১৮ দেশের বাজারকেন্দ্রিক রপ্তানি কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার
- আপডেট সময় : ০৫:১২:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
দেশের রপ্তানি আয় বাড়ানো, তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবার পরিধি বাড়াতে সমন্বিত রপ্তানি কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বিশ্বের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক গন্তব্যকে চিহ্নিত করে দেশভিত্তিক রপ্তানি কৌশল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেছেন, রপ্তানিকে আরও শক্তিশালী, বহুমুখী ও টেকসই করতে পণ্য ও বাজার দুই ক্ষেত্রেই বৈচিত্র্য আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচিত ১৮টি দেশের বাজার সম্ভাবনা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা, প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান এবং বাংলাদেশের করণীয় বিশ্লেষণ করে পৃথক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।
সোমবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ডাইভার্সিফিকেশন স্ট্র্যাটেজি: প্রোডাক্ট অ্যান্ড মার্কেট ডাইভার্সিফিকেশন অ্যাক্রস ১৮ কি ট্রেডিং ডেস্টিনেশনস’ শীর্ষক কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি গন্তব্যগুলোতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রতিটি বাজারে প্রবেশের বাধা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ জন্য বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উইংয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনাময় পণ্য, রপ্তানি প্রতিবন্ধকতা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
এসব তথ্য সমন্বয় করে প্রতিটি দেশের জন্য পৃথক প্রোফাইল ও বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে। বাণিজ্য সচিব জানান, বাজার বিশ্লেষণে একটি নির্দিষ্ট ম্যাট্রিক্স অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির অংশ, নির্দিষ্ট পণ্যে প্রধান প্রতিযোগী দেশ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উপায় এবং বাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাজারের বিশদ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনাময় পণ্য চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নির্ধারণ করা যাবে।
সেবা রপ্তানিতেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ
কর্মশালায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে পণ্যের পাশাপাশি সেবা খাতকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি ও সক্ষমতাবর্ধক সেবা খাতের বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কার্যকর সহায়তা ও নীতিগত উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন ও সেবা উভয় খাতেই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্য ও বাজার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাংলাদেশের পণ্য ও সেবা রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।
পোশাকের বাইরে নতুন খাতে সম্ভাবনা
কর্মশালায় বিজিএমইএ, ফ্লেক্সা, সিপিডি, ওয়ালটন গ্রুপ, বাংলাদেশ এগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতসহ বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।
আলোচনায় তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, কৃষি ও কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিভিন্ন সেবা খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক গন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশভিত্তিক রপ্তানি কৌশল বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো আরও বিস্তৃত হবে। নতুন পণ্য ও বাজার তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে। দীর্ঘমেয়াদে এ উদ্যোগ তৈরি পোশাকনির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী ও টেকসই রপ্তানি কাঠামো গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।















