায় অটোরিকশার নির্দিষ্ট রুট থাকবে এবং পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ ব্যাটারি ব্যবহারের শর্ত যুক্ত করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে একটি যানের নিবন্ধন নিয়ে একই নম্বরে ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত গাড়ি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের জালিয়াতি বন্ধে প্রতিটি যানকে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে।

বিদ্যুৎ চুরি বন্ধেও বিদ্যুৎ বিভাগের নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআইভিত্তিক ক্যামেরা ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে অবৈধ অটোরিকশার সংখ্যা ও বিদ্যুৎ চুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে, অন্যদিকে সড়ক নিরাপত্তা ও যানজট কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিউআর কোডে হবে শনাক্তকরণ, নির্ধারিত রুট ছাড়া চলবে না

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের লাগামহীন চলাচল নিয়ন্ত্রণে অবশেষে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা এসেছে সংসদে। একটি নিবন্ধনের বিপরীতে একাধিক যান চলাচল বন্ধে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কিউআর কোডের মাধ্যমে অটোরিকশা শনাক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে। নির্ধারিত রুটের বাইরে এসব যান চলতে পারবে না; মহাসড়ক ও প্রধান সড়কেও নিষিদ্ধ করা হবে।

সোমবার জাতীয় সংসদে ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা জানান।

সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার বা অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব যান মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহার করছে। অথচ বৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার হলেও শুধু ঢাকাতেই রয়েছে ৪৮ হাজারের বেশি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট।

অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে সরকার বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলেও সংসদে উল্লেখ করা হয়। বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে একদিকে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে চাপ রয়েছে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারিচালিত যান অবৈধ চার্জিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, এ বাস্তবতায় বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।

রেহানা আক্তার রানু আরও বলেন, এসব যানে ব্যবহৃত সস্তা লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। অদক্ষ চালক ও ত্রুটিপূর্ণ ব্রেকের কারণেও দুর্ঘটনা বাড়ছে। তবে লাখ লাখ মানুষের জীবিকা এসব যানকেন্দ্রিক হওয়ায় এগুলো ঢালাওভাবে উচ্ছেদ না করে নীতিমালার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অটোরিকশা খাতের সঙ্গে কর্মসংস্থান জড়িত। তাই কর্মসংস্থান ব্যাহত না করে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নতুন ব্যবস্থায় অটোরিকশার নির্দিষ্ট রুট থাকবে এবং পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ ব্যাটারি ব্যবহারের শর্ত যুক্ত করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে একটি যানের নিবন্ধন নিয়ে একই নম্বরে ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত গাড়ি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের জালিয়াতি বন্ধে প্রতিটি যানকে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্ত করা হবে।

বিদ্যুৎ চুরি বন্ধেও বিদ্যুৎ বিভাগের নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআইভিত্তিক ক্যামেরা ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে অবৈধ অটোরিকশার সংখ্যা ও বিদ্যুৎ চুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে, অন্যদিকে সড়ক নিরাপত্তা ও যানজট কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।