স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের নতুন গতি
- আপডেট সময় : ০৫:২৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
বর্ষার বৃষ্টিতে যখন প্রকৃতি সবুজে সেজে ওঠে, তখন অদৃশ্য এক বিপদও নীরবে বাসা বাঁধে আমাদের ঘর-আঙিনায়। ছাদে, বারান্দায়, ফুলের টবে কিংবা পরিত্যক্ত পাত্রে জমে থাকা সামান্য পরিষ্কার পানিই হয়ে ওঠে এডিস মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র। আর সেখান থেকেই শুরু হয় ডেঙ্গুর বিস্তার। প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ, আর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা।
ডেঙ্গু কেবল একটি মৌসুমি রোগ নয়, এটি এখন জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত দেশে ২০ হাজার ৯০০-এর বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, প্রাণ হারিয়েছেন ৮৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ জনই ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্ষার বাকি সময়জুড়ে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
আশার কথা হলো, সচেতনতা ও সময়মতো পদক্ষেপ নিলে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা অনেকটাই রোধ করা সম্ভব। বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমতে না দেওয়া, মশার কামড় থেকে নিজেকে ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখা এবং জ্বর বা ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই হতে পারে জীবন রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। মনে রাখতে হবে, একটি ছোট্ট সতর্কতাই একটি পরিবারের বড় বিপদ এড়িয়ে দিতে পারে।

এমন অবস্থায় প্রশাসকদের সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন গতি এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগর পরিচ্ছন্নতায় নিয়োজিত সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের নিজ নিজ বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেতন হতে হবে।
তিনি বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মীর শাহে আলম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর। তাই এডিস মশার লার্ভার উৎপত্তিস্থল ধ্বংসে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

সভায় প্রতিমন্ত্রী সিটি করপোরেশনগুলোর প্রশাসকদের বক্তব্য শোনেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে অব্যাহত কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন। মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে কার্যক্রম আরও সমন্বিত ও ফলপ্রসূ করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের ফলে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে নতুন কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসকদের আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, কুমিল্লা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও বগুড়াসহ বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি অংশ নেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ডেঙ্গু ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে, এই মুহূর্তে সচেতনতা ও প্রতিরোধই হতে পারে জীবনরক্ষাকারী পদক্ষেপ। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে নিজে সচেতন হোন, অন্যদেরও সচেতন করুন।



















