রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি স্পিকার
- আপডেট সময় : ০১:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যেই ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবে দেশে ফিরেই এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেননি তিনি।
শুক্রবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক থেকে ঢাকায় পৌঁছান স্পিকার। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আপনারা যেরকম শুনেছেন, আমিও সেরকমই শুনেছি।
স্পিকার জানান, তিনি গত ১৯ জুলাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার তার মেডিকেল চেকআপ শেষ হওয়ার পরই দেশে ফিরে এসেছেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমি দেশের বাইরে ছিলাম। এখানে কী হয়েছে, কে পদত্যাগ করল আমার কিছুই জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারব।
একপর্যায়ে একজন সাংবাদিক সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর স্পিকারকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রশ্ন করতে শুরু করলে তিনি তা থামিয়ে দিয়ে বলেন, এটা তো অনুমাননির্ভর প্রশ্ন। উনি কী করবেন বা করবেন না, সেটা আমি জানি না। রাষ্ট্রপতি দেশের প্রথম ব্যক্তি।
তবে তিনি সংবিধানের বিধান তুলে ধরে বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তিনি স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।
স্পিকার বলেন, যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তাহলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করবেন এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। এটাই সাংবিধানিক বিধান।
রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব স্পিকারের ওপর বর্তাবে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তবে মূল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে জাতীয় সংসদ এবং সেটি তিন মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করতে হয়।”
চিকিৎসার জন্য গত ১৯ জুলাই ব্যাংককে যান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা থাকলেও রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জনের মধ্যে তার সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়।
বুধবার প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের আলোচনা শুরু হয়। পরে রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে স্পিকার দেশের বাইরে থাকায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। আর ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
যদিও সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সময় স্পিকারের দেশে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক নয়, তবে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে স্পিকারকে সফর সংক্ষিপ্ত করে দ্রুত দেশে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শুক্রবার বিমানবন্দরে স্পিকারকে স্বাগত জানান সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপ শেষে তিনি সেখান থেকে সরাসরি জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত সরকারি বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় তার গাড়িবহরের সামনে ও পেছনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা যান মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।



















