আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি
- আপডেট সময় : ০৭:০৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি। এই অসমর্থত ঘটনায় সারাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিলো। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে।আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু ঘটনায় হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ঢাকার মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি। এই অসমর্থত ঘটনায় সারাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিলো। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে।আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু ঘটনায় হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।ঢাকার মগবাজারে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি। এই অসমর্থত ঘটনায় সারাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিলো। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে।
আদ-দ্বীনে ৬ নবজাতকের মৃত্যু ঘটনায় হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। পরিবারের সবার মুখে ছিল আনন্দের হাসি। নতুন অতিথিকে বরণ করে নিতে ঘরে ঘরে প্রস্তুতি ছিল শেষ পর্যায়ে। ছোট্ট শিশুর জন্য কেনা হয়েছিল নতুন কাপড়, দোলনাসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী। স্বজনরা অপেক্ষা করছিলেন নবজাতকের মুখ দেখতে। কিন্তু সেই অপেক্ষা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় এক অসহনীয় শোকে।
ঢাকার মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৭ মে ভোরে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যু শুধু ছয়টি পরিবারকেই নয়, নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো দেশকে। যে ছয়টি শিশুর কান্নায় মুখর হওয়ার কথা ছিল পরিবারের আঙিনা, তাদের নিথর দেহ বুকে জড়িয়ে ফিরে যেতে হয়েছে বাবা-মাকে। ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে আজীবনের বেদনায়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত শেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সামনে তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানান, দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, নার্স ও স্টাফদের অবহেলা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন ।
তদন্তে উঠে এসেছে, যে পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষে নবজাতকগুলো রাখা হয়েছিল সেখানে দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ ছিল এবং পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না। ফলে কক্ষে অক্সিজেনের ঘাটতি এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এছাড়া নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হয়নি।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, সন্তানদের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানিয়ে অভিভাবকরা বারবার সহায়তা চাইলেও তাৎক্ষণিক সাড়া মেলেনি। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স চিকিৎসকদের দ্রুত অবহিত না করে সময়ক্ষেপণ করেন। প্রয়োজনীয় জরুরি চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রায় ৯০০ বর্গফুটের একটি কক্ষে রোগী, নবজাতক এবং স্বজন মিলিয়ে প্রায় ৫০ জন অবস্থান করছিলেন, যা ছিল ধারণক্ষমতার অনেক বেশি। হাসপাতাল ভবনটিও চিকিৎসাসেবা পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয় বলে মত দিয়েছে তদন্ত কমিটি।
আজও ছয়টি পরিবারের ঘরে পড়ে আছে নবজাতকদের জন্য কেনা ছোট ছোট পোশাক, খেলনা আর স্বপ্ন। ঈদের দিনে যখন চারপাশে আনন্দের আমেজ, তখন সেই পরিবারগুলোর ঘরে নেমে এসেছে নীরবতা। যে সন্তানদের কোলে নিয়ে ঈদ উদযাপনের কথা ছিল, তাদের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে কাটছে স্বজনদের প্রতিটি মুহূর্ত।
তদন্ত কমিটির ভাষায়, এটি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, দায়িত্বে অবহেলা, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার এক মর্মান্তিক উদাহরণ। এখন স্বজনদের একটাই প্রশ্ন যে ছয়টি প্রাণ আর কখনও ফিরে আসবে না, তাদের মৃত্যুর দায় কারা নেবে?









