চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষে ঐতিহ্যের বন্ধনে ভারত-বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৭:২৭:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ৯৪ বার পড়া হয়েছে
চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। সোমবার ঢাকার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর-এ ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদের উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
ঋতু পরিবর্তন ও প্রকৃতির বৈচিত্র্যকে উপজীব্য করে সাজানো এই অনুষ্ঠানে উঠে আসে বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অনন্য প্রকাশ। নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি ও লোকজ পরিবেশনার সমন্বয়ে এক বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর রবীন্দ্রসংগীত এবং কাজী নজরুল ইসলাম-এর নজরুলগীতি, যা দর্শকদের আবেগাপ্লুত করে তোলে। পাশাপাশি জারি গান, আবৃত্তি এবং ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশনায় ফুটে ওঠে গ্রামীণ বাংলার চিরায়ত জীবনচিত্র।

অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কূটনীতিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিল্পী এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। বাঙালির উৎসবমুখর চেতনা, অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এ আয়োজনে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
এসময় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, এ উৎসব শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতীয় উপমহাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যে গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে, এই উৎসবগুলো তারই প্রতিফলন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুই দেশের মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ মিল, যা পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
সব মিলিয়ে, চৈত্র সংক্রান্তি ও নববর্ষকে ঘিরে এই আয়োজন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই নয়, বরং ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন ঐতিহ্য ও বন্ধুত্বের এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠেছে।


















