ঢাকা ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বেইজিং থেকে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুমের শিকার পরিবারের ভাতা বরাদ্দ এই বাজেটেই প্রতিশ্রুতি মির্জা ফখরুলের হামে মৃত্যু ৭০০ ছাড়াল, বাড়ছে উদ্বেগ তিস্তা প্রকল্প বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস চীনের: মাহদী আমিন বাংলা কিউআর চালু হলে বদলে যাবে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প ধ্বংসস্তূপে চাপা শত শত প্রাণ, উদ্ধার ২৩৫ মরদেহ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক তিয়েনআনমেন চীনের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর চীনের সঙ্গে গভীরতর শিল্প অংশীদারত্বে আগ্রহী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

দেশজুড়ে কালবৈশাখীর দাপট: স্বস্তির বৃষ্টি, সঙ্গে ভোগান্তি ও সতর্কতা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ৮০ বার পড়া হয়েছে

নগরীর জলাবদ্ধতা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রচণ্ড গরম আর দাবদাহের মধ্যে বৈশাখের আগমন ঘটলেও, এর কিছুদিন পর থেকেই দেশের আবহাওয়ায় নাটকীয় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) প্রথম কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানার পর থেকেই প্রকৃতি যেন নতুন রূপে ধরা দিয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দেশজুড়ে ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত এবং ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এরই মধ্যে বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।

বুধবার রাত থেকেই ঢাকার আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। ভোর হতেই শুরু হয় টানা বৃষ্টি, যা কিছুক্ষণের মধ্যেই রূপ নেয় ভারী বর্ষণে। এতে করে রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটে।

যদিও তীব্র গরমের পর এই বৃষ্টি নগরবাসীর জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে, তবে কর্মজীবী মানুষের জন্য তা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্ভোগের কারণ। অফিসগামী, শিক্ষার্থী এবং দিনমজুরদের অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হন।

শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। ফলে ঢাকার পরিচিত যানজট পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ যানজট দেখা যায়, যা মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে তোলে।

দেশজুড়ে কালবৈশাখীর দাপট: স্বস্তির বৃষ্টি, সঙ্গে ভোগান্তি ও সতর্কতা
ফাইল ছবি

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সকাল ৯টার মধ্যে ঢাকাসহ দেশের অন্তত ১৭টি অঞ্চলে দমকা হাওয়া বজ্রসহ ঝড় বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়াবিদ আবদুল হামিদ জানিয়েছেন, উত্তর বঙ্গোপসাগর এর আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের ফলে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ তৈরি হচ্ছে।

এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

বিশেষ করে যেসব এলাকায় ভারী বর্ষণ হচ্ছে, সেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগজনক। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

বুধবার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় বেশ কম। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ অথবা দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে, যা ঝড়ের তীব্রতা বাড়াতে পারে।

দেশজুড়ে কালবৈশাখীর দাপট: স্বস্তির বৃষ্টি, সঙ্গে ভোগান্তি ও সতর্কতা
বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে গেছে। রাজধানীর আরামবাগ এলাকায়

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগের সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন বিভাগে আগামী ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এই অবস্থায় সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, কালবৈশাখীর এই তীব্রতা একদিকে যেমন তাপদাহ থেকে স্বস্তি দিচ্ছে, অন্যদিকে জনজীবনে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজন যথাযথ প্রস্তুতি এবং সচেতনতা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দেশজুড়ে কালবৈশাখীর দাপট: স্বস্তির বৃষ্টি, সঙ্গে ভোগান্তি ও সতর্কতা

আপডেট সময় : ০১:৪৩:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

প্রচণ্ড গরম আর দাবদাহের মধ্যে বৈশাখের আগমন ঘটলেও, এর কিছুদিন পর থেকেই দেশের আবহাওয়ায় নাটকীয় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) প্রথম কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানার পর থেকেই প্রকৃতি যেন নতুন রূপে ধরা দিয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দেশজুড়ে ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত এবং ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এরই মধ্যে বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরে নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।

বুধবার রাত থেকেই ঢাকার আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। ভোর হতেই শুরু হয় টানা বৃষ্টি, যা কিছুক্ষণের মধ্যেই রূপ নেয় ভারী বর্ষণে। এতে করে রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটে।

যদিও তীব্র গরমের পর এই বৃষ্টি নগরবাসীর জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে, তবে কর্মজীবী মানুষের জন্য তা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্ভোগের কারণ। অফিসগামী, শিক্ষার্থী এবং দিনমজুরদের অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হন।

শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। ফলে ঢাকার পরিচিত যানজট পরিস্থিতি আরও প্রকট হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ যানজট দেখা যায়, যা মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে তোলে।

দেশজুড়ে কালবৈশাখীর দাপট: স্বস্তির বৃষ্টি, সঙ্গে ভোগান্তি ও সতর্কতা
ফাইল ছবি

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সকাল ৯টার মধ্যে ঢাকাসহ দেশের অন্তত ১৭টি অঞ্চলে দমকা হাওয়া বজ্রসহ ঝড় বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়াবিদ আবদুল হামিদ জানিয়েছেন, উত্তর বঙ্গোপসাগর এর আশপাশের এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের ফলে সমুদ্র উত্তাল রয়েছে এবং দেশের অভ্যন্তরে বজ্রমেঘ তৈরি হচ্ছে।

এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

বিশেষ করে যেসব এলাকায় ভারী বর্ষণ হচ্ছে, সেখানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগজনক। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই পরিস্থিতি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

বুধবার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় বেশ কম। পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ অথবা দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে, যা ঝড়ের তীব্রতা বাড়াতে পারে।

দেশজুড়ে কালবৈশাখীর দাপট: স্বস্তির বৃষ্টি, সঙ্গে ভোগান্তি ও সতর্কতা
বৃষ্টিতে সড়কে পানি জমে গেছে। রাজধানীর আরামবাগ এলাকায়

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আগের সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন বিভাগে আগামী ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এই অবস্থায় সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, কালবৈশাখীর এই তীব্রতা একদিকে যেমন তাপদাহ থেকে স্বস্তি দিচ্ছে, অন্যদিকে জনজীবনে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজন যথাযথ প্রস্তুতি এবং সচেতনতা।