ঢাকা ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি  স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক আলোচনা ম্যানিলায় বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পেলেন নৌবাহিনীর নতুন প্রধান বহির্নোঙরে থাকা ৩টি  জাহাজ থেকে ১০ কোটি টাকার মাল লুটের অভিযোগ তিস্তা পারের মানুষের ভাঙন আতঙ্ক  বন্যার ক্ষতি শুধু অর্থনীতিতে নয়, মানুষের জীবনেও গভীর ক্ষত নারী কেলেঙ্কারী : নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বহিষ্কার

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ৩২ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো চাপের কারণে নয়, বরং দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতার কারণেই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন সংসদ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

রাষ্ট্রপতি তাঁর দাখিল করা পদত্যাগপত্রে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন।

এর আগে তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি চিকিৎসা পরীক্ষায় তাঁর Autonomic Neuropathy রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে তিনি মাঝে মাঝে সাময়িকভাবে অচেতন হয়ে পড়েন।

এসব শারীরিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। মো. সাহাবুদ্দিন ২৪ এপ্রিল ২০২৩ বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এতে আরও বলা হয়, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে সাংবিধানিক ও শাসনতান্ত্রিক সংকট সৃষ্টি হয়। সেই পরিস্থিতিতে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের আওতায় তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করেন। আপিল বিভাগের পরামর্শের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়।

পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল সংসদে নিজ নিজ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে। পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি দাবি করেন, তাঁর সময়োপযোগী ও সাংবিধানিক পদক্ষেপের ফলে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি এবং রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা বজায় ছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন

আপডেট সময় : ০৭:২৫:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো চাপের কারণে নয়, বরং দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতার কারণেই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন সংসদ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

রাষ্ট্রপতি তাঁর দাখিল করা পদত্যাগপত্রে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন।

এর আগে তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি চিকিৎসা পরীক্ষায় তাঁর Autonomic Neuropathy রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে তিনি মাঝে মাঝে সাময়িকভাবে অচেতন হয়ে পড়েন।

এসব শারীরিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। মো. সাহাবুদ্দিন ২৪ এপ্রিল ২০২৩ বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এতে আরও বলা হয়, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে সাংবিধানিক ও শাসনতান্ত্রিক সংকট সৃষ্টি হয়। সেই পরিস্থিতিতে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের আওতায় তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করেন। আপিল বিভাগের পরামর্শের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়।

পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। বর্তমানে সরকারি দল ও বিরোধী দল সংসদে নিজ নিজ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছে। পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি দাবি করেন, তাঁর সময়োপযোগী ও সাংবিধানিক পদক্ষেপের ফলে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি এবং রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা বজায় ছিল।