বাংলাদেশ ও নজরুল অবিভাজ্য সত্তা: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এক ‘অবিভাজ্য সত্তা’। তিনি বলেন, নজরুল আমাদের জাতীয় সত্তার সার্থক প্রতিনিধি, জাতীয় চেতনার প্রতীক এবং জাতীয়তাবাদের পথিকৃৎ।
শনিবার বিকেলে ত্রিশাল-এ জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় কবির জন্মদিনে আমরা যেন অন্যায়, অবিচার, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বিভেদের গ্লানি মুছে ফেলি; সবার আগে বাংলাদেশকে ধারণ করি।
তিনি আরও বলেন, আর দুদিন পরই বাংলাদেশের মহান জনগণের পরম প্রিয়জন, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী। তার চির-অম্লান স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
গত দুই দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জাতীয় কবিকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান না জানানোর অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে তিনি মরহুম দারোগা রফিজ উল্লাহকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯১৪ সালে তিনি নজরুল ইসলামকে ত্রিশালের কাজীর শিমলা গ্রামে নিজ বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন।
জাতীয় কবির প্রতি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র শ্রদ্ধার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির জানাজার পর কবির লাশবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে বহন করেছিলেন, তাদের অন্যতম ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৯ সালের ২৫ মে জাতীয় কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকার ফার্মগেট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির মাজার পর্যন্ত আয়োজিত র্যালিতেও অংশ নিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অবিস্মরণীয় নাম কাজী নজরুল ইসলাম। পরাধীন, পর্যুদস্ত ও পরাভূত জাতির ভাগ্যাকাশে তার আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো।
তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম মানেই বাংলা সাহিত্যে এক নতুন ভোরের উদয়। তিনিই কবিতায় এনেছেন যুদ্ধের গর্জন এবং রাষ্ট্রীয় ও আত্মিক স্বাধীনতার বজ্রনিনাদ।
নারীর অধিকার, শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণ ও অসাম্প্রদায়িক মানবতার পক্ষে নজরুলের অবদানের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই মহাকবি বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতির চিরযৌবনের প্রতীক হয়ে আমাদের হৃদয়ে জাগরুক হয়ে আছেন এবং থাকবেন।
বর্তমান প্রজন্মের কাছে নজরুলের জীবনদর্শন পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম বিশ্বসাহিত্যের দরবারে আরও বেশি ছড়িয়ে দিতে হবে।
এ সময় তিনি ত্রিশালকে ‘নজরুল সিটি’ হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না, তা যাচাই করতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পর্যটন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানান।
ময়মনসিংহের দড়িরামপুরের নজরুল একাডেমি মাঠে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
অনুষ্ঠানে নজরুল গবেষণা ও কবির জীবনদর্শন নিয়ে বিশেষ অবদানের জন্য দুজন গুণীজনের হাতে নজরুল পদক ও সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া তিনি নজরুল স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন এবং পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী-র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা।
এছাড়াও জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুর রহমান শিবলী, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান খিলখিল কাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিখ মনজুর এবং জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান।




















