বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি
- আপডেট সময় : ০১:১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, পঞ্চগড়, নাটোর ও ময়মনসিংহে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এছাড়া আগের দিন গাইবান্ধায় বজ্রপাতে মা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনাও জানা গেছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। জেলার সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় বজ্রপাতে তিন নারীসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকার আব্দুল্লাহ, শিবগঞ্জ উপজেলার চকনরেন্দ্র গ্রামের মাহমুদা আক্তার, রানীবাড়ী চাঁদপুর এলাকার সাদিয়া খাতুন, মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়ার মেসবাউল, নাচোল উপজেলার ফতেপুর লাহাবাড়ি গ্রামের সুমিয়ারা বেগম এবং নিজামপুর এলাকার হাসান আলী।
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিবগঞ্জে বাড়ির পাশের আমবাগানে আম কুড়াতে গিয়ে তিনজন বজ্রপাতে মারা যান। নিহতদের পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলার আতাহার এলাকায় বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হন আব্দুল্লাহ। পরে তাকে জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে নাচোলে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে সুমিয়ারা বেগম এবং আম কুড়াতে গিয়ে হাসান আলীর মৃত্যু হয়।

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় বজ্রপাতে রাব্বি হোসেন (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে মায়ের সঙ্গে মরিচ ক্ষেতে কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়েছেন তার মা মনিকা বেগম (৩৮)। তাকে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলায় বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেন (১৯) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে অমরখানা ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়রা জানান, তিনি ট্রাক্টরের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। ভুট্টা পরিবহনের সময় ট্রাক্টরের চাকা কাদায় আটকে গেলে বাড়ি থেকে বেলচা আনতে যান। ফেরার পথে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বজ্রপাতে মো. মধু (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার লালোর ইউনিয়নের বড় বারইহাটি এলাকায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে তিনি বজ্রপাতের শিকার হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। ময়মনসিংহেও বজ্রপাতে দুইজনের প্রাণহানি ঘটেছে।
নিহতরা হলেন মুক্তাগাছা উপজেলার গাবতলি ডিগ্রি কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক এএসএম খালেকুল আজাদ (৫৬) এবং গফরগাঁও উপজেলার লামকাইন গ্রামের সিয়াম (১৮)। জানা গেছে, কলেজ বন্ধ থাকায় খালেকুল আজাদ নিজ এলাকায় একটি মসজিদ নির্মাণকাজ তদারকি করছিলেন। বৃষ্টির সময় তিনি একটি আমগাছের নিচে আশ্রয় নিলে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে গফরগাঁওয়ে কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে সিয়াম ঘটনাস্থলেই আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বুধবার সন্ধ্যায় বজ্রপাতে মা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের মান্দুরা গ্রামের কল্পনা রানি (৫৫) ও তার ছেলে সোহাগ চন্দ্র দাস (৩৫) বাড়ির আঙিনায় শুকাতে দেওয়া খড় তুলতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুজনেরই মৃত্যু হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, আবহাওয়া খারাপ হয়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিলে খড় রক্ষার জন্য তারা দ্রুত আঙিনায় যান। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে মা-ছেলে গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, উঁচু স্থান, গাছের নিচে অবস্থান এবং কৃষিকাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।









