ঢাকা ১১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান

আমিনুল হক ভূইয়া
  • আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

শিশু রামিসা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না (মাঝে শিশু রামিসা)

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাত্র ২২ দিনের মাথায় দেশ কাঁপানো চাঞ্চল্যকর ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারের রায় ঘোষণা করা হলো। ঘটনার মাত্র ৫ দিনের মাথায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের  বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোপত্র (চার্জশিট) আদালতে জমা দেওয়া হয়।

রোববার জনাকীর্ণ আদালত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার মামলার আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের উপস্থিতিতে ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। আদালতের রায় শুনে আসামী কাঠ গড়ায় দন্ডায়মান সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

আদালত রায়ে আসামি সোহেলের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিম মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ১৭ মে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে রেকর্ড গড়ে মাত্র ৫ দিনের মাথায় (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ।

এরপর ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আজ এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেয়া হয়। সংসদে আইনমন্ত্রী: রোববার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে যোগ দিয়ে আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। তিনি বলেন, মাত্র ৫দিনের মাথায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়, অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের দৃঢ় বার্তা
রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা ও স্বপ্নাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

মাত্র ১৯ দিনের মাথায় বিচারকার্য সম্পন্ন তথা রায় প্রদান করা হয়েছে। সংসদে আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন,  আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় আগামী তিন মাসের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব। রায়ের পর আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ন্যায়বিচার পেয়েছি। অপরাধী অপরাধের বিচার পেয়েছে। আমি সন্তুষ্ট।  রায়ে সন্তুষ্ট রামিসার বাবা: যে হাতে খেলনা ধরার কথা, সেই শিশুই হলো নির্মমতার শিকার।  ছোট্ট জীবনের বড় ট্র্যাজেডি, রামিসাকে হারানোর বেদনাকে বুকে চেপে বেদনামাখা হাসি দিয়ে রামিসার বাবা  আব্দুল হান্নান মোল্লা দুই আসামিরই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ আসার পর বলেন, রায়ে শতভাগ খুশি।

এই রায়ে আমার মনের যে প্রত্যাশা, যে আকাঙ্ক্ষা সেটা আমি পেয়েছি।  আদালতের পর্যবেক্ষণ : আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, যখন কোনো শিশু যৌন নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা শুধু একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজকে গভীরভাবে আহত করে এবং রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।

ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে এসব কথা বলেছেন আদালত। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আজ রোববার মর্মান্তিক এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। দণ্ড ঘোষণার আগে বিচারক ঘটনাটি নিয়ে ওই পর্যবেক্ষণ দেন। হত্যার আগে ধর্ষণ ও বিভিন্ন স্থানে জখমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না থাকায় বোঝা যায়, সোহেল স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছে।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়, অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের দৃঢ় বার্তা
ছবি সংগৃহিত

স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না। অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা এবং তা প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা না রাখার বিষয়টিও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, শিশু রামিসা হত্যা মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এ মামলায় তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ বলা হয়, একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ।

আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার : এদিকে রামসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এসময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক।

পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে আদালত বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা ‘বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ’।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান

আপডেট সময় : ০৯:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

মাত্র ২২ দিনের মাথায় দেশ কাঁপানো চাঞ্চল্যকর ৮ বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারের রায় ঘোষণা করা হলো। ঘটনার মাত্র ৫ দিনের মাথায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের  বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অভিযোপত্র (চার্জশিট) আদালতে জমা দেওয়া হয়।

রোববার জনাকীর্ণ আদালত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার মামলার আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের উপস্থিতিতে ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। আদালতের রায় শুনে আসামী কাঠ গড়ায় দন্ডায়মান সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

আদালত রায়ে আসামি সোহেলের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে। ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিম মৃত রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ১৭ মে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে রেকর্ড গড়ে মাত্র ৫ দিনের মাথায় (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ।

এরপর ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আজ এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেয়া হয়। সংসদে আইনমন্ত্রী: রোববার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে যোগ দিয়ে আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। তিনি বলেন, মাত্র ৫দিনের মাথায় চাঞ্চল্যকর এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়, অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের দৃঢ় বার্তা
রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা ও স্বপ্নাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

মাত্র ১৯ দিনের মাথায় বিচারকার্য সম্পন্ন তথা রায় প্রদান করা হয়েছে। সংসদে আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন,  আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় আগামী তিন মাসের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব। রায়ের পর আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ন্যায়বিচার পেয়েছি। অপরাধী অপরাধের বিচার পেয়েছে। আমি সন্তুষ্ট।  রায়ে সন্তুষ্ট রামিসার বাবা: যে হাতে খেলনা ধরার কথা, সেই শিশুই হলো নির্মমতার শিকার।  ছোট্ট জীবনের বড় ট্র্যাজেডি, রামিসাকে হারানোর বেদনাকে বুকে চেপে বেদনামাখা হাসি দিয়ে রামিসার বাবা  আব্দুল হান্নান মোল্লা দুই আসামিরই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ আসার পর বলেন, রায়ে শতভাগ খুশি।

এই রায়ে আমার মনের যে প্রত্যাশা, যে আকাঙ্ক্ষা সেটা আমি পেয়েছি।  আদালতের পর্যবেক্ষণ : আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেন, যখন কোনো শিশু যৌন নির্যাতন, সহিংসতা কিংবা হত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়, তখন তা শুধু একটি পরিবারকে নয়, সমগ্র সমাজকে গভীরভাবে আহত করে এবং রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি সভ্য ও মানবিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।

ঢাকার পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে এসব কথা বলেছেন আদালত। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আজ রোববার মর্মান্তিক এই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। দণ্ড ঘোষণার আগে বিচারক ঘটনাটি নিয়ে ওই পর্যবেক্ষণ দেন। হত্যার আগে ধর্ষণ ও বিভিন্ন স্থানে জখমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর তা প্রত্যাহারের কোনো আবেদন না থাকায় বোঝা যায়, সোহেল স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করেছে।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের রায়, অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের দৃঢ় বার্তা
ছবি সংগৃহিত

স্বামীকে পালাতে সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী স্বপ্না। অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা এবং তা প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা না রাখার বিষয়টিও আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, শিশু রামিসা হত্যা মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এ মামলায় তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ বলা হয়, একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ।

আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার : এদিকে রামসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এসময় তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক।

পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে আদালত বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন নির্মমভাবে নিভিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা এ মামলার প্রতিটি পৃষ্ঠা ‘বেদনা, ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় পরিপূর্ণ’।