ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আজ চুক্তি: বোয়িং থেকে ১৪ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার ৫ জেলায় বন্যার আভাস: মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যা, হাজারো মানুষ পানিবন্দি যুদ্ধ নয়, কৌশলে চাপ: ইরানকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি নৌ-অবরোধের নতুন হিসাব ঢাকাকে ‘ক্লিন–গ্রিন’ নগরী গড়তে সরকারের বহুমাত্রিক পরিকল্পনা দেশজুড়ে কালবৈশাখীর দাপট: স্বস্তির বৃষ্টি, সঙ্গে ভোগান্তি ও সতর্কতা জব্বারের বলীখেলায় ইতিহাস: হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ উত্তরাঞ্চলে অতিবৃষ্টির শঙ্কা: সিলেট-সুনামগঞ্জে সাময়িক বন্যার পূর্বাভাস বিয়াম স্কুলে শিশুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী উদ্ভাবকদের স্বীকৃতি ও সুরক্ষায় আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উত্তরণ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের ২৯ তম বার্ষিক সাধারণ সভা

আজ চুক্তি: বোয়িং থেকে ১৪ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

বোয়িং থেকে ১৪ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার: ফাইল ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বহর সম্প্রসারণে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িং-এর সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার একটি বড় চুক্তি সই হতে যাচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকার একটি তারকা  হোটেলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং অ্যাভিয়েশন খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত থাকবেন।

বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে এই  তথ্য জানান।

প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় বিমান মোট ১৪টি উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট। এসব উড়োজাহাজের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার সমান।

চুক্তিতে বিমানের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের একজন প্রতিনিধি স্বাক্ষর করবেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা মোকাবিলা, বহর আধুনিকায়ন এবং দীর্ঘ রুটে সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দীর্ঘ রুটে ব্যবহার করা হবে, আর ৭৩৭ ম্যাক্স জেটগুলো আঞ্চলিক ও স্বল্প দূরত্বের রুটে চলবে।

এই বড় ক্রয়াদেশ নিয়ে গত তিন বছর ধরে বোয়িং ও এয়ারবাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। পূর্বে ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও পরবর্তীতে কৌশলগত বিবেচনায় বোয়িংয়ের পক্ষেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

জানা গেছে, উড়োজাহাজগুলোর মূল্য ১০ থেকে ২০ বছর মেয়াদে কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। বছরে গড়ে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হতে পারে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। তবে চাহিদা পূরণে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন। ২০৪১ সালের মধ্যে বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্র জানায়, নতুন উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে প্রথমটি ২০৩১ সালের অক্টোবরে সরবরাহ করা হতে পারে এবং বাকিগুলো ২০৩৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর করা হবে। এই ক্রয়ের জন্য সরকার বিমানের পক্ষে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দেবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়ার পর এই বিনিয়োগ বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আজ চুক্তি: বোয়িং থেকে ১৪ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বহর সম্প্রসারণে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা বোয়িং-এর সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার একটি বড় চুক্তি সই হতে যাচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ঢাকার একটি তারকা  হোটেলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক এবং অ্যাভিয়েশন খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত থাকবেন।

বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে এই  তথ্য জানান।

প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় বিমান মোট ১৪টি উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট। এসব উড়োজাহাজের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার সমান।

চুক্তিতে বিমানের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের একজন প্রতিনিধি স্বাক্ষর করবেন। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা মোকাবিলা, বহর আধুনিকায়ন এবং দীর্ঘ রুটে সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দীর্ঘ রুটে ব্যবহার করা হবে, আর ৭৩৭ ম্যাক্স জেটগুলো আঞ্চলিক ও স্বল্প দূরত্বের রুটে চলবে।

এই বড় ক্রয়াদেশ নিয়ে গত তিন বছর ধরে বোয়িং ও এয়ারবাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। পূর্বে ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত থাকলেও পরবর্তীতে কৌশলগত বিবেচনায় বোয়িংয়ের পক্ষেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

জানা গেছে, উড়োজাহাজগুলোর মূল্য ১০ থেকে ২০ বছর মেয়াদে কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। বছরে গড়ে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হতে পারে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলেও আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। তবে চাহিদা পূরণে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন। ২০৪১ সালের মধ্যে বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্র জানায়, নতুন উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে প্রথমটি ২০৩১ সালের অক্টোবরে সরবরাহ করা হতে পারে এবং বাকিগুলো ২০৩৫ সালের নভেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে হস্তান্তর করা হবে। এই ক্রয়ের জন্য সরকার বিমানের পক্ষে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দেবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়ার পর এই বিনিয়োগ বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।