প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বে জবাবদিহিতা পরামর্শক ব্যয় কমানোর নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০৮:০৪:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
সচিবালয়ে একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত।
ডিপিপিতে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গুরুত্ব
তিন বিমানবন্দর প্রকল্পে অনিয়ম তদন্তের নির্দেশ
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অযৌক্তিক বিলম্ব বন্ধ এবং প্রকল্পের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের সময় পরামর্শক খাতে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার কথা জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত পরামর্শক ব্যয় পর্যালোচনা করে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি বলেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো যাবে না। যথাযথ কারণ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলে এর জন্য দায়ী কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
এখন থেকে কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে নির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে। সেই কারণ যথাযথ কি না, তা কঠোরভাবে যাচাই করা হবে বলেও জানান তিনি।
সরকার অনুমোদিত সময়সীমা ও নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে চলমান এবং নতুন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলেও জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে নতুন করে গুরুত্ব
প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়েও একনেক সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
জোনায়েদ সাকি বলেন, সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যাপ্ত গভীরতা ও কারিগরি নির্ভুলতার সঙ্গে করতে হবে। এর ফলে প্রকল্প অনুমোদনের পর নকশা পরিবর্তন, অতিরিক্ত ব্যয় এবং বাস্তবায়নকালে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।
অর্থাৎ প্রকল্প গ্রহণের আগেই এর প্রয়োজনীয়তা, কারিগরি দিক, সম্ভাব্য ব্যয় এবং বাস্তবায়নযোগ্যতা যথাযথভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিন বিমানবন্দর প্রকল্পে অনিয়ম তদন্ত
এদিকে যশোর, সৈয়দপুর ও শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) যে বাজেট সমন্বয় করেছিল, তা যথাসময়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) প্রতিফলিত হয়নি। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তিনি এ বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি জানান, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতোমধ্যে আটটি প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছে। আরও চারটি প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দেওয়া হবে।
তদন্ত প্রতিবেদনগুলো পরবর্তী প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।
রংপুরে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প
আঞ্চলিক বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন জোনায়েদ সাকি।
তিনি জানান, রংপুর বিভাগের গ্রামীণ এলাকায় সড়ক, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নত হলে স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে, এমন লক্ষ্য নিয়েই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আট অটোমেশন উদ্যোগে সমন্বয়ের উদ্যোগ
ডিজিটাল শাসন ও আর্থিক তদারকি আরও জোরদার করতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির অধীনে আটটি গুরুত্বপূর্ণ অটোমেশন উদ্যোগকে সমন্বিত করার কাজও করছে সরকার।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা (আইবাস++), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান নম্বর, ওয়ান ওয়ালেট’ সংক্রান্ত অটোমেশন ব্যবস্থা।
এসব ডিজিটাল ব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন তথ্য ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বিতরণে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ কমানো এবং ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল তদারকি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, অটোমেশন ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করা গেলে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও তদারকি বাড়বে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ (এনপিএল) ও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধেও তদারকি জোরদার করতে এসব উদ্যোগ সহায়ক হবে।
একনেক সভায় দেওয়া নির্দেশনা ও সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো থেকে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় ও ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ, প্রকল্প গ্রহণের আগে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই, অনিয়মের তদন্ত এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
প্রকল্পের অনুমোদিত সময় ও বাজেটের মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অযৌক্তিক বিলম্বের জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার বিষয়টিও এবার গুরুত্ব পেয়েছে।












