প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের তৈরি করতে হবে: ববি হাজ্জাজ
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা থেমে থাকবে না। তাই শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে নয়, বরং নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ব্যবহার শেখানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত ‘ডিজিটাল জেন্ডার নরমস (ডিজিটাল পরিসরে লিঙ্গভিত্তিক সামাজিক মানদণ্ড): জাতীয় শিখন-অভিজ্ঞতা বিনিময়’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে জনগণের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। বরং সেই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যম এখন সমাজ, রাষ্ট্র ও নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই প্রযুক্তিকে অস্বীকার না করে এর নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সমাজের প্রচলিত মূল্যবোধের একটি ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এই ব্যবধান দূর করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিশু-কিশোরদের তথ্য যাচাই, নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ এবং অনলাইন নৈতিকতা বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে হবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ছবি-ভিডিও, চরিত্রহনন ও ডিজিটাল হয়রানি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে নারী, কিশোরী ও নারী রাজনীতিবিদরা এসব অপরাধের বড় শিকার। এ কারণে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশু ও নারীর সুরক্ষায় কার্যকর আইন ও নীতিমালার বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে অযৌক্তিক বাধা সৃষ্টি করা নয়; বরং স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। নতুন শিক্ষাক্রমে ভ্যালু-বেইজড এডুকেশন, ডিজিটাল সেফটি, লাইফ স্কিল, জেন্ডার সংবেদনশীলতা ও নাগরিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে শ্রেণিকক্ষে ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু, শিক্ষকদের ট্যাব সরবরাহ এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবান্ধব ডিজিটাল ডিভাইস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিশুদের নিরাপদ বিকাশ শুধু অভিভাবকের নয়, পুরো সমাজের দায়িত্ব। এ জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমিউনিটি সম্পৃক্ততা বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও এনজিওগুলোর কার্যকর উদ্যোগ সরকার গ্রহণ ও সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শৈশব থেকেই সমান সুযোগ, নিরাপদ পরিবেশ ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন, ইউএন উইমেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, জাগো ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।



















