ঢাকা ০৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমঝোতা না হলে ইরানে আবারও হামলার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের দেশ গঠনে নাগরিক দায়িত্ব আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ঈদের টানা সাতদিনের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস-আদালত ঢাকায় পশু কোরবানি ৭লাখ: সাভার ট্যানারী পল্লীতে চামড়া  ঢুকেছে সোয়া ৫ লাখ প্রথম ফিরতি ফ্লাইটে  ৪১৯ জন হজযাত্রী ঢাকায় পৌঁছেছেন চামড়া: অর্থনীতিতে আয়ের উৎস, সেই মূল্যবান সম্পদের এমন অর্থহীন পরিণতি! সড়ক নয়, যেন মৃত্যুর উপত্যকা! লোবানের গন্ধে ফিকে ঈদের আনন্দ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে  উল্লেখযোগ্য পতন, কেন? ঈদুল আজহায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণকে নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা দেশজুড়ে উৎসবের আমেজে উদযাপিত পবিত্র ঈদুল আজহা

পাহাড়ে বৈসুর প্রস্তুতি: গরাইয়া নাচে মাতোয়ারা ত্রিপুরাপাড়া

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৫০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৬২ বার পড়া হয়েছে

গরাইয়া নাচে মাতোয়ারা ত্রিপুরাপাড়া:ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
পাহাড়ে বৈসুর প্রস্তুতি ঘিরে দল বেঁধে বাদ্যযন্ত্র হাতে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছেন একদল তরুণ-তরুণী। কোনো গৃহস্থের বাড়ির উঠান একটু বড় হলেই থামছেন তারা। এরপর গোল হয়ে শুরু করছেন সুসজ্জিত গরাইয়া নাচ। ঢোল আর বাঁশির সুর শব্দ দূর থেকেই ভেসে আসে।  

যেকোনো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আগে ত্রিপুরা সমাজে গরাইয়া নাচের প্রচলন রয়েছে। একসময় যুদ্ধযাত্রার আগেও এ নাচ হতো। এখন বর্ষবিদায় ও বরণের আগেও মঙ্গল কামনার উদ্দেশ্যে  এই নাচ করা হয়। নাচের শেষ দিনে গরাইয়া দলের সদস্যরা গরাইয়া দেবতার উদ্দেশ্যে পূজা অর্চনা করেন। এতে তাঁরা সবার মঙ্গল কামনা করেন।

খাগড়াছড়ি শহরের ভাইবোনছড়া দীঘিনালা, গুইমারা ও খাগড়াপুর এলাকায় ‘বৈসু’ উৎসবকে সামনে রেখে দেখা যাচ্ছে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের এই দলগুলোকে। বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায়কে কেন্দ্র করে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের উৎসবের নাম বৈসু।

এই উৎসব শুরুর সপ্তাহখানেক আগে থেকে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের গ্রামগুলোতে শুরু হয় গরাইয়া নাচ। ত্রিপুরাদের বিশ্বাস, নাচের মধ্য দিয়ে গরাইয়া দেব তুষ্ট হন। এতে পরিবার, এলাকাবাসী ও সমাজের সুখ-সমৃদ্ধি অটুট থাকে।

উৎসবের আমেজ দেখা যায় পোশাকেও। গরাইয়া নাচে ত্রিপুরা পুরুষেরা পরেন সাদা ধুতি। এর সঙ্গে থাকে সাদা, নীল অথবা হলুদ রঙের জামা। দলটির পুরুষ দলের সদস্যদের কোমর, মাথা ও হাতে জড়ানো থাকে ‘রিসা’ নামে লম্বা ঝুলের কাপড়। নারীরাও পরেন তাঁদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক।

ছবি সংগ্রহ
ঢোল আর বাঁশির সুরে গরাইয়া নাচ করেন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নারী ও পুরুষেরা খাগড়াছড়ি শহরের টাউন হল এলাকা: ছবি সংগ্রহ

খাগড়াছড়ির ধীনা ডান্স একাডেমির পরিচালক ধীনা ত্রিপুরা বলেন, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, গরাইয়া নাচের মাধ্যমে তুষ্ট হন গরাইয়া দেবতা। তার আশীর্বাদে পরিবার, সমাজ ও পুরো এলাকার সুখ-সমৃদ্ধি বজায় থাকে। তাই এই নাচ কেবল বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এ নাচ বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার  প্রকাশ।

ভাইবোন এলাকা থেকে নাচ করতে শহরের টাউন হলের সামনে আসা ওঝা বা দল নেতা অনন্ত ত্রিপুরা বলেন, গরাইয়া নাচে অংশগ্রহণকারীদের ‘খেয়েবাই’ বলা হয়। একজন আচাই বা ওঝা এবং একজন দেওয়াই (দল নেতা) এই নাচ পরিচালনা করেন।

গরাইয়া নাচে রয়েছে ২২টি তাল ও মুদ্রা। এই ২২ মুদ্রায় মানবজীবনের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব ক্রিয়াকলাপ প্রদর্শিত হয়ে থাকে। এই নাচে কেউ একবার অংশ নিলে তাঁকে পরপর তিনবার অংশ নিতে হয়। কেউ যদি কোনো কারণে অংশ নিতে না পারেন, তবে গরাইয়া দেবের কাছে ক্ষমা চাইতে হয়।

গৃহস্থের উঠানে ২২টি মুদ্রার এ নাচ পরিবেশনের পর শুরু হয় বাড়ির কর্তা ও নারীদের নানা আবদার। কখনো দেখা যায় প্রেম-বিরহের দৃশ্য, কখনো স্বামী-স্ত্রীর খুনসুটি বা ঝগড়ার চিত্র। পরিবেশনা শেষে গরাইয়া দলকে পানীয়, টাকা, চাল ও নানা ফলমূল দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পাহাড়ে বৈসুর প্রস্তুতি: গরাইয়া নাচে মাতোয়ারা ত্রিপুরাপাড়া

আপডেট সময় : ০৩:৫০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
পাহাড়ে বৈসুর প্রস্তুতি ঘিরে দল বেঁধে বাদ্যযন্ত্র হাতে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরছেন একদল তরুণ-তরুণী। কোনো গৃহস্থের বাড়ির উঠান একটু বড় হলেই থামছেন তারা। এরপর গোল হয়ে শুরু করছেন সুসজ্জিত গরাইয়া নাচ। ঢোল আর বাঁশির সুর শব্দ দূর থেকেই ভেসে আসে।  

যেকোনো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের আগে ত্রিপুরা সমাজে গরাইয়া নাচের প্রচলন রয়েছে। একসময় যুদ্ধযাত্রার আগেও এ নাচ হতো। এখন বর্ষবিদায় ও বরণের আগেও মঙ্গল কামনার উদ্দেশ্যে  এই নাচ করা হয়। নাচের শেষ দিনে গরাইয়া দলের সদস্যরা গরাইয়া দেবতার উদ্দেশ্যে পূজা অর্চনা করেন। এতে তাঁরা সবার মঙ্গল কামনা করেন।

খাগড়াছড়ি শহরের ভাইবোনছড়া দীঘিনালা, গুইমারা ও খাগড়াপুর এলাকায় ‘বৈসু’ উৎসবকে সামনে রেখে দেখা যাচ্ছে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের এই দলগুলোকে। বর্ষবরণ ও বর্ষবিদায়কে কেন্দ্র করে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের উৎসবের নাম বৈসু।

এই উৎসব শুরুর সপ্তাহখানেক আগে থেকে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের গ্রামগুলোতে শুরু হয় গরাইয়া নাচ। ত্রিপুরাদের বিশ্বাস, নাচের মধ্য দিয়ে গরাইয়া দেব তুষ্ট হন। এতে পরিবার, এলাকাবাসী ও সমাজের সুখ-সমৃদ্ধি অটুট থাকে।

উৎসবের আমেজ দেখা যায় পোশাকেও। গরাইয়া নাচে ত্রিপুরা পুরুষেরা পরেন সাদা ধুতি। এর সঙ্গে থাকে সাদা, নীল অথবা হলুদ রঙের জামা। দলটির পুরুষ দলের সদস্যদের কোমর, মাথা ও হাতে জড়ানো থাকে ‘রিসা’ নামে লম্বা ঝুলের কাপড়। নারীরাও পরেন তাঁদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক।

ছবি সংগ্রহ
ঢোল আর বাঁশির সুরে গরাইয়া নাচ করেন ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নারী ও পুরুষেরা খাগড়াছড়ি শহরের টাউন হল এলাকা: ছবি সংগ্রহ

খাগড়াছড়ির ধীনা ডান্স একাডেমির পরিচালক ধীনা ত্রিপুরা বলেন, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, গরাইয়া নাচের মাধ্যমে তুষ্ট হন গরাইয়া দেবতা। তার আশীর্বাদে পরিবার, সমাজ ও পুরো এলাকার সুখ-সমৃদ্ধি বজায় থাকে। তাই এই নাচ কেবল বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এ নাচ বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার  প্রকাশ।

ভাইবোন এলাকা থেকে নাচ করতে শহরের টাউন হলের সামনে আসা ওঝা বা দল নেতা অনন্ত ত্রিপুরা বলেন, গরাইয়া নাচে অংশগ্রহণকারীদের ‘খেয়েবাই’ বলা হয়। একজন আচাই বা ওঝা এবং একজন দেওয়াই (দল নেতা) এই নাচ পরিচালনা করেন।

গরাইয়া নাচে রয়েছে ২২টি তাল ও মুদ্রা। এই ২২ মুদ্রায় মানবজীবনের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব ক্রিয়াকলাপ প্রদর্শিত হয়ে থাকে। এই নাচে কেউ একবার অংশ নিলে তাঁকে পরপর তিনবার অংশ নিতে হয়। কেউ যদি কোনো কারণে অংশ নিতে না পারেন, তবে গরাইয়া দেবের কাছে ক্ষমা চাইতে হয়।

গৃহস্থের উঠানে ২২টি মুদ্রার এ নাচ পরিবেশনের পর শুরু হয় বাড়ির কর্তা ও নারীদের নানা আবদার। কখনো দেখা যায় প্রেম-বিরহের দৃশ্য, কখনো স্বামী-স্ত্রীর খুনসুটি বা ঝগড়ার চিত্র। পরিবেশনা শেষে গরাইয়া দলকে পানীয়, টাকা, চাল ও নানা ফলমূল দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।