ঢাকা ০৬:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা  মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপসের দাবি, এমপি নজরুলের জামিন নামঞ্জুর  হরমুজ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, দাবি ইরানের ফুটপাতে হাঁটা পথচারীর অধিকার এটি কারও ব্যক্তিগত সম্পদ নয় সময় হলেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর: দীনেশ ত্রিবেদী দুর্গাপূজার ছুটি একদিন বাড়ানোর উদ্যোগে স্বস্তির বার্তা হিন্দু সম্প্রদায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বে জবাবদিহিতা পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশ বর্তমান সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী নৃশংস ৭ বছরের শিশুর হাত চেপে ধরেন স্ত্রী আঙ্গুল কাটেন পুলিশ  কনস্টেবল

হরমুজ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, দাবি ইরানের

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:০৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে

হরমুজ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, দাবি ইরানের

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হরমুজ প্রণালির আশপাশ থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো অন্তত ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংগঠনটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন।

মোহেব্বির ভাষ্য, আগে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে ৩০ থেকে ৪০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ টহল দিলেও বর্তমানে সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজ নেই। এমনকি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতেও কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ নেই বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, যুদ্ধ শুরুর পর পারস্য উপসাগর ও হরমুজে মার্কিন নৌ উপস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং জাহাজগুলো প্রণালির মুখ থেকে অন্তত ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

মোহেব্বি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হুমকি সামরিক পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র আড়াল করে নিজেদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা ও সাংগঠনিক কাঠামো মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে আইআরজিসির এসব বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি। মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। রয়টার্সের ৩০ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে, আইআরজিসির এই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, জাহাজ চলাচল এবং ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান শর্তসাপেক্ষে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনাও হয়।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) হিসাবে, ২০২৫ সালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য এ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে, যা সমুদ্রপথে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশও এ পথ দিয়ে যায়।

চলমান সংঘাতে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে প্রণালিতে সামরিক উপস্থিতি ও নৌ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবির পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হরমুজ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, দাবি ইরানের

আপডেট সময় : ০৬:০৬:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হরমুজ প্রণালির আশপাশ থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো অন্তত ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংগঠনটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন।

মোহেব্বির ভাষ্য, আগে হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে ৩০ থেকে ৪০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ টহল দিলেও বর্তমানে সেখানে মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজ নেই। এমনকি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটিতেও কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ নেই বলে দাবি করেন তিনি। তার মতে, যুদ্ধ শুরুর পর পারস্য উপসাগর ও হরমুজে মার্কিন নৌ উপস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং জাহাজগুলো প্রণালির মুখ থেকে অন্তত ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

মোহেব্বি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হুমকি সামরিক পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র আড়াল করে নিজেদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা ও সাংগঠনিক কাঠামো মার্কিন সামরিক বাহিনীর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে আইআরজিসির এসব বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি। মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। রয়টার্সের ৩০ সেপ্টেম্বরের এক প্রতিবেদনে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ৫০০ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে, আইআরজিসির এই দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, জাহাজ চলাচল এবং ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরান শর্তসাপেক্ষে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনাও হয়।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) হিসাবে, ২০২৫ সালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও তেলজাত পণ্য এ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে, যা সমুদ্রপথে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় ২৫ শতাংশ। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশও এ পথ দিয়ে যায়।

চলমান সংঘাতে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে প্রণালিতে সামরিক উপস্থিতি ও নৌ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবির পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে।