এক বছরে ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি
- আপডেট সময় : ১১:৩৫:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে। এ সময়ে অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম, তেল ও লুব্রিকেন্ট (পিওএল) আমদানিতে বাংলাদেশকে ব্যয় করতে হয়েছে ১ হাজার ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ ব্যয় বেড়েছে ১০৭ শতাংশের বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পণ্য আমদানি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একই খাতে ব্যয় হয়েছিল ৫১৩ কোটি ৭৯ লাখ বা ৫.১৪ বিলিয়ন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা হিসাবে গত অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা।
এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানিতে ৮৯৮ কোটি ৫০ লাখ বা ৮.৯৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল, যা এতদিন সর্বোচ্চ ছিল। ওই সময়ে করোনার ধাক্কা কাটিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি ও শিল্পকারখানা সচল হওয়ায় জ্বালানির চাহিদা ও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্রুত বেড়ে যায়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরও তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। ওই বছরের মার্চে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩৯ ডলারের বেশি উঠেছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট পণ্য আমদানি ব্যয় ছিল ৭৫.২৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে জ্বালানি তেলেই ব্যয় হয়েছে মোট আমদানি ব্যয়ের ১৪.১৩ শতাংশ।
গত অর্থবছরে অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম আমদানিতে ব্যয় ৯২ শতাংশ বেড়ে ১১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর পিওএল আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ১০৯.১০ শতাংশ। এ খাতে ব্যয় হয়েছে ৯৪৩ কোটি ৬০ লাখ বা ৯.৪৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অপরিশোধিত তেলে ব্যয় হয়েছিল ৬২ কোটি ৪৫ লাখ ডলার এবং পিওএলে ৪.৫১ বিলিয়ন ডলার।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম তামিম বলেন, মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দেশে চাহিদা বাড়ার কারণে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। বিশ্ববাজারে দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় আগামী মাসগুলোতে ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি নিতে দীর্ঘ লাইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আতঙ্কের কারণে অতিরিক্ত মজুতের প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ করে অন্তত দেড় মাসের জ্বালানি মজুত রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, দেশে প্রতিবছর জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে দাম বাড়ায় গত অর্থবছরে আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পরিমাণের দিক থেকেও জ্বালানি আমদানি বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টন জ্বালানি আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৫০ লাখ ৫ হাজার টন। আমদানির মধ্যে ছিল ডিজেল, অপরিশোধিত তেল, ফার্নেস তেল, পেট্রোল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও বেস অয়েল।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা ছিল ৭৪ লাখ টন। এর আগের অর্থবছরে মোট আমদানি হয়েছিল ৬২ লাখ ১৫ হাজার টন, যার ২৪ শতাংশ ছিল অপরিশোধিত তেল এবং ৭৬ শতাংশ পরিশোধিত তেল।
বর্তমানে ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জুনে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রেখে অন্য তিন জ্বালানির দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ানো হয়। জুলাই ও আগস্টেও এসব দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।



















