ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে বিজিবির মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সমন্বিত উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের নতুন গতি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখিয়ে শিশু-কিশোরদের তৈরি  করতে হবে: ববি হাজ্জাজ পাসপোর্ট-ভিসা জালিয়াতি প্রকৃত মালিকের আগেই ইতালি গেলেন অন্য নারী ক্ষমতার আড়ালে লীলাখেলা বিশ্ব রাজনীতি কাঁপানো যত নারী কেলেঙ্কারি অনুপ্রবেশ কালে মিয়ানমারের সেনাসদস্যসহ আটক ৩ কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট না হলে মন্ত্রিসভায় রদবদলের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রী এলএনজি টার্মিনালে ত্রুটি তিতাস এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট, বিপাকে শিল্প-কারখানা ও নগরজীবন বন্যায় প্রাণিসম্পদ খাতে শতকোটি টাকার ক্ষতি, আক্রান্ত ৩০ লাখের বেশি হাঁস-মুরগি ও প্রায় ৪ লাখ গবাদিপশু সরকারের পাঁচ মাসের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়

ক্ষমতার আড়ালে লীলাখেলা বিশ্ব রাজনীতি কাঁপানো যত নারী কেলেঙ্কারি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ব রাজনীতি কাঁপানো যত নারী কেলেঙ্কারি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ক্ষমতা মানুষকে প্রভাবশালী করে, তবে সেই ক্ষমতার অপব্যবহার বহু রাজনৈতিক নেতার উত্থানের মতোই তাদের পতনেরও কারণ হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী কিংবা শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্ক, যৌন কেলেঙ্কারি কিংবা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবনেই ঝড় তোলেনি; অনেক ক্ষেত্রে বদলে দিয়েছে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা।

কোথাও পদত্যাগ, কোথাও অভিশংসন, কোথাও কারাদণ্ড আবার কোথাও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অবসান ঘটেছে এসব ঘটনার জেরে। বিশ্ব রাজনীতির আলোচিত কয়েকটি নারী কেলেঙ্কারির সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও হোয়াইট হাউসের সাবেক ইন্টার্ন মনিকা লিউইনস্কিকে ঘিরে নব্বইয়ের দশকের কেলেঙ্কারি এখনও রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। প্রথমে সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে প্রমাণের মুখে ক্লিনটন তা স্বীকার করেন। ঘটনাটি তাকে অভিশংসনের মুখে ঠেলে দেয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন রাজনীতিকে অস্থির করে রাখে।

ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। তার বিলাসবহুল বাসভবনে আয়োজিত তথাকথিত ‘বুঙ্গা বুঙ্গা’ পার্টি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এক অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীর সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে তিনি বিচারের মুখোমুখি হন। যদিও শেষ পর্যন্ত খালাস পান, তবুও এই বিতর্ক তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের আঘাত হানে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির সঙ্গে হলিউড তারকা মেরিলিন মনরোর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয়। তাদের সম্পর্ক নিয়ে বহু গবেষণা, বই ও প্রামাণ্যচিত্র তৈরি হলেও আজও এর অনেক দিক রহস্যে ঢাকা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিগত সম্পর্ক কখনও কখনও জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

যুক্তরাজ্যের প্রফিউমো অ্যাফেয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মাইলফলক। ১৯৬৩ সালে যুদ্ধমন্ত্রী জন প্রফিউমো তরুণী মডেল ক্রিস্টিন কিলারর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। পরে জানা যায়, একই সময়ে কিলারের সঙ্গে এক সোভিয়েত সামরিক কর্মকর্তারও যোগাযোগ ছিল।

স্নায়ুযুদ্ধের সেই প্রেক্ষাপটে এটি জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতে পরিণত হয়। পার্লামেন্টে মিথ্যা বলার দায়ে প্রফিউমো পদত্যাগ করেন এবং ঘটনাটি ব্রিটিশ সরকারের পতনের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে ঘিরে আইনি বিতর্কে জড়ান। অভিযোগ ছিল, ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে অতীতের সম্পর্ক গোপন রাখতে অর্থ দেওয়া হয়েছিল। সেই অর্থ প্রদানের নথি জালিয়াতির মামলায় ট্রাম্প আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হন, যা মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক প্রধান ডমিনিক স্ট্রস-কান ২০১১ সালে নিউইয়র্কের একটি হোটেলের কর্মীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। যদিও পরে ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ হয়ে যায়, তবুও ঘটনাটি তার সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দেয়।

ইসরায়েলের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোশে কাৎসাভ যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের একাধিক অভিযোগে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন। রাষ্ট্রপ্রধান থাকা অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য তার সাত বছরের কারাদণ্ড হয়, যা দেশটির ইতিহাসে বিরল নজির।

একইভাবে নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর ইলিয়ট স্পিৎজার, যিনি দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন, একটি আন্তর্জাতিক এসকর্ট সার্ভিস ব্যবহারের তথ্য প্রকাশের পর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এসব ঘটনা দেখিয়েছে, রাজনৈতিক ক্ষমতা কখনও কখনও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতাকে আড়াল করতে পারেনি। বরং গণমাধ্যম, বিচারব্যবস্থা এবং জনমতের চাপের মুখে বিশ্বের প্রভাবশালী নেতারাও জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারেননি। ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত আচরণও যে রাষ্ট্র, রাজনীতি ও জনগণের আস্থাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে, এসব ঘটনাই তার স্পষ্ট প্রমাণ।

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, হেরাল্ড সান, সিবিএস নিউজ, বিবিসি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ক্ষমতার আড়ালে লীলাখেলা বিশ্ব রাজনীতি কাঁপানো যত নারী কেলেঙ্কারি

আপডেট সময় : ০৪:১২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ক্ষমতা মানুষকে প্রভাবশালী করে, তবে সেই ক্ষমতার অপব্যবহার বহু রাজনৈতিক নেতার উত্থানের মতোই তাদের পতনেরও কারণ হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী কিংবা শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্ক, যৌন কেলেঙ্কারি কিংবা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ শুধু তাদের ব্যক্তিগত জীবনেই ঝড় তোলেনি; অনেক ক্ষেত্রে বদলে দিয়েছে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা।

কোথাও পদত্যাগ, কোথাও অভিশংসন, কোথাও কারাদণ্ড আবার কোথাও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অবসান ঘটেছে এসব ঘটনার জেরে। বিশ্ব রাজনীতির আলোচিত কয়েকটি নারী কেলেঙ্কারির সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও হোয়াইট হাউসের সাবেক ইন্টার্ন মনিকা লিউইনস্কিকে ঘিরে নব্বইয়ের দশকের কেলেঙ্কারি এখনও রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। প্রথমে সম্পর্কের অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে প্রমাণের মুখে ক্লিনটন তা স্বীকার করেন। ঘটনাটি তাকে অভিশংসনের মুখে ঠেলে দেয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন রাজনীতিকে অস্থির করে রাখে।

ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনি ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন। তার বিলাসবহুল বাসভবনে আয়োজিত তথাকথিত ‘বুঙ্গা বুঙ্গা’ পার্টি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এক অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীর সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে তিনি বিচারের মুখোমুখি হন। যদিও শেষ পর্যন্ত খালাস পান, তবুও এই বিতর্ক তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের আঘাত হানে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরেক সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির সঙ্গে হলিউড তারকা মেরিলিন মনরোর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার বিষয়। তাদের সম্পর্ক নিয়ে বহু গবেষণা, বই ও প্রামাণ্যচিত্র তৈরি হলেও আজও এর অনেক দিক রহস্যে ঢাকা। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, একজন রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিগত সম্পর্ক কখনও কখনও জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।

যুক্তরাজ্যের প্রফিউমো অ্যাফেয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মাইলফলক। ১৯৬৩ সালে যুদ্ধমন্ত্রী জন প্রফিউমো তরুণী মডেল ক্রিস্টিন কিলারর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। পরে জানা যায়, একই সময়ে কিলারের সঙ্গে এক সোভিয়েত সামরিক কর্মকর্তারও যোগাযোগ ছিল।

স্নায়ুযুদ্ধের সেই প্রেক্ষাপটে এটি জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুতে পরিণত হয়। পার্লামেন্টে মিথ্যা বলার দায়ে প্রফিউমো পদত্যাগ করেন এবং ঘটনাটি ব্রিটিশ সরকারের পতনের অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে ঘিরে আইনি বিতর্কে জড়ান। অভিযোগ ছিল, ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে অতীতের সম্পর্ক গোপন রাখতে অর্থ দেওয়া হয়েছিল। সেই অর্থ প্রদানের নথি জালিয়াতির মামলায় ট্রাম্প আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হন, যা মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাবেক প্রধান ডমিনিক স্ট্রস-কান ২০১১ সালে নিউইয়র্কের একটি হোটেলের কর্মীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন। যদিও পরে ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ হয়ে যায়, তবুও ঘটনাটি তার সম্ভাবনাময় রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে দেয়।

ইসরায়েলের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোশে কাৎসাভ যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের একাধিক অভিযোগে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন। রাষ্ট্রপ্রধান থাকা অবস্থায় সংঘটিত অপরাধের জন্য তার সাত বছরের কারাদণ্ড হয়, যা দেশটির ইতিহাসে বিরল নজির।

একইভাবে নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর ইলিয়ট স্পিৎজার, যিনি দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন, একটি আন্তর্জাতিক এসকর্ট সার্ভিস ব্যবহারের তথ্য প্রকাশের পর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

এসব ঘটনা দেখিয়েছে, রাজনৈতিক ক্ষমতা কখনও কখনও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতাকে আড়াল করতে পারেনি। বরং গণমাধ্যম, বিচারব্যবস্থা এবং জনমতের চাপের মুখে বিশ্বের প্রভাবশালী নেতারাও জবাবদিহির বাইরে থাকতে পারেননি। ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত আচরণও যে রাষ্ট্র, রাজনীতি ও জনগণের আস্থাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে, এসব ঘটনাই তার স্পষ্ট প্রমাণ।

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, হেরাল্ড সান, সিবিএস নিউজ, বিবিসি।