ঢাকাকে ‘ক্লিন–গ্রিন’ নগরী গড়তে সরকারের বহুমাত্রিক পরিকল্পনা
- আপডেট সময় : ০১:৫৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকারের বহুমাত্রিক পরিকল্পনার কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে সকাল ১১টায় অধিবেশন শুরু হয়। কার্যসূচি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী লিখিত জবাব দেওয়ার পাশাপাশি সম্পূরক প্রশ্নের তাৎক্ষণিক উত্তর দেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকাকে ‘ক্লিন’ ও ‘গ্রিন’ নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সড়কের মিডিয়ান, সড়কদ্বীপ এবং উন্মুক্ত স্থানগুলোতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি কোরিয়াভিত্তিক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদনকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে ‘জিরো ওয়েস্ট’ ধারণা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ‘মিয়াওয়াকি ফরেস্ট’ পদ্ধতিতে নগর বনায়ন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গাগুলো সবুজায়নের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণেও নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে বায়ুদূষণ কমাতে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন, নির্মাণকাজ এবং ধুলাবালিজনিত দূষণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে।
ঢাকার আশপাশে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে সেখানে ইটভাটা পরিচালনা এবং খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে নদী, খাল ও জলাশয়ের দূষণ রোধে তরল বর্জ্য নির্গমনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বর্জ্য জল পরিশোধন প্ল্যান্ট (ইটিপি) (Effluent Treatment Plant) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৪৮টি ইটিপি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে এবং এগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকার ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলো পুনরুদ্ধারে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীতেও ব্যাপক সবুজায়ন কার্যক্রম চালানো হবে।
সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী ঢাকামুখী মানুষের চাপ কমানোর বিষয়েও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অধিকাংশ সুযোগ-সুবিধা ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় মানুষ এখানে আসতে বাধ্য হচ্ছে।
এ সমস্যা সমাধানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্পাঞ্চল, উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ঢাকার ওপর চাপ কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ময়মনসিংহ অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শহরের পরিধি বাড়ছে। ফলে বাইপাস সড়ক নির্মাণের পরও নতুন করে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত নগর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে, সরকারের এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ধীরে ধীরে ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা সম্ভব হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।



















