ঢাকা ০১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এখনও ডিজেলে লোকসান লিটারে ৭০ টাকা : রিজভী জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যে তেমন প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: মৎস্যমন্ত্রী বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় ভারতকে পণ্য আমদানি বাড়ানোর তাগিদ জাতিসংঘে জিয়া পরিবার বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরের চার দশকের পথচলা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি   কিলোমিটার প্রতি বাসভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ, এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ৮১তম জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

February : ভাষা মাস ‘ফেব্রুয়ারি’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ৬৪৮ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একুশে ফেব্রুয়ারি শ্রদ্ধা অবনত হবে জাতি
খালি পায়ে প্রভাত ফেরিতে উচ্চারিত হবে

‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
আমি কি ভুলিতে পারি’

 

অনিরুদ্ধ

ভাষা মাস ফেব্রুয়ারি, স্মৃতি জাগানিয়া মাস ফেব্রুয়ারি, রক্তের বিনিময়ে পাওয়া মাসের নাম ফেব্রুয়ারি। বাঙালি মাতৃভাষা অর্জনের মাস ফেব্রুয়ারি। বছর ঘুরে এবারো এলো শোকের মাস ফেব্রুয়ারি। জাগ্রহ ফেব্রুয়ারি ফিরে আসে প্রেরণার প্রতীক হয়ে।

সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরের নাম যেমন শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারণ হয়। দিনের পথচলার প্রেরণা খুঁজে নেয় বাঙালি জাতি। একুশ বাংলাদেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বজনিন। ‘একুশে ফেব্রুযারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। গোটা বিশ্বে এক প্রেরণা এবং অধিকার আদায়ের শক্তি একুশে ফেব্রুয়ারি।

ভাষা মাস ঘিরে ঢাকায় শুরু হয়েছে মাসব্যাপী অমর একুশে বই মেলা। প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট জায়গা নিয়ে বৃহত্তম এই বইমেলার আয়োজন করেছে বাংলা একাডেমি। বরাবরের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলার উদ্বোধন করেন। এদিন বাংলা একাডেমি পুরষ্কারও বিতরণ করে থাকেন শেখ হাসিনা।

ভাষা মাসে শিল্প-সাহিত্য-সংগীতসহ শিল্পের প্রতিটি ক্ষেত্রে একুশ নিয়ে আসে নতুন ভাবনা। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণাদীপ্ত হচ্ছে বইমেলা। এবারের মেলায় প্রায় ৯০০ মতো ছোট বড় স্টল থাকছে। প্রতিদিন বেলা তিনটে থেকে রাত ন’টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত বইমেলা। শুক্র-শনিবার বেলা ১১টা থেকে তিনটে পর্যন্ত শিশু প্রহর।

ভাষা মাসের ইতিহাস

ভাষার দাবিতে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, ১৯৪৭ সালে। সে বছরের ১৭ মে হায়দরাবাদে এক উর্দু সম্মেলনে মুসলিম লীগ নেতা চৌধুরী খালিকুজ্জামান ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘পাকিস্তানের জাতীয় ভাষা হবে উর্দু’। তার প্রতিবাদে ২৯ জুলাই ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ আজাদ পত্রিকায় বলেন, বাংলাই হওয়া উচিত পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা, তবে দুটি রাষ্ট্রভাষা করা গেলে উর্দুর কথা বিবেচনা করা যায়।

একই বছরের ২৭ নভেম্বর করাচিতে পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে পাকিস্তান গণপরিষদের কাছে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ও প্রাদেশিক সরকারগুলিকে মেনে নেবার সুপারিশ করা হয়। সেই সঙ্গে সমগ্র পাকিস্তানে প্রাথমিক শিক্ষায় উর্দুকে এক বছরের জন্য বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও করা হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাকে ‘রাষ্ট্রভাষা’ করার দাবিতে ৬ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। তমদ্দুন মজলিসের সম্পাদক আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তৃতা করেন মুনীর চৌধুরী, আব্দুর রহমান, কল্যাণ দাশগুপ্ত, এ কে এম আহসান, এস আহমদ প্রমুখ। সেখানে রাষ্ট্রভাষাসংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফরিদ আহমদ।

করাচিতে তখন গণপরিষদের অধিবেশন চলছিল। ২৩ ফেব্রুয়ারি বিতর্ক হয় গণপরিষদের কাজের ভাষারূপে ইংরেজির সঙ্গে উর্দুকে যুক্ত করা নিয়ে। পূর্ব বাংলার কংগ্রেস দলের সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, বাংলাকেও যুক্ত করতে হবে। তার এই প্রস্তাবের বিরোধীতা করেন লিয়াকত আলী খান, খাজা নাজিমুদ্দিন ও তমিজুদ্দিন আহমেদ।

গর্জে ওঠে ঢাকা

গণপরিষদে প্রস্তাবে প্রতিবাদে গর্জে ওঠে ঢাকা। তৎকালীন সচেতন ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ গঠিত হয় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। ১১ মার্চ সংগ্রাম পরিষদ পূর্ববঙ্গে ধর্মঘটের ডাক দেয়। পর্ববঙ্গ তখন অগ্নিগর্ব হয়ে ওঠছে।

এরই মধ্যে ১৯ মার্চ কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ঢাকায় আসেন। ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বক্তৃতায় বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা, অন্য কোনো ভাষা নয়।’

২৩ মার্চ জিন্নাহর বক্তৃতার সমালোচনা করে এ কে ফজলুল হকের বিবৃতি প্রচারিত হয়। ২৪ মার্চ কার্জন হলে জিন্নাহ ভাষা সম্পর্কে তার বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করলে ‘নো, নো’ বলে প্রতিবাদ করে ওঠেন অনেকে। তীব্রতর হতে থাকে রাষ্ট্রভাষা বাংলার আন্দোলন।
যার চ’ড়ান্ত রূপ পায় ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি।

সেদিন ভাষার দাবিতে ছাত্র-জনতার উত্তাল মিছিলে গুলি চালায় পাকিস্তানি বর্বর বাহিনী। মায়ের ভাষার জন্য সেদিন প্রাণ উৎসর্গ করেন, সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য