স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা
- আপডেট সময় : ১০:০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় এক নারী ইউপি সদস্য শীলা আক্তার (৩৫) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
শীলা আক্তার আগৈলঝাড়া উপজেলার ৪ নম্বর গৈলা মডেল ইউনিয়নের ৭,৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ছিলেন। তিনি উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বেও ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সেরাল গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় শীলা আক্তারের সঙ্গে তাঁর স্বামী শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতের পারিবারিক কলহ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে শীলাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরবর্তী সময়ে শীলা আক্তার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। চিৎকার ও অস্বাভাবিক শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহামুদুল হাসান রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে দেখে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। রাতে হাসপাতালে পৌঁছালে দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
শীলা আক্তার তিন কন্যা সন্তানের জননী ছিলেন। তাঁর স্বামী শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাত একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং গৈলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। শীলা আক্তার ছিলেন মারুফের দ্বিতীয় স্ত্রী।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শীলার পরিবার শারীরিক নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ তুলেছে।
শীলার বাবা আব্দুস সালাম হাওলাদার জানান, প্রায় এক বছর আগে মারুফ সেরনিয়াবাতের সঙ্গে শীলার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সেরাল গ্রামের ভাড়া বাসায় তারা থাকত। বিয়ের পর থেকেই অহেতুক নানা কারণে আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করত।
শীলার মা ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন বিকেলে বাসায় বসেই মারুফ আমার মেয়েকে অমানুষিক নির্যাতন করে। সেই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাধ্য হয়েই শীলা ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেয়।
আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। রিপোর্ট এলে সে অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



















