ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নৃশংস ৭ বছরের শিশুর হাত চেপে ধরেন স্ত্রী আঙ্গুল কাটেন পুলিশ  কনস্টেবল জাতিসংঘ সফর শেষে সচিবালয়ে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, শুরু দাপ্তরিক কার্যক্রম জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে: রাষ্ট্রদূত ১৮ দেশের বাজারকেন্দ্রিক রপ্তানি কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সরকারের সমালোচনা এনসিপি আহ্বায়কের কাগজে নদীর সংখ্যা বাড়ছে নদী রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় সংকট সাশ্রয়ী আবাসন অর্থায়নে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় সাবান-মদ জব্দ বিজিবির গরু আটক নিয়ে চাঞ্চল্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সমাধান কেবল কূটনীতিতেই: ইরান

জুলাইযোদ্ধা : আবু সাঈদ ভেবেছিলেন সামনে মানুষ, কিন্তু তারা অমানুষ হয়ে গিয়েছিল

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:২৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬ ২৫৮ বার পড়া হয়েছে

আবু সাঈদ ভেবেছিলেন সামনে মানুষ, কিন্তু তারা অমানুষ হয়ে গিয়েছিল: ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাইযোদ্ধা আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড কেবল একটি ব্যক্তি হত্যার ঘটনা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিয়োজিত কিছু মানুষের নির্মমতা, নৈতিক অধঃপতন এবং মানবিকতার চূড়ান্ত বিপর্যয়ের এক জ্বলন্ত দলিল। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তরুণ শিক্ষার্থী যেভাবে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তা ছিল সাহস, বিশ্বাস ও মানবিকতার এক অনন্য প্রতীক। তিনি ভেবেছিলেন, সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোও মানুষ, তাদের বিবেক আছে, তারা অন্যায় করবে না।

কিন্তু ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতা তাকে ভুল প্রমাণ করেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, ‘অমানুষ’ তা কোনো আবেগপ্রসূত মন্তব্য নয়,  বরং এটি ঘটনার গভীরতা ও নিষ্ঠুরতার যথার্থ প্রতিফলন।

একজন নিরস্ত্র তরুণ, যার হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না, যার চোখে ছিল কেবল ন্যায়ের প্রত্যাশা-তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো মানে কেবল একটি প্রাণ নেওয়া নয়, মানবতার ওপর সরাসরি আঘাত হানা।

যারা রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিল, তারাই যখন আইনের সীমা অতিক্রম করে হত্যাকারীতে পরিণত হয়, তখন তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট করে দেয়।

এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন ও বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড, তা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক পদক্ষেপ।

তবে প্রশ্ন থেকে যায়, এই বিচার কি আবু সাঈদের হারানো জীবন ফিরিয়ে দিতে পারবে? কিংবা সমাজে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যথেষ্ট হবে?

এই রায় একটি বার্তা দেয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কেউ পার পাবে না। কিন্তু একইসঙ্গে এটি আমাদের সামনে একটি কঠিন বাস্তবতাও তুলে ধরে: রাষ্ট্রের ভেতরে মানবিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এমন ঘটনা আবারও ঘটতে পারে।

আবু সাঈদ আজ একটি নামের চেয়েও বেশি কিছু তিনি প্রতিরোধের প্রতীক, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসের প্রতীক। তার আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ন্যায়বিচার কেবল আদালতের রায়ে সীমাবদ্ধ নয়,  এটি প্রতিষ্ঠা করতে

প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা, নৈতিক শক্তি এবং মানবিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :