ঢাকা ১০:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী আয়ুর্বেদে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ  গবেষণা কেন্দ্র গঠনের প্রস্তাব এখনও ডিজেলে লোকসান লিটারে ৭০ টাকা : রিজভী জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যে তেমন প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: মৎস্যমন্ত্রী বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় ভারতকে পণ্য আমদানি বাড়ানোর তাগিদ জাতিসংঘে জিয়া পরিবার বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরের চার দশকের পথচলা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি   কিলোমিটার প্রতি বাসভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ, এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা

সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

বাসস
  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জনগণকে ক্ষমতার কেন্দ্রে রেখেই গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে চায় তাঁর সরকার।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বাংলায় দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বশান্তি, বহুপক্ষীয়তা, জলবায়ু ন্যায়বিচার, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, প্রযুক্তির বৈষম্য দূরীকরণ, এলডিসি উত্তরণ এবং নিরাপদ অভিবাসনসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে ক্ষমতাহীন রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না।’ জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদে, নিশ্চিন্তে এবং সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন। তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে অংশীদারিত্ব, উদ্ভাবন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।

জনগণই রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার কথা তুলে ধরে বলেন, জনগণই সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে উন্নয়নের অপরিহার্য ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে তাঁর সরকার।

দেশকে পুনর্গঠনের প্রসঙ্গে তিনি সরকারের ‘থ্রি-আর’ কৌশল-রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন-এর কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, দীর্ঘ সময়ের সংকট ও ক্ষত কাটিয়ে বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের পাশাপাশি অর্থনীতি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর কাজ চলছে।

অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির সুফল যেন দেশের প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যেই সরকারের নীতি ও কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, স্টার্টআপ খাতকে এগিয়ে নিতে চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব

দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিকে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অগ্রভাগে রাখা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনাবেতনে শিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করার কথা জানান তিনি।

অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, পরিবারের নারী প্রধানের নামে দেওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক। বিভিন্ন খাতের এসব কার্ডকে সমন্বিত করে ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ

শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খেলাধুলাকে সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারই শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে জিডিপির বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।

কর্মমুখী ও বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নের কথা উল্লেখ করেন তিনি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাগ, স্কুল ইউনিফর্ম এবং বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়ার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে শিক্ষা সিলেবাসে ‘স্পোর্টস’কে বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত জুনে সারাদেশে আয়োজিত মাসব্যাপী ফুটবল টুর্নামেন্টে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্য

শহর ও গ্রামের উন্নয়ন বৈষম্য কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জনগণের কাছে দেওয়া ৩১ দফা কর্মসূচির সঙ্গে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ‘লিভ নো ওয়ান বিহাইন্ড’ নীতির ৭৩ শতাংশ কার্যক্রমের সরাসরি এবং ২৭ শতাংশের পরোক্ষ মিল রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রযুক্তির বৈষম্য দূর করার আহ্বান

বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বায়োটেকনোলজি ও বিজ্ঞানের নতুন যুগে প্রবেশ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির সুফল এখনো বিশ্বের সব মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছায়নি।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক।’

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকাশ যাতে মানবকল্যাণে ইতিবাচকভাবে ব্যবহৃত হয়, সে জন্য জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহায়তা

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের অপেক্ষায় রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ উত্তরণকে টেকসই করতে সুনিশ্চিত অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক বাজারে অধিকতর প্রবেশাধিকার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

আঞ্চলিক বাণিজ্য, যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় কোনো দেশ একা এগিয়ে যেতে পারে না। কোভিড-১৯ মহামারির অভিজ্ঞতা বিশ্বকে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও নির্ভরতার গুরুত্ব নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে টিকা, চিকিৎসাসামগ্রী ও রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জামের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করার আহ্বানও জানান তিনি।

শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবিক বিশ্বের প্রত্যাশা

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা ও অর্থনৈতিক চাপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাতের সমাধান হতে হবে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে।

বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং একে অপরের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার প্রতি সম্মানকে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি। শান্তিপূর্ণ ও সমঝোতামূলক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘকে আরও কার্যকর কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনের আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।

পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন জানান।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই

রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় মানবিক ও নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত।’ নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনকেই সংকটের মূল সমাধান হিসেবে তুলে ধরে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও দৃঢ় ও কার্যকর ভূমিকা কামনা করেন। প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান তিনি।

জলবায়ু ন্যায়বিচারের দাবি

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দেশটিকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনে জলবায়ু ন্যায়বিচার, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তায় আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, পরিচ্ছন্ন ও সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং বন্যা ও খরা মোকাবিলায় সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ ও মিঠা পানির প্রবাহ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

নিরাপদ অভিবাসন ও শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা

নিয়মিত, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসনের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা মানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি নারীদের অংশগ্রহণ ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য—‘রিস্টোরিং ট্রাস্ট, ম্যানেজিং ট্রান্সফরমেশন: অ্যা ইউনাইটেড নেশনস দ্যাট ডেলিভারস ফর অল’—এর সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থানের সামঞ্জস্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ বহুপক্ষীয়তার নীতিতে অটল। পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা, ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তিতে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’

ভাষণের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তরুণরা যাতে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পায়, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারে এবং প্রতিটি শিশু যাতে তার সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পায়—এমন একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও স্থিতিশীলতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

সবশেষে ‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের অটুট সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রথম ভাষণটি সম্পূর্ণ বাংলায় দেওয়া হয়। বাসসের প্রতিবেদনে এটিকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পৃক্ততার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :