আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপসের দাবি, এমপি নজরুলের জামিন নামঞ্জুর
- আপডেট সময় : ০৬:২৮:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের আপস-মীমাংসা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।
বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান বলেন, বাদীপক্ষের সঙ্গে ইতোমধ্যে আপস-মীমাংসা হয়েছে এবং দুই আসামির জামিনে বাদীর কোনো আপত্তি নেই।
আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, “গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলামের আপসের শর্তে জামিন চেয়েছিলাম। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন।”
শুনানি শেষে আদালত মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পরে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, মাকছুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত জুনে ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মরিয়ম সংসদ ভবনের বিপরীতে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ইসলাম ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাম মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। বিষয়টি মরিয়ম তার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মরিয়মকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান।
মামলার পর শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান। একই রাতে মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর আদালত গাজী নজরুল ইসলামকে আরও চার দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ মামলার অপর আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে মামলায় আনা অভিযোগগুলো আদালতে বিচারাধীন এবং অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

















