ঢাকা ০৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব: বাহরাইনে পঞ্চম মার্কিন নৌবহর ও জর্ডানে বিমানঘাঁটিতে হামলা দাবি ইরানের   চা-বাগানের সবুজে চা-বাগানের সবুজে ধরা দিল দুর্লভ চিতাবিড়াল ঢলনের চাপে আমচাষি, কেজিভিত্তিক বেচাকেনার সিদ্ধান্তেও মিলছে না সুফল বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ: শিগগিরই জারি হচ্ছে নবম পে-স্কেলের গেজেট পুশইন বিতর্ক, কূটনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ প্রথম বাজেটেই জনগণের আস্থা জয়ের বার্তা নতুন সরকারের ১০০ কোটির প্রথম নায়িকা, বিয়ের পরই রুপালি পর্দা থেকে বিদায়, এখন কোথায় আসিন? টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, ১৫ বছর পর দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু ইসরায়েলকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প: ইরানে হামলা হলে পাশে থাকবে না ওয়াশিংটন ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৫, বাস্তুচ্যুত প্রায় ১০ হাজার পরিবার

উত্তরাঞ্চলে অতিবৃষ্টির শঙ্কা: সিলেট-সুনামগঞ্জে সাময়িক বন্যার পূর্বাভাস

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘ঝুমুল’ সন্ধ্যা থেকে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় হতে যাচ্ছে,  ৭ মে পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করতে পারে

দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায়  শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে অতিবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। এর প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জ-এর নিচু এলাকায় সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয়েছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এর ফলে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ বিভাগ ও সিলেট বিভাগ-এর বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, অতিবৃষ্টির কারণে ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের শহরাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

এদিকে আবহাওয়া নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানান, প্রাক-মৌসুমী শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’ আজ সন্ধ্যা থেকে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় হতে যাচ্ছে, যা আগামী ৭ মে পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

এ সময়ে দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় বজ্রবৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় এবং কোথাও কোথাও অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা শুরু হয়েছে এবং রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও তীব্র হতে পারে। প্রথমদিকে বৃষ্টি মূলত সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও ২৮ বা ২৯ এপ্রিলের পর তা ধীরে ধীরে সারা দেশে বিস্তৃত হতে পারে।

 সিলেট-সুনামগঞ্জে সাময়িক বন্যার পূর্বাভাস
ফাইল ছবি

২৯ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত সময়ে দেশের অধিকাংশ এলাকায় নিয়মিত ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকতে পারে।

উজানের পরিস্থিতি নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। মেঘালয়, আসাম এবং চেরাপুঞ্জি অঞ্চলে এ সময়ে ৫০০ থেকে ৭০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এর ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে এসে বাংলাদেশের সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা কম।

ঝড়ের বিষয়ে তিনি জানান, এ সময়ে দেশের অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, কোথাও কোথাও এর চেয়ে বেশি গতিবেগও দেখা যেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে হাওরাঞ্চলে চলমান বোরো ধান কাটার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত হলে কৃষকরা সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারায় ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে স্বস্তির খবরও রয়েছে। বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির ফলে আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে এবং ২৮ বা ২৯ এপ্রিলের পর আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হয়ে উঠতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪৫ থেকে ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির যে গুজব ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বরং চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনাই বেশি। সূত্র: বাসস

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

উত্তরাঞ্চলে অতিবৃষ্টির শঙ্কা: সিলেট-সুনামগঞ্জে সাময়িক বন্যার পূর্বাভাস

আপডেট সময় : ০৯:২৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

‘ঝুমুল’ সন্ধ্যা থেকে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় হতে যাচ্ছে,  ৭ মে পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করতে পারে

দেশের উত্তরাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায়  শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে অতিবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর। এর প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জ-এর নিচু এলাকায় সাময়িক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয়েছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।

এর ফলে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ বিভাগ ও সিলেট বিভাগ-এর বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, অতিবৃষ্টির কারণে ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের শহরাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

এদিকে আবহাওয়া নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিউর রহমান জানান, প্রাক-মৌসুমী শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় ‘ঝুমুল’ আজ সন্ধ্যা থেকে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় হতে যাচ্ছে, যা আগামী ৭ মে পর্যন্ত প্রভাব বিস্তার করতে পারে।

এ সময়ে দেশের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকায় বজ্রবৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় এবং কোথাও কোথাও অতি ভারি বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা শুরু হয়েছে এবং রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও তীব্র হতে পারে। প্রথমদিকে বৃষ্টি মূলত সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকলেও ২৮ বা ২৯ এপ্রিলের পর তা ধীরে ধীরে সারা দেশে বিস্তৃত হতে পারে।

 সিলেট-সুনামগঞ্জে সাময়িক বন্যার পূর্বাভাস
ফাইল ছবি

২৯ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত সময়ে দেশের অধিকাংশ এলাকায় নিয়মিত ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকতে পারে।

উজানের পরিস্থিতি নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি। মেঘালয়, আসাম এবং চেরাপুঞ্জি অঞ্চলে এ সময়ে ৫০০ থেকে ৭০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এর ফলে পাহাড়ি ঢল নেমে এসে বাংলাদেশের সিলেট ও সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তবে পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা কম।

ঝড়ের বিষয়ে তিনি জানান, এ সময়ে দেশের অধিকাংশ এলাকায় দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে, কোথাও কোথাও এর চেয়ে বেশি গতিবেগও দেখা যেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে হাওরাঞ্চলে চলমান বোরো ধান কাটার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত হলে কৃষকরা সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারায় ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে স্বস্তির খবরও রয়েছে। বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির ফলে আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে এবং ২৮ বা ২৯ এপ্রিলের পর আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক হয়ে উঠতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪৫ থেকে ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির যে গুজব ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বরং চলমান বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনাই বেশি। সূত্র: বাসস