ঢাকা ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি  স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক আলোচনা ম্যানিলায় বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পেলেন নৌবাহিনীর নতুন প্রধান বহির্নোঙরে থাকা ৩টি  জাহাজ থেকে ১০ কোটি টাকার মাল লুটের অভিযোগ তিস্তা পারের মানুষের ভাঙন আতঙ্ক  বন্যার ক্ষতি শুধু অর্থনীতিতে নয়, মানুষের জীবনেও গভীর ক্ষত নারী কেলেঙ্কারী : নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বহিষ্কার

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৪:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে দাখিল করেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।

একই সঙ্গে পদত্যাগপত্রটি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ডে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্পিকার জানান, রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন যে তিনি গুরুতর অসুস্থ। তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। তার হৃৎযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে এবং সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন।
তিনি আরও জানান, এসব শারীরিক জটিলতা ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেছেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের সময়ই প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও নেওয়া থাকে। একইভাবে স্পিকারের পদ শূন্য হলে ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। এখন স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যগত কারণেই পদত্যাগ করেছেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, একজন রাষ্ট্রপতি অসুস্থ হতে পারেন এবং তিনি লিখিতভাবে তার অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করেছেন। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো চিকিৎসা সনদের প্রয়োজন নেই।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে সব ধরনের ধোঁয়াশা, বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তার অবসান হবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ কখনো শূন্য থাকে না। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন এবং রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।

 

জাতীয় সংসদের হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শুক্রবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র সংসদ সচিবালেয় পৌঁছে দেন তার একান্ত সচিব দিদারুল আলম। বিকেল ৫টা ০১ মিনিটে স্পিকার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেন।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। ওই সময় শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাব। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গেলো কয়েকদিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করবেন এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। লন্ডন সফরের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের অভিযোগ ওঠে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে। যদিও তিনি কয়েকটি গণমাধ্যমকে এ বিষয়টি ঠিক নয় বলে জানিয়েছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে দাখিল করেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।

একই সঙ্গে পদত্যাগপত্রটি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ডে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্পিকার জানান, রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন যে তিনি গুরুতর অসুস্থ। তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। তার হৃৎযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে এবং সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন।
তিনি আরও জানান, এসব শারীরিক জটিলতা ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেছেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হিসেবে শপথ গ্রহণের সময়ই প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের শপথও নেওয়া থাকে। একইভাবে স্পিকারের পদ শূন্য হলে ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। এখন স্পষ্ট হয়েছে যে তিনি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যগত কারণেই পদত্যাগ করেছেন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন।

এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, একজন রাষ্ট্রপতি অসুস্থ হতে পারেন এবং তিনি লিখিতভাবে তার অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করেছেন। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো চিকিৎসা সনদের প্রয়োজন নেই।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এ বিষয়ে সব ধরনের ধোঁয়াশা, বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তার অবসান হবে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ কখনো শূন্য থাকে না। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন এবং রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।

 

জাতীয় সংসদের হুইপ মো. নূরুল ইসলাম ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শুক্রবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র সংসদ সচিবালেয় পৌঁছে দেন তার একান্ত সচিব দিদারুল আলম। বিকেল ৫টা ০১ মিনিটে স্পিকার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করেন।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। ওই সময় শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাব। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গেলো কয়েকদিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করবেন এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। লন্ডন সফরের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনালাপের অভিযোগ ওঠে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে। যদিও তিনি কয়েকটি গণমাধ্যমকে এ বিষয়টি ঠিক নয় বলে জানিয়েছিলেন।