আগস্টে পরীক্ষামূলক চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, মিলবে ১০ বিশেষ সুবিধা
- আপডেট সময় : ০৯:৩০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘প্রবাসী কার্ড’। প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক ক্ষমতায়ন, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সুবিধা সহজ করা এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবায় অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চামেলী হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ–সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
সভায় জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার প্রবাসীদের জন্যও বিশেষ সুবিধাসংবলিত ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করা হচ্ছে।
প্রবাসী কার্ডধারীরা অন্তত ১০টি বিশেষ সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ, বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সেবা, বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে বিশেষ ছাড় এবং গাড়ি বুকিং সুবিধা। সিগনেচার কার্ডধারীরা এয়ারপোর্ট পিক-অ্যান্ড-ড্রপ সুবিধাও পাবেন।
এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় বিশেষ ছাড়, কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা, পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধা, জমি নিবন্ধন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স প্রদান এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার থাকবে। পাশাপাশি রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং, ঋণ সুবিধা, কার্ডের মাধ্যমে সহজ অর্থ প্রেরণ এবং এনআইডি, পাসপোর্ট, কনস্যুলার ও ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন সরকারি সেবায় অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হবে।
সভায় জানানো হয়, প্রথম পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এই কার্যক্রমের পূর্ণ দায়িত্ব নেবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি প্রবাসী যাতে এই কার্ডের আওতায় আসতে পারেন, সে বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেন।



















