ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুদ্ধ থামিয়ে ইসরায়েলকে গাজা পুনর্গঠনে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র! অভিযোগ অরুণাচলের আদিবাসীদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে চীনা সেনাবাহিনী, দখলে নিয়েছে বিস্তৃত এলাকা বিটাকের প্রশিক্ষণে বিনিয়োগের সুফল বেশি নারীদের শতভাগ কর্মসংস্থান ইতিবাচক শিল্পমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি  টাকার বাজেট পাস ভারতের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না চীন তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী ঋণনির্ভর নয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির পথে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পথ বন্ধ বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার: ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় দুপুরে জাপানিজ রক্ষণের দুর্ভেদ্য দেয়াল ভেঙে ব্রাজিলের জয়ের হাসি নকআউটের আগে আর্জেন্টিনার স্বস্তির খবর

করোনা থেকে দ্রুত উত্তরণে উন্নত বিশ্বের জোরদার ভূমিকা কামনা শেখ হাসিনার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ এপ্রিল ২০২১ ২৮৫ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

করোনা থেকে দ্রুত উত্তরণে উন্নত বিশ্বের জোরদার ভূমিকা প্রথ্যাশা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে উন্নত বিশ্ব ও উন্নয়ন অংশীদারদের এগিয়ে আসার ডাক দেন শেখ হাসিনার।

এলক্ষ্যে তিনি চারটি প্রস্তাবনাও দিয়েছেন। সোমবার জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকেপ) ৭৭তম অধিবেশনে চার দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন শেখ হাসিনা।

এসকেপ-এর তিন দিনব্যাপী ৭৭তম অধিবেশনে সোমবার ‘এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংকট থেকে আরও ভালোভাবে উত্তোরণ’ প্রতিপাদ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রেকর্ড করা এক ভাষণ প্রচার করা হয়।

শেখ হাসিনা তার বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গার টেকসই প্রত্যাবাসনের দিকে মনোনিবেশ এবং যৌথ সমৃদ্ধির জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা প্রস্তাবনা

প্রথমত কোভিড মহামারি থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে উন্নত বিশ্ব, উন্নয়ন অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইএফএস) এগিয়ে আসা উচিত।

দ্বিতীয়ত, উন্নয়ন পদ্ধতি হওয়া উচিত যেকোনও সংকট থেকে আরও ভালোভাবে উত্তরণের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিস্থাপক এবং পরিবেশবান্ধব। শেখ হাসিনা তার তৃতীয় প্রস্তাবে বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উচিত একটি শক্তিশালী ও সর্বজনীন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য দক্ষ নীতি ও কৌশল গ্রহণ করা।
চতুর্থ ও চূড়ান্ত প্রস্তাবে তিনি বলেন, বাণিজ্য, পরিবহন, জ্বালানি ও আইসিটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমাদের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে ১১ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধানের জন্য বিষয়ে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতাকে যৌথ সমৃদ্ধি অর্জনের সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হিসেবে দেখে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সার্ক, বিমসটেক, বিবিআইএন, বিসিআইএম-ইসি এবং ত্রিপক্ষীয় হাইওয়ের মতো উদ্যোগগুলোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছি।

‘সাউথ-সাউথ নেটওয়ার্ক ফর পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন’ অন্যান্য দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহায়তা করে, বাংলাদেশ এসকেপ-এর এশিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্স-এশিয়ান রেলপথের উদ্যোগকে সমর্থন করে

জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এছাড়াও আন্তসীমান্ত কাগজবিহীন বাণিজ্য, এশিয়া-প্যাসিফিক বাণিজ্য চুক্তি, পিপিপি নেটওয়ার্কিং, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং ইউএন-এসকেপের অন্যান্য উদ্যোগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছে। আমরা নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নিয়মিত অভিবাসনের জন্য গ্লোবাল কম্প্যাক্ট অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতিগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রাণঘাতী এই রোগে এরইমধ্যে সারা বিশ্বে ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন মানুষ মারা গেছে এবং প্রতিদিন শতাধিক মানুষ মারা যাচ্ছেন। মহামারি অনেক মানুষকে দরিদ্র করে দিয়েছে এবং অনেককে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত, চাকরি ধরে রাখা এবং অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করতে সরকার এরইমধ্যে প্রায় ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যা দেশের জিডিপির ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ বলেও জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সর্বশেষ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পুনরুদ্ধার এবং দেশকে মসৃণ ও টেকসই এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অর্জনের জন্য প্রস্তুত করা, এসডিজি অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ দেশের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ নির্দেশনা রয়েছে।

আমরা পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে এগিয়ে চলা অব্যাহত রেখেছি। অভিযোজন প্রচেষ্টার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার কর্মসূচিগুলো বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিলের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

করোনা থেকে দ্রুত উত্তরণে উন্নত বিশ্বের জোরদার ভূমিকা কামনা শেখ হাসিনার

আপডেট সময় : ০৪:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ এপ্রিল ২০২১

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

করোনা থেকে দ্রুত উত্তরণে উন্নত বিশ্বের জোরদার ভূমিকা প্রথ্যাশা করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে উন্নত বিশ্ব ও উন্নয়ন অংশীদারদের এগিয়ে আসার ডাক দেন শেখ হাসিনার।

এলক্ষ্যে তিনি চারটি প্রস্তাবনাও দিয়েছেন। সোমবার জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসকেপ) ৭৭তম অধিবেশনে চার দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন শেখ হাসিনা।

এসকেপ-এর তিন দিনব্যাপী ৭৭তম অধিবেশনে সোমবার ‘এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংকট থেকে আরও ভালোভাবে উত্তোরণ’ প্রতিপাদ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রেকর্ড করা এক ভাষণ প্রচার করা হয়।

শেখ হাসিনা তার বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গার টেকসই প্রত্যাবাসনের দিকে মনোনিবেশ এবং যৌথ সমৃদ্ধির জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা প্রস্তাবনা

প্রথমত কোভিড মহামারি থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধারে উন্নত বিশ্ব, উন্নয়ন অংশীদার এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইএফএস) এগিয়ে আসা উচিত।

দ্বিতীয়ত, উন্নয়ন পদ্ধতি হওয়া উচিত যেকোনও সংকট থেকে আরও ভালোভাবে উত্তরণের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিস্থাপক এবং পরিবেশবান্ধব। শেখ হাসিনা তার তৃতীয় প্রস্তাবে বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উচিত একটি শক্তিশালী ও সর্বজনীন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য দক্ষ নীতি ও কৌশল গ্রহণ করা।
চতুর্থ ও চূড়ান্ত প্রস্তাবে তিনি বলেন, বাণিজ্য, পরিবহন, জ্বালানি ও আইসিটি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আমাদের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে ১১ লাখেরও বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধানের জন্য বিষয়ে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতাকে যৌথ সমৃদ্ধি অর্জনের সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হিসেবে দেখে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সার্ক, বিমসটেক, বিবিআইএন, বিসিআইএম-ইসি এবং ত্রিপক্ষীয় হাইওয়ের মতো উদ্যোগগুলোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছি।

‘সাউথ-সাউথ নেটওয়ার্ক ফর পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন’ অন্যান্য দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহায়তা করে, বাংলাদেশ এসকেপ-এর এশিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্স-এশিয়ান রেলপথের উদ্যোগকে সমর্থন করে

জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এছাড়াও আন্তসীমান্ত কাগজবিহীন বাণিজ্য, এশিয়া-প্যাসিফিক বাণিজ্য চুক্তি, পিপিপি নেটওয়ার্কিং, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং ইউএন-এসকেপের অন্যান্য উদ্যোগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছে। আমরা নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং নিয়মিত অভিবাসনের জন্য গ্লোবাল কম্প্যাক্ট অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতিগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রাণঘাতী এই রোগে এরইমধ্যে সারা বিশ্বে ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন মানুষ মারা গেছে এবং প্রতিদিন শতাধিক মানুষ মারা যাচ্ছেন। মহামারি অনেক মানুষকে দরিদ্র করে দিয়েছে এবং অনেককে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত, চাকরি ধরে রাখা এবং অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করতে সরকার এরইমধ্যে প্রায় ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যা দেশের জিডিপির ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ বলেও জানান সরকারপ্রধান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সর্বশেষ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কোভিড-১৯ মহামারি থেকে পুনরুদ্ধার এবং দেশকে মসৃণ ও টেকসই এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অর্জনের জন্য প্রস্তুত করা, এসডিজি অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ দেশের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ নির্দেশনা রয়েছে।

আমরা পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা নিয়ে এগিয়ে চলা অব্যাহত রেখেছি। অভিযোজন প্রচেষ্টার মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার কর্মসূচিগুলো বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিলের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হচ্ছে।