ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হুশিয়ারি হয়তো আমি থাকব, আর নাহয় অনিয়ম থাকবে হাসিনা আমলে ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি দেশবিরোধী হলে বাতিল করবে ঢাকা ২৭-এ শুরু ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ ইলিশের ভরা মৌসুমেও আকাল, চড়া দামে পাতে ওঠছে না জাতীয় মাছ ফের ১০৮ ডলার, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা দু’দিনের মাথায় ফের ভরিতে ২১৫৮ টাকা কমল স্বর্ণের দাম বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে  আমদানির বিদ্যুৎ গিলছে অবৈধ ব্যাটারি অটোরিকশা জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক যুদ্ধবিমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন প্রত্যাশা খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হুশিয়ারি হয়তো আমি থাকব, আর নাহয় অনিয়ম থাকবে

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

হয়তো আমি থাকব, আর নাহয় অনিয়ম থাকবে

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের রোগীদের রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা বাইরে থেকে করানো এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকেই বাইরের লোকজনের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শুক্রবার আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী ১৫-২০ জন ডেঙ্গু রোগীর কাগজপত্র পরীক্ষা করেন এবং সেগুলোর ফটোকপি সংগ্রহ করেন। তিনি জানান, এসব রোগীর অধিকাংশ পরীক্ষাই হাসপাতালের বাইরে করানো হয়েছে।

অনিয়মের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে ব্যবস্থা যা নেওয়ার, আমরা দেখব। দোয়া রাইখেন অনিয়ম থাকবে না। হয়তো আমি থাকব, আর নাহয় এটা (অনিয়ম) থাকবে দুইটার একটা হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবার সব অনিয়ম একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে কোনো অনিয়মের তথ্য জানার পর তা কঠোর হাতে দমন করা হবে।

মুগদা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের রক্ত বাইরে থেকে এসে ‘ফেরিওয়ালার মতো’ সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের কাছ থেকেই বাইরে থেকে আসা লোকজন টাকা নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করাচ্ছে। অথচ জনগণের অর্থে পরিচালিত সরকারি ব্যবস্থার সুবিধা রোগীরা যথাযথভাবে পাচ্ছেন না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায় আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, অবশ্যই দায় আছে। দিনের বেলায় হাসপাতালের ভেতরে বাইরের লোকজন এসে রক্ত সংগ্রহ করবে, এটি কোনোভাবেই কর্তৃপক্ষের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ডেঙ্গু রোগীদের মশারি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি দেখেছেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মশারি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। কারণ একজন রোগীকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যর্থ হলে অন্য রোগীদেরও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গত তিন মাস ধরে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং মশা ও লার্ভা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও জমে থাকা পানির কারণে এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। লার্ভা ধ্বংসে ওষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি মশা নিধনে নিয়মিত স্প্রে কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।

তবে মুগদা হাসপাতালের ঘটনাটি যে সাধারণ কোনো অনিয়ম হিসেবে দেখছেন না, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর বার্তা একেবারেই সরাসরি সরকারি হাসপাতালে জনগণের অর্থে পরিচালিত চিকিৎসাসেবাকে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের বাণিজ্যের ক্ষেত্র হতে দেওয়া হবে না। অনিয়মের বিরুদ্ধে এবার দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অপেক্ষা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হুশিয়ারি হয়তো আমি থাকব, আর নাহয় অনিয়ম থাকবে

আপডেট সময় : ০৫:৩২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের রোগীদের রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা বাইরে থেকে করানো এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকেই বাইরের লোকজনের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

শুক্রবার আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী ১৫-২০ জন ডেঙ্গু রোগীর কাগজপত্র পরীক্ষা করেন এবং সেগুলোর ফটোকপি সংগ্রহ করেন। তিনি জানান, এসব রোগীর অধিকাংশ পরীক্ষাই হাসপাতালের বাইরে করানো হয়েছে।

অনিয়মের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে ব্যবস্থা যা নেওয়ার, আমরা দেখব। দোয়া রাইখেন অনিয়ম থাকবে না। হয়তো আমি থাকব, আর নাহয় এটা (অনিয়ম) থাকবে দুইটার একটা হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবার সব অনিয়ম একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে কোনো অনিয়মের তথ্য জানার পর তা কঠোর হাতে দমন করা হবে।

মুগদা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের রক্ত বাইরে থেকে এসে ‘ফেরিওয়ালার মতো’ সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের কাছ থেকেই বাইরে থেকে আসা লোকজন টাকা নিয়ে রক্ত পরীক্ষা করাচ্ছে। অথচ জনগণের অর্থে পরিচালিত সরকারি ব্যবস্থার সুবিধা রোগীরা যথাযথভাবে পাচ্ছেন না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায় আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, অবশ্যই দায় আছে। দিনের বেলায় হাসপাতালের ভেতরে বাইরের লোকজন এসে রক্ত সংগ্রহ করবে, এটি কোনোভাবেই কর্তৃপক্ষের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ডেঙ্গু রোগীদের মশারি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি দেখেছেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর ভাষায়, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মশারি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। কারণ একজন রোগীকে সুরক্ষিত রাখতে ব্যর্থ হলে অন্য রোগীদেরও সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, গত তিন মাস ধরে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং মশা ও লার্ভা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও জমে থাকা পানির কারণে এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। লার্ভা ধ্বংসে ওষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি মশা নিধনে নিয়মিত স্প্রে কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।

তবে মুগদা হাসপাতালের ঘটনাটি যে সাধারণ কোনো অনিয়ম হিসেবে দেখছেন না, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর বার্তা একেবারেই সরাসরি সরকারি হাসপাতালে জনগণের অর্থে পরিচালিত চিকিৎসাসেবাকে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের বাণিজ্যের ক্ষেত্র হতে দেওয়া হবে না। অনিয়মের বিরুদ্ধে এবার দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অপেক্ষা।