ঢাকা ০৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুই মাসের মধ্যে চাঁদাবাজিমুক্ত মহাসড়কের প্রত্যয় ফ্রান্সে আইন পাস শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বিমান বহরে যুক্ত হচ্ছে ১০ এয়ারবাস, ৩১ আগস্টের মধ্যে চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কা তেলের দাম ৯২ ডলার ছাড়াল নতুন মূল্যস্ফীতির শঙ্কায়  দরিদ্র দেশগুলো চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে বিজিবির মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের নতুন গতি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের তৈরি  করতে হবে: ববি হাজ্জাজ পাসপোর্ট-ভিসা জালিয়াতি প্রকৃত মালিকের আগেই ইতালি গেলেন অন্য নারী ক্ষমতার আড়ালে লীলাখেলা বিশ্ব রাজনীতি কাঁপানো যত নারী কেলেঙ্কারি অনুপ্রবেশ কালে মিয়ানমারের সেনাসদস্যসহ আটক ৩

দুই মাসের মধ্যে চাঁদাবাজিমুক্ত মহাসড়কের প্রত্যয়

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৪২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

দুই মাসের মধ্যে চাঁদাবাজিমুক্ত মহাসড়কের প্রত্যয়

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতে নতুন যুগে হাইওয়ে পুলিশ, স্বচ্ছতা জবাবদিহিতায় জোর

দেশের মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন থেকে চাঁদা আদায়, হয়রানি, ডাকাতি, মাদক পাচার, যানজট এবং দুর্ঘটনা এসব সমস্যা পরিবহন খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ট্রাক, বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালক এবং মালিকদের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে অর্থ আদায় ও অপ্রয়োজনীয় হয়রানির কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ে, সময় নষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।

এই বাস্তবতায় মহাসড়ককে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ফারুক আহমেদ। তাঁর এই ঘোষণা শুধু একটি প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং মহাসড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক পুলিশিং প্রতিষ্ঠার একটি নতুন উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশের মহাসড়কগুলোকে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, হাইওয়ে পুলিশের কোনো সদস্যকে মহাসড়কে যানবাহন থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করতে দেওয়া হবে না। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

গত ৭ জুলাই হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফারুক আহমেদ প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে, যা দেশের মহাসড়ক ব্যবস্থাপনায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। এই মহাসড়কের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা শুধু যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণই করবে না; সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত, দুর্ঘটনা দ্রুত শনাক্তকরণ, যানজটের কারণ বিশ্লেষণ এবং অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একইভাবে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কেও উন্নত প্রযুক্তির নজরদারি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত এই এআই ক্যামেরাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার জন্য শিগগিরই মন্ত্রণালয় ও হাইওয়ে পুলিশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এরই মধ্যে হাইওয়ে পুলিশ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে।

হাইওয়ে পুলিশ প্রধানের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু চাঁদাবাজি নয়, মহাসড়কে ডাকাতি, মাদক পাচার, চুরি এবং অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, যানজট নিরসন এবং জরুরি সেবা সমন্বয় করাও সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। কারণ, সিসিটিভি ও এআইভিত্তিক নজরদারির ফলে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ হবে এবং কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে যেমন দুর্নীতি কমবে, তেমনি সৎ কর্মকর্তারাও অযথা হয়রানির শিকার হবেন না।

ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সেবার মান উন্নয়ন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের আস্থা অর্জনই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমও জোরদার করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ অপরাধ দমনে পুলিশের অংশীদার হতে পারেন।

বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশ দেশের ৭৩টি থানার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে বাহিনীর জনবল, লজিস্টিক সুবিধা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সদস্যদের পেশাগত প্রশিক্ষণ, আধুনিক তদন্ত দক্ষতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের মহাসড়ক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ হলে পরিবহন ব্যয় কমবে, পণ্য পরিবহনে গতি বাড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন মহাসড়ক নিশ্চিত হলে যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে এবং সড়কপথে দুর্ঘটনা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে হাইওয়ে পুলিশের নতুন এই উদ্যোগ কেবল আইন প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ঘোষিত সময়ের মধ্যে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধে দৃশ্যমান সাফল্য এলে তা পরিবহন খাতের দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যার সমাধানে মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। সূত্র বাসস

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দুই মাসের মধ্যে চাঁদাবাজিমুক্ত মহাসড়কের প্রত্যয়

আপডেট সময় : ০১:৪২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতে নতুন যুগে হাইওয়ে পুলিশ, স্বচ্ছতা জবাবদিহিতায় জোর

দেশের মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে যানবাহন থেকে চাঁদা আদায়, হয়রানি, ডাকাতি, মাদক পাচার, যানজট এবং দুর্ঘটনা এসব সমস্যা পরিবহন খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ট্রাক, বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালক এবং মালিকদের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে অর্থ আদায় ও অপ্রয়োজনীয় হয়রানির কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ে, সময় নষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।

এই বাস্তবতায় মহাসড়ককে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ফারুক আহমেদ। তাঁর এই ঘোষণা শুধু একটি প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং মহাসড়ক ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক পুলিশিং প্রতিষ্ঠার একটি নতুন উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশের মহাসড়কগুলোকে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, হাইওয়ে পুলিশের কোনো সদস্যকে মহাসড়কে যানবাহন থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করতে দেওয়া হবে না। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।

গত ৭ জুলাই হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফারুক আহমেদ প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে, যা দেশের মহাসড়ক ব্যবস্থাপনায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। এই মহাসড়কের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যামেরা শুধু যানবাহনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণই করবে না; সন্দেহজনক কার্যক্রম শনাক্ত, দুর্ঘটনা দ্রুত শনাক্তকরণ, যানজটের কারণ বিশ্লেষণ এবং অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একইভাবে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কেও উন্নত প্রযুক্তির নজরদারি ব্যবস্থা চালু হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত এই এআই ক্যামেরাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার জন্য শিগগিরই মন্ত্রণালয় ও হাইওয়ে পুলিশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এরই মধ্যে হাইওয়ে পুলিশ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে।

হাইওয়ে পুলিশ প্রধানের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে শুধু চাঁদাবাজি নয়, মহাসড়কে ডাকাতি, মাদক পাচার, চুরি এবং অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, যানজট নিরসন এবং জরুরি সেবা সমন্বয় করাও সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। কারণ, সিসিটিভি ও এআইভিত্তিক নজরদারির ফলে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ হবে এবং কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে যেমন দুর্নীতি কমবে, তেমনি সৎ কর্মকর্তারাও অযথা হয়রানির শিকার হবেন না।

ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সেবার মান উন্নয়ন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের আস্থা অর্জনই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমও জোরদার করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ অপরাধ দমনে পুলিশের অংশীদার হতে পারেন।

বর্তমানে হাইওয়ে পুলিশ দেশের ৭৩টি থানার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতে বাহিনীর জনবল, লজিস্টিক সুবিধা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সদস্যদের পেশাগত প্রশিক্ষণ, আধুনিক তদন্ত দক্ষতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের মহাসড়ক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ হলে পরিবহন ব্যয় কমবে, পণ্য পরিবহনে গতি বাড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন মহাসড়ক নিশ্চিত হলে যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে এবং সড়কপথে দুর্ঘটনা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে হাইওয়ে পুলিশের নতুন এই উদ্যোগ কেবল আইন প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ঘোষিত সময়ের মধ্যে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধে দৃশ্যমান সাফল্য এলে তা পরিবহন খাতের দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যার সমাধানে মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। সূত্র বাসস