ঢাকা ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জব্বারের বলীখেলায় ইতিহাস: হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ উত্তরাঞ্চলে অতিবৃষ্টির শঙ্কা: সিলেট-সুনামগঞ্জে সাময়িক বন্যার পূর্বাভাস বিয়াম স্কুলে শিশুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী উদ্ভাবকদের স্বীকৃতি ও সুরক্ষায় আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উত্তরণ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের ২৯ তম বার্ষিক সাধারণ সভা পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে সংস্কারে জোর দিচ্ছে সরকার : অর্থমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা: নজরদারি বাড়িয়েছে সিটিটিসি নির্বাচনের আগেই অস্থিতিশীলতার ষড়যন্ত্র: জামায়াতকে কড়া জবাব মির্জা ফখরুলের লোডশেডিং ৩০০০ মেগাওয়াট : গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে ১৭ জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত, ঢাকায় তাপমাত্রা সামান্য কমলেও ভ্যাপসা গরম

Ranikuthi Angik : সাংস্কৃতিক চর্চ্চা কেন্দ্র ‘রানীকুঠি আঙ্গিক’ ও একজন সুতপার স্বপ্ন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ এপ্রিল ২০২২ ৯০১ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি আঙ্গিকের সৌজন্যে

এ. এইচ. ঋদ্ধিমান

রবীন্দ্র, নজরুল, সুভাষ, বাঘাযতীন ইত্যাদি কতশত নাম। মা-মাটি মানুষের ত্রাতা এসব নামগুলো আজীবন শক্তিযোগানোর এক একটি স্তম্ভ। দেশাত্মবোধ থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক মুক্তির প্রেরণাদায়ী শক্তি। এযেন বাঙালির অবলম্বনের স্থান। বাবা বলতেন সাংস্কৃতি হচ্ছে দেশগড়ার অন্যতম হাতিয়ার। সংস্কৃতিক হচ্ছে সমাজের বাতিঘর। সাংস্কৃতিক মুক্তিই মানবতার মুক্তি

এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে একটা দীর্ঘ সময় ধরে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের বাসিন্দা হয়ে কাজ করে চলেছেন সুতপা। আমাদের সুতপা চক্রবর্তী। সংস্কৃতিই যার ঘরবসতি। সমাজসচেন ভাবনা থেকে সাংস্কৃতিক ঝাণ্ডা হাতে নিরন্তন ছুটে চলা তার। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম। সবখানেই তার বিরচণ। সংস্কৃতির কোন মানচিত্র নেই। সংস্কৃতির ভাষাই পৃথিবীর ভাষা।

সুতপার সাধনার মন্দির ‘রানীকুঠি আঙ্গিক’। সাংস্কৃতিক চেতনায় মানুষকে জাগিয়ে তুলতে কাজ করে চলেছেন। নাটক, গান, আবৃত্তি, বিষয়ভিত্তিক নানা আয়োজনে ব্যস্ততা বছরজুড়ে। আজ কলকাতার কোন মঞ্চে নাটক বা সঙ্গীতের আসর আবার দু’দিন পর দল নিয়ে প্রান্তিক রাজ্য ত্রিপুরায়। এভাবেই দিনের পর দিন ক্লান্তহীনভাবে কাজ করে চলেছেন।

এইতো বিশ্বনাট্য দিবসে মার্চের শেষে ‘বাতিঘর’ নাটক নিয়ে ত্রিপুরায় ‘কথা চিত্র নাট্য উৎসবে’ যোগ দিয়ে কয়েকস্থানে শো করে ফিরলেন কলকাতায়। এর আগে ১২ই মার্চ আয়োজন ছিলো বসন্ত উৎসবের। বাঘাযতীন ‘বকুল দত্ত’ সভাগৃহে কিংবদন্তি কণ্ঠ শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এবং লতা মঙ্গেশকরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে আঙ্গিকের মনোমুগ্ধকর আয়োজন বসন্তের সন্ধ্যায় শ্রদ্ধা ‘লতা-সন্ধ্যা’।

দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জের ‘রানীকুঠি আঙ্গিক’ এর বসন্ত উৎসব আয়োজনে সংগঠনের শিশু-কিশোর শিল্পীদের মধ্যে অঙ্কনা ব্যানার্জি, ত্রিশা পাল, দেবশ্রী দাস, কীর্তি সুব্রামানিয়াম, অন্বেষা ব্যানার্জি, পিয়াস মুখার্জি, ও অনুশ্রী চক্রবর্তী সঙ্গীত পরিবেশন করে। সমবেত নৃত্যে অংশ নেয় রিদ্ধী সাহু, সৃজা দে, সঙ্গীতা রায় চৌধুরী, পিহুনা দাস, অনুশ্রী চক্রবর্তী।

সঙ্গীত পরিবেশনে ছিলো আঙ্গিকের সঙ্গীত বিভাগের অনামিকা চ্যাটার্জী, চন্দ্রানী ঘোয, দেবদুলাল দাস, দেবযানী দত্ত, গায়ত্রী নন্দী মজুমদার, মমতা ব্যানার্জি, মৌসুমী বক্সী, সঙ্গীতা দেব, ছন্দা দে, কাকলী দে দাস, মধুমিতা রায়, রীয়া দত্ত, রেশমি দাস ও শীপ্রা মুখার্জি।

আঙ্গিকের বাচিক শিল্পী প্রতিমা সাহা দত্ত, মিলি বনিক, অনিতা চক্রবর্তী এবং দীপঙ্কর চক্রবর্তীর আবৃত্তি হৃদয়গ্রাহী। যেন শ্রোতাদের সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদান। আয়োজনের গাথুনিটা ছিলো বেশ। যে কারণে শেষ হয়েও হলো না শেষ। সব শেষে ‘রানীকুঠি আঙ্গিক’এর কর্ণধার সুতপা চক্রবর্তীর সমাপ্তি ঘোষণার মধ্য দিয়ে একবুক তৃপ্তি নিয়ে যে যার পথে পা বাড়ান।

সুতপা চক্রবর্তী যেকোন প্রতিকূল পরিস্থিতি উৎড়ে যেতে পারেন তার সাংস্কৃতিক চর্চ্চার মন্ত্র দিয়ে। নিজেকে আত্মকেন্দ্রিকতার দেয়ালে বন্দী না রেখে সমর্পিত হয়েছেন বহুজনের মাঝে শুভ, সুন্দর, কল্যাণের মঙ্গলালোকে। তিনি আমাদের সমাজের শুভবোধের সারথী।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Ranikuthi Angik : সাংস্কৃতিক চর্চ্চা কেন্দ্র ‘রানীকুঠি আঙ্গিক’ ও একজন সুতপার স্বপ্ন

আপডেট সময় : ১১:০৮:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ এপ্রিল ২০২২

ছবি আঙ্গিকের সৌজন্যে

এ. এইচ. ঋদ্ধিমান

রবীন্দ্র, নজরুল, সুভাষ, বাঘাযতীন ইত্যাদি কতশত নাম। মা-মাটি মানুষের ত্রাতা এসব নামগুলো আজীবন শক্তিযোগানোর এক একটি স্তম্ভ। দেশাত্মবোধ থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক মুক্তির প্রেরণাদায়ী শক্তি। এযেন বাঙালির অবলম্বনের স্থান। বাবা বলতেন সাংস্কৃতি হচ্ছে দেশগড়ার অন্যতম হাতিয়ার। সংস্কৃতিক হচ্ছে সমাজের বাতিঘর। সাংস্কৃতিক মুক্তিই মানবতার মুক্তি

এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে একটা দীর্ঘ সময় ধরে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের বাসিন্দা হয়ে কাজ করে চলেছেন সুতপা। আমাদের সুতপা চক্রবর্তী। সংস্কৃতিই যার ঘরবসতি। সমাজসচেন ভাবনা থেকে সাংস্কৃতিক ঝাণ্ডা হাতে নিরন্তন ছুটে চলা তার। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম। সবখানেই তার বিরচণ। সংস্কৃতির কোন মানচিত্র নেই। সংস্কৃতির ভাষাই পৃথিবীর ভাষা।

সুতপার সাধনার মন্দির ‘রানীকুঠি আঙ্গিক’। সাংস্কৃতিক চেতনায় মানুষকে জাগিয়ে তুলতে কাজ করে চলেছেন। নাটক, গান, আবৃত্তি, বিষয়ভিত্তিক নানা আয়োজনে ব্যস্ততা বছরজুড়ে। আজ কলকাতার কোন মঞ্চে নাটক বা সঙ্গীতের আসর আবার দু’দিন পর দল নিয়ে প্রান্তিক রাজ্য ত্রিপুরায়। এভাবেই দিনের পর দিন ক্লান্তহীনভাবে কাজ করে চলেছেন।

এইতো বিশ্বনাট্য দিবসে মার্চের শেষে ‘বাতিঘর’ নাটক নিয়ে ত্রিপুরায় ‘কথা চিত্র নাট্য উৎসবে’ যোগ দিয়ে কয়েকস্থানে শো করে ফিরলেন কলকাতায়। এর আগে ১২ই মার্চ আয়োজন ছিলো বসন্ত উৎসবের। বাঘাযতীন ‘বকুল দত্ত’ সভাগৃহে কিংবদন্তি কণ্ঠ শিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় এবং লতা মঙ্গেশকরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে আঙ্গিকের মনোমুগ্ধকর আয়োজন বসন্তের সন্ধ্যায় শ্রদ্ধা ‘লতা-সন্ধ্যা’।

দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জের ‘রানীকুঠি আঙ্গিক’ এর বসন্ত উৎসব আয়োজনে সংগঠনের শিশু-কিশোর শিল্পীদের মধ্যে অঙ্কনা ব্যানার্জি, ত্রিশা পাল, দেবশ্রী দাস, কীর্তি সুব্রামানিয়াম, অন্বেষা ব্যানার্জি, পিয়াস মুখার্জি, ও অনুশ্রী চক্রবর্তী সঙ্গীত পরিবেশন করে। সমবেত নৃত্যে অংশ নেয় রিদ্ধী সাহু, সৃজা দে, সঙ্গীতা রায় চৌধুরী, পিহুনা দাস, অনুশ্রী চক্রবর্তী।

সঙ্গীত পরিবেশনে ছিলো আঙ্গিকের সঙ্গীত বিভাগের অনামিকা চ্যাটার্জী, চন্দ্রানী ঘোয, দেবদুলাল দাস, দেবযানী দত্ত, গায়ত্রী নন্দী মজুমদার, মমতা ব্যানার্জি, মৌসুমী বক্সী, সঙ্গীতা দেব, ছন্দা দে, কাকলী দে দাস, মধুমিতা রায়, রীয়া দত্ত, রেশমি দাস ও শীপ্রা মুখার্জি।

আঙ্গিকের বাচিক শিল্পী প্রতিমা সাহা দত্ত, মিলি বনিক, অনিতা চক্রবর্তী এবং দীপঙ্কর চক্রবর্তীর আবৃত্তি হৃদয়গ্রাহী। যেন শ্রোতাদের সঙ্গে ভাবের আদান-প্রদান। আয়োজনের গাথুনিটা ছিলো বেশ। যে কারণে শেষ হয়েও হলো না শেষ। সব শেষে ‘রানীকুঠি আঙ্গিক’এর কর্ণধার সুতপা চক্রবর্তীর সমাপ্তি ঘোষণার মধ্য দিয়ে একবুক তৃপ্তি নিয়ে যে যার পথে পা বাড়ান।

সুতপা চক্রবর্তী যেকোন প্রতিকূল পরিস্থিতি উৎড়ে যেতে পারেন তার সাংস্কৃতিক চর্চ্চার মন্ত্র দিয়ে। নিজেকে আত্মকেন্দ্রিকতার দেয়ালে বন্দী না রেখে সমর্পিত হয়েছেন বহুজনের মাঝে শুভ, সুন্দর, কল্যাণের মঙ্গলালোকে। তিনি আমাদের সমাজের শুভবোধের সারথী।