ঢাকা ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিহত ২০০ ছাড়িয়েছে: আইআরজিসি প্রকৃতি ও পরিবেশ চাঁইয়ের ফাঁদে পাঙাশ নিধন উপকূলের নদ-নদীতে মাছশূন্য ভবিষ্যতের অশনিসংকেত এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস, তবুও কাটেনি শঙ্কা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে একদিনেই ১০ শতাংশের বেশি পতন ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশের আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে যুদ্ধ ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে নেমে এসেছে।

বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮২ দশমিক ৩৫ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার স্পর্শ করেছিল। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

পরিস্থিতির মোড় ঘুরতে শুরু করে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করেন। এরপর সোমবার তিনি জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে “ভালো আলোচনা” চলছে এবং উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

অন্যদিকে ইরানও জানিয়েছে, তারা আপাতত পাল্টা সামরিক অভিযান স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে।

এদিকে বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে কাজাখস্তানের তেল রপ্তানি পুনরায় চালু হওয়ার খবরও। রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলে অবস্থিত ক্যাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম টার্মিনাল থেকে আবারও অপরিশোধিত তেল পরিবহন শুরু হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে স্বস্তির মধ্যেও পুরোপুরি কাটেনি অনিশ্চয়তা। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবু অঞ্চলে সৌদি আরামকো-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। যদিও সৌদি সরকার কিংবা সৌদি আরামকো এখন পর্যন্ত এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তেলের বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

জ্বালানি বাজারের ওঠানামায় কাঁপছে বিশ্ব অর্থনীতি

 বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি তেল কেবল পরিবহন খাতের জ্বালানি নয়; এটি শিল্প, কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয় থেকে শুরু করে পরিবহন খরচ—সবকিছুই বেড়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে উন্নয়নশীল ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে। কারণ এসব দেশের অর্থনীতি আমদানিনির্ভর এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তুলনামূলক সীমিত। ফলে তেলের দাম বাড়লে সরকারের আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়, একই সঙ্গে বাড়তে থাকে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ।

বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

 বাংলাদেশ শতভাগ নয়, তবে উল্লেখযোগ্যভাবে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সরকারের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পায়, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে কৃষি, শিল্প, পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।

জ্বালানির দাম বাড়লে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি পায়, কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যায়।

অন্যদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে বাংলাদেশের জন্য কিছু ইতিবাচক সুযোগ সৃষ্টি হয়। সরকার তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি আমদানি করতে পারে, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম কমলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সেই সুবিধা কত দ্রুত পৌঁছাবে, তা নির্ভর করবে সরকারের মূল্য সমন্বয় নীতি ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ওপর।

সাময়িক স্বস্তি, স্থায়ী সমাধান নয়

 বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বর্তমান মূল্যপতন অবশ্যই ইতিবাচক বার্তা। তবে এটি স্থায়ী সমাধানের নিশ্চয়তা নয়। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও অস্থির এবং যেকোনো সময় নতুন সংঘাত শুরু হলে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

তাদের মতে, বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর উচিত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানির অপচয় কমানো, কৌশলগত মজুত বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। কারণ বিশ্ববাজারের অস্থিরতার প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকার একমাত্র পথ হলো বহুমুখী জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কিন্তু বৈশ্বিক রাজনীতির অনিশ্চয়তা, যুদ্ধের ঝুঁকি এবং জ্বালানি সরবরাহের বাস্তবতা বিবেচনায় এই স্বস্তি কতদিন স্থায়ী হবে, সেটিই এখন বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা

আপডেট সময় : ১১:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে একদিনেই ১০ শতাংশের বেশি পতন ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশের আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশাবাদ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে যুদ্ধ ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে নেমে এসেছে।

বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্রের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৮২ দশমিক ৩৫ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার স্পর্শ করেছিল। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

পরিস্থিতির মোড় ঘুরতে শুরু করে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করেন। এরপর সোমবার তিনি জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে “ভালো আলোচনা” চলছে এবং উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

অন্যদিকে ইরানও জানিয়েছে, তারা আপাতত পাল্টা সামরিক অভিযান স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে।

এদিকে বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে কাজাখস্তানের তেল রপ্তানি পুনরায় চালু হওয়ার খবরও। রাশিয়ার কৃষ্ণ সাগর উপকূলে অবস্থিত ক্যাস্পিয়ান পাইপলাইন কনসোর্টিয়াম টার্মিনাল থেকে আবারও অপরিশোধিত তেল পরিবহন শুরু হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে স্বস্তির মধ্যেও পুরোপুরি কাটেনি অনিশ্চয়তা। ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবু অঞ্চলে সৌদি আরামকো-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। যদিও সৌদি সরকার কিংবা সৌদি আরামকো এখন পর্যন্ত এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে তেলের বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

জ্বালানি বাজারের ওঠানামায় কাঁপছে বিশ্ব অর্থনীতি

 বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি তেল কেবল পরিবহন খাতের জ্বালানি নয়; এটি শিল্প, কৃষি, বিদ্যুৎ উৎপাদন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয় থেকে শুরু করে পরিবহন খরচ—সবকিছুই বেড়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে উন্নয়নশীল ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে। কারণ এসব দেশের অর্থনীতি আমদানিনির্ভর এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তুলনামূলক সীমিত। ফলে তেলের দাম বাড়লে সরকারের আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়, একই সঙ্গে বাড়তে থাকে পরিবহন ও উৎপাদন খরচ।

বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

 বাংলাদেশ শতভাগ নয়, তবে উল্লেখযোগ্যভাবে আমদানিকৃত জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সরকারের আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পায়, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব পড়ে কৃষি, শিল্প, পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।

জ্বালানির দাম বাড়লে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি পায়, কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যায়।

অন্যদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে বাংলাদেশের জন্য কিছু ইতিবাচক সুযোগ সৃষ্টি হয়। সরকার তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি আমদানি করতে পারে, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম কমলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সেই সুবিধা কত দ্রুত পৌঁছাবে, তা নির্ভর করবে সরকারের মূল্য সমন্বয় নীতি ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার ওপর।

সাময়িক স্বস্তি, স্থায়ী সমাধান নয়

 বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বর্তমান মূল্যপতন অবশ্যই ইতিবাচক বার্তা। তবে এটি স্থায়ী সমাধানের নিশ্চয়তা নয়। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও অস্থির এবং যেকোনো সময় নতুন সংঘাত শুরু হলে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

তাদের মতে, বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর উচিত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানির অপচয় কমানো, কৌশলগত মজুত বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। কারণ বিশ্ববাজারের অস্থিরতার প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকার একমাত্র পথ হলো বহুমুখী জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় আপাতত কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কিন্তু বৈশ্বিক রাজনীতির অনিশ্চয়তা, যুদ্ধের ঝুঁকি এবং জ্বালানি সরবরাহের বাস্তবতা বিবেচনায় এই স্বস্তি কতদিন স্থায়ী হবে, সেটিই এখন বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।