এখনও ডিজেলে লোকসান লিটারে ৭০ টাকা : রিজভী
- আপডেট সময় : ০৬:২৬:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এক লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের প্রায় ২০৫ টাকা ব্যয় হলেও দীর্ঘদিন দেশে তা ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। ফলে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হয়েছে। সম্প্রতি ২০ টাকা দাম সমন্বয়ের পরও সেই ঘাটতি পুরোপুরি কাটেনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিভিন্ন দেশের দামের তুলনা
রিজভী বলেন, নেপালে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৬১ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা এবং ফিলিপাইনে ১৮৮ টাকা ৫০ পয়সা। ভারতেও প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকার বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ডিজেলের দাম তুলনামূলক কম রাখা হয়েছিল।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ১১৫ টাকা দরে ডিজেল বিক্রি করা হয়েছে। এখন লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ানো হলেও সরকারের লোকসান পুরোপুরি দূর হয়নি।
দাম ওঠানামা অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবাহ
জ্বালানি তেলের দাম বাড়া-কমার অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যাখ্যা করে রিজভী বলেন, কোনো একটি পণ্যের দাম বাড়লে অর্থনীতির অন্য খাতেও তার প্রভাব পড়ে। আবার কোনো পণ্যের দাম কমলে তার প্রভাবও অন্যদিকে প্রবাহিত হয়। তাঁর ভাষায়, দাম ওঠানামা অর্থনীতির একটি স্বাভাবিক প্রবাহের অংশ।
নাশকতার অভিযোগ, কর্মসূচির আহ্বান
আলোচনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বাস ও ট্রেনে আগুন এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি দাবি করেন, মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন এবং হাইকোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ দাবির স্বাধীন যাচাই সভায় উপস্থাপিত হয়নি।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা কর্মসূচি পালন করছেন, তাদের এসব ঘটনার বিরুদ্ধেও কর্মসূচি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি পরিকল্পিত সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করার কথাও বলেন।
রাজনৈতিক নীতি-নৈতিকতা নিয়ে বক্তব্য
রিজভী তাঁর বক্তব্যে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা ও রাজনৈতিক নীতি-নৈতিকতার বিষয়েও সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্দোলনে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রত্যাশিত ভূমিকা দেখা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, ইসলামের নামে রাজনীতি করলে সেই রাজনীতিতে নীতি-নৈতিকতার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘মুনাফেক’ শব্দটি ব্যবহার করে রাজনৈতিক আচরণ ও জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতির সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নীতি, নৈতিকতা ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান এবং মুখপাত্র এস এম শাহাদাতসহ অন্যরা।
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের পর ডিজেলে লোকসান অব্যাহত থাকার বিষয়ে সাম্প্রতিক আরেক প্রতিবেদনে প্রতি লিটারে প্রায় ৬০–৬৫ টাকা লোকসানের হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে; একই সঙ্গে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রায় ৭০ টাকা পর্যন্ত লোকসানের কথাও এসেছে। ফলে রিজভীর ৭০ টাকার হিসাবটি তাঁর বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করাই যথাযথ।



















