ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী আয়ুর্বেদে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ  গবেষণা কেন্দ্র গঠনের প্রস্তাব এখনও ডিজেলে লোকসান লিটারে ৭০ টাকা : রিজভী জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যে তেমন প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: মৎস্যমন্ত্রী বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় ভারতকে পণ্য আমদানি বাড়ানোর তাগিদ জাতিসংঘে জিয়া পরিবার বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরের চার দশকের পথচলা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি   কিলোমিটার প্রতি বাসভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ, এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, সভ্যতার লজ্জা,  ইতিহাসের কলঙ্কময় দিন

আমিনুল হক, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০১:৩৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ অগাস্ট ২০২১ ৫৮৭ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

‘ লক্ষ্য ছিলেন শেখ হাসিনা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের গ্রেনেড হামলা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত, মাহবুবার ক্ষিণ স্বর হৃদয়ে রক্ষরণ ঘটায়’

আগস্ট বাঙালি জাতির শোকের মাস। পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে মাসব্যাপী নানা আয়োজনে পালন করা হয় এই শোকের মাসটি। ২০০৪ সাল। ক্ষমতার মসনদে বিএনপি-জামাতজোট। ‘সন্ত্রাসবিরোধী

শান্তি মিছিলের’ আয়োজন করা হয়েছিলো তাও ২১ আগস্ট। ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামেনে ট্রাকে মঞ্চ করেই শুরু হয়েছিলো সমাবেশ। দূরদুরান্ত থেকে ছুটে

এসেছিলো দলীয় নেতাকর্মীরা। একের পর এক বক্তৃতা চলছে। শেষ বক্তব্য তৎকালীন সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা। সমাবেশের চারিদিকে লোকারণ্য। সন্ধ্যার আগ মুহূর্ত, বক্তব্যও

শেষের দিকে। আয়োজন চলছে শান্তি মিছিলের। এমন মুহূর্তেই ঘটে গেলো ইতিহাসের বিভীষিকাময় ঘটনা।

একের এক গ্রেনেড উড়ে এসে আকাশ-বাতাশ কাঁপিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে। চারিদিকে ধোয়াচ্ছন্ন পরিবেশ। দিকদ্বিগ ছোটাছুটি। আর্তচিৎকার, রক্তের স্রোত। মানুষের ঘোঙানি, ছিন্নভিন্ন মানবদেহ এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। জীবনের মায়াত্যাগ করে প্রিয় নেত্রীকে ঘিরে  গাড়ি তোলেন

নেতাকর্মীরা। একের পর এক অ্যাম্বেলেন্স আহতদের বহন করে চলেছে। হাসপাতালের বিছানায় রক্তাক্ত মানুষের কাঁতরানো আর আর্তচিৎকারে ভারী হওয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ।

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২২জনের মৃত্যু ঘটে। আহতর তালিকা ৫০০ ছাড়িয়ে যায়। বহুমানুষ আজও গ্রেনেডের স্লিন্টার দেহে নিয়ে যন্ত্রণাকাতর দিন কাটাচ্ছেন। জাতির পিতা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের গ্রেনেড হামলা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত।

বৃহস্পতিবার মাহবুবা পারভীনের সঙ্গে যখন মুঠো ফোনে কথা বলছিলাম, তখন বোঝা যাচ্ছিল তিনি খুবই অসুস্থ। ধীরে ধীরে তার স্বর ক্ষিণ হয়ে আসছে। কথা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। জানালেন, দেহে

স্লিন্টারগুলোর যন্ত্রণা দিন দিন বাড়ছে। কথা বলতে গিয়ে নিশ্বাস খাটো হয়ে আসে মাহবুবা পারভীনের। জীবন যুদ্ধে লিপ্ত এক যোদ্ধা  সেদিনের স্মৃতি আর অসহ্য যন্ত্রণাকে ধারণ করেই বেচে আছেন। ২১

আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা প্রতিটি মুহূর্ত তাড়া করে ফিরে মাহবুবাকে। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি কাঁপছিলেন। এটাই যেন তার প্রতিবাদ। ঢাকার অদূরে সাভার পৌর মহল্লার ব্যাংক

কলোনির ৩৬-ই নম্বর বাড়িতে বসবাস করছেন এই জীবনযোদ্ধা। তার শরীর দিন দিন খারাপের দিকে। অনেক উন্নত চিকিৎসার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। মাহাবুবা পারভীনের দেহে বাসা বেধেছে ১৮’শ স্প্লিন্টার। ঘটনার পর মাহবুবার অবস্থা দেখে কেউ ভাবতেই পারেনি তিনি

বেচে আছেন। রিকশা ভ্যানে করে অন্য সবার সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেই সময় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আশীষ কুমার মজুমদারকে  পরিবারের সদস্যরা ফোন দেয়। ঢাকা

মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে মরদেহের খোঁজ করছিলেন। পরে এসে দেখেন দ্বিতীয় তলার মেঝেতে পড়ে রয়েছেন তিনি। এরপর থেকেই একটা  চিকিৎসায় হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরছেন, স্প্লিন্টারের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থা দেখে হাসপাতালগুলো ভর্তি নিচ্ছিল না। অবশেষে

আমার চিকিৎসার ঠিকানা হলো বঙ্গবন্ধু মেডিকেল শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল। তারপর উন্নত চিকিৎসায় কলকতার পিয়ারলেস হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে

কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানায় তার মাথায় ৩টা স্প্লিন্টার রয়েছে। সেই সঙ্গে শরীরেও প্রায় ১৮ স্প্লিন্টার রয়েছে। ২০০৪ সালে মাহবুবা ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা

ছিলেন। তবে, বর্তমান  ঢাকা জেলা (উত্তরের) স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি। রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার সুবাদে ঢাকায় সভানেত্রীর বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতেন তিনি। ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সমাবেশে মাহবুবা অংশ নিয়েছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :