জব্বারের বলীখেলায় ইতিহাস: হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ
- আপডেট সময় : ০৯:৪৬:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসরে নতুন ইতিহাস গড়েছেন কুমিল্লার বলী মো. শরীফ, যিনি ‘বাঘা শরীফ’ নামেই বেশি পরিচিত। টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে তিনি হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়নের গৌরব অর্জন করেছেন
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলা-এর ১১৭তম আসরে নতুন ইতিহাস গড়লেন কুমিল্লার বলী মো. শরীফ, যিনি ‘বাঘা শরীফ’ নামেই পরিচিত। টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে তিনি হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে লালদীঘি ময়দান-এ অনুষ্ঠিত ফাইনালে তিনি একই জেলার প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদ বলীকে পরাজিত করে আবারও সেরার মুকুট মাথায় তোলেন। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালেও এই দুই বলী ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন, আর দুইবারই বিজয়ী ছিলেন শরীফ।
২৪ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াই
ফাইনাল ম্যাচের শুরু থেকেই দুই বলীর মধ্যে ছিল তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা লড়াই প্রায় ২৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ড ধরে চলে। শক্তি, কৌশল ও ধৈর্যের কঠিন পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত রাশেদকে মাটিতে ফেলতে সক্ষম হন ‘বাঘা’ শরীফ।
মুহূর্তেই লালদীঘি মাঠজুড়ে বেজে ওঠে উল্লাস। ঢোলের তালে তালে দর্শকদের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। হাজারো দর্শকের সামনে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করেন এই কৃতি বলী।
সেমিফাইনাল পেরিয়ে ফাইনালে উত্তরণ
প্রথম সেমিফাইনালে মিঠুকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেন রাশেদ। অন্যদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ‘বাঘা’ শরীফের মুখোমুখি হন শাহ জালাল। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে শরীফকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলে আবারও ফাইনালে মুখোমুখি হন শরীফ ও রাশেদ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জয় পান মিঠু।

উৎসবমুখর লালদীঘি
বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। বেলুন উড়িয়ে তিনি এবারের আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করেন।
দুপুর থেকেই লালদীঘি মাঠ ও আশপাশের এলাকা দর্শকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে নানা বয়সী মানুষ এই ঐতিহ্যবাহী খেলা উপভোগ করতে ভিড় করেন।
বৈশাখী মেলায় জনসমাগম
বলীখেলাকে কেন্দ্র করে মাঠসংলগ্ন এলাকায় বসা দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলাও ছিল জমজমাট। খাবার, খেলনা, মাটির তৈরি সামগ্রী ও গ্রামীণ পণ্যের দোকানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রাণ ফিরে পায় পুরো এলাকা।
১১৭ বছরের ঐতিহ্য
১৯০৯ সালে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে এই বলীখেলার সূচনা করেন। সময়ের ধারাবাহিকতায় এটি এখন চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান লোকঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
এবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১০০-এর বেশি বলী অংশ নেন এই প্রতিযোগিতায়। তবে সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ হাসি হাসেন কুমিল্লার ‘বাঘা’ শরীফ।



















