গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক
- আপডেট সময় : ০৪:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গাইডের নির্দেশনা অমান্য করে মোটরসাইকেলে ভ্রমণে বের হয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই পর্যটক। রুমা উপজেলার বগালেক–কেওক্রাডং সড়কের পেঁপে বাগান এলাকায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন জামির উদ্দিন ও রোকাইয়া আক্তার।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ১০ সদস্যের একটি পর্যটক দল বগালেক ভ্রমণে আসে। দলের আটজন বগালেকের একটি কটেজে অবস্থান করলেও জামির উদ্দিন ও রোকাইয়া আক্তার স্থানীয় প্রশাসন ও গাইডদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে সন্ধ্যার দিকে মোটরসাইকেলে কেওক্রাডংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পাহাড়ি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে রাতে চলাচল না করার পরামর্শ দেওয়া হলেও তারা সেই নির্দেশনা মানেননি।
ফেরার পথে বগালেক–কেওক্রাডং সড়কের পেঁপে বাগান এলাকায় পৌঁছালে একটি অত্যন্ত ঢালু ও আঁকাবাঁকা মোড়ে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন তারা। এতে মোটরসাইকেলটি কয়েকশ ফুট গভীর পাহাড়ি খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরে স্থানীয় বাসিন্দা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং উদ্ধারকর্মীরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে গভীর খাদ থেকে দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রাত ১টার দিকে উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হয়।
রুমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মানস বড়ুয়া জানান, বগালেক–কেওক্রাডং সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বান্দরবানের বগালেক, কেওক্রাডং, তাজিংডংসহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ গন্তব্য হলেও এসব এলাকার পাহাড়ি সড়ক অত্যন্ত দুর্গম, সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এসব পথে চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও গাইডরা পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের সময় গাইডের নির্দেশনা অনুসরণ করা, অনুমতি ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাতায়াত না করা এবং রাতের বেলায় মোটরসাইকেল বা অন্যান্য যানবাহনে চলাচল থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য অসতর্কতা কিংবা নির্দেশনা অমান্য করলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে নিরাপত্তা নির্দেশনা অবহেলা করা কখনোই উচিত নয়। পর্যটকদের উচিত স্থানীয় প্রশাসন ও গাইডদের পরামর্শ মেনে দায়িত্বশীল আচরণ করা, যাতে আনন্দঘন ভ্রমণ কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনায় পরিণত না হয়।








