দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ, এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে
- আপডেট সময় : ০৭:৪৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় সংসদ ভবনের বিপরীতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়েছেন আদালত।
রবিবার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ১৯ বছর বয়সী মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে সোমবার আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার বিভিন্ন দিক তদন্তে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড বাতিল করে তাঁদের জামিনের আবেদন নাকচ করে হয়।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মরিয়মকে ঘিরে গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত জুলাইয়ে। ২০ জুলাই রাতে গাজী নজরুল ও মরিয়মের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
পরদিন ২১ জুলাই গাজী নজরুল ওই তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক তদন্তের কথা জানিয়ে গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। পরদিন ২৩ জুলাই তাঁর বহিষ্কারের বিষয়টি স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় দলটি।
ফলে ২০ থেকে ২৩ জুলাই এই কয়েক দিনে গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত জীবন, দ্বিতীয় বিয়ে এবং দলীয় বহিষ্কারের বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রায় দুই মাস পর ন্যাম ভবন থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সেই পুরোনো বিতর্ক আবার সামনে এসেছে।
এখন তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, তাঁর সঙ্গে গাজী নজরুল ও মাকছুদার সম্পর্ক, মৃত্যুর আগে কোনো ধরনের চাপ বা প্ররোচনা দেওয়া হয়েছিল কি না এবং ঘটনার সময় বাসায় কারা উপস্থিত ছিলেন, এসব বিষয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।


















