প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, সুচিকিৎসা, সামাজিক মর্যাদা এবং নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রবীণদের জীবনকে আরও সুরক্ষিত ও স্বস্তিময় করতে বয়স্ক ভাতার পরিধি সম্প্রসারণের পাশাপাশি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও সুদৃঢ় করার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আগামীকাল ১ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’ (The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives)।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বলেন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতি এবং আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থার বিকাশের ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষের গড় আয়ু ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। দীর্ঘায়ু মানবজীবনের জন্য যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে, তেমনি দীর্ঘ জীবনকে নিরাপদ, সুস্থ, সক্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং পারিবারিক সহায়তার প্রচলিত ব্যবস্থাগুলোকে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পুনর্বিন্যস্ত করার প্রয়োজনীয়তাও আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, প্রবীণ নাগরিকেরা একটি সমাজের অতীতের জীবন্ত স্মারক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার মূল্যবান ভাণ্ডার। তাঁদের ত্যাগ, শ্রম, অভিজ্ঞতা ও জীবনবোধের ওপর ভর করেই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, যত্ন ও দায়িত্বশীলতা কোনো আনুষ্ঠানিক কর্তব্য নয়; এটি আমাদের সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবীণদের স্বার্থ ও কল্যাণের বিষয়ে সরকার সচেতন ও আন্তরিক। একটি কল্যাণমুখী, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বার্ধক্যকে নিরাপদ ও সম্মানজনক করে তুলতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে দরিদ্র, অসহায় ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রবীণদের জীবনের শেষ অধ্যায় যেন অবহেলা, অনিশ্চয়তা কিংবা নিঃসঙ্গতার ভারে ভারাক্রান্ত না হয়—সে লক্ষ্যে তাঁদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি এর আওতা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রবীণদের পরিবার ও সমাজের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁদের শ্রম, ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার উত্তরাধিকার বহন করেই বর্তমান প্রজন্ম এগিয়ে চলেছে। তাঁদের জীবন থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা জাতির জন্য এক অমূল্য সম্পদ। তাই একটি কল্যাণময়, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবীণ নাগরিকদের প্রতি যত্নশীল, সম্মানজনক ও সহমর্মী দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।
তিনি বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—এই তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা আরও গভীর ও সুদৃঢ় করা প্রয়োজন। তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজের মূলধারায় সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার, কল্যাণ ও স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের মানবিক মূল্যবোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ যত বেশি লালিত ও সমুন্নত থাকবে, প্রবীণদের প্রতি আমাদের যত্ন, সম্মান ও মর্যাদাবোধ তত বেশি সুদৃঢ় হবে।
তিনি বলেন, বার্ধক্য জীবনের কোনো পরিসমাপ্তি নয়; বরং এটি জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও অর্জনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য সময়। প্রবীণদের সম্মান করা মানে আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎকেও সম্মান করা। তাই এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে বয়স কখনো মানুষের মর্যাদা, অধিকার কিংবা সম্ভাবনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের এই তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য যেখানে তরুণ কিংবা প্রবীণ, বয়সের সীমারেখা অতিক্রম করে প্রতিটি মানুষ তাঁর সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ, সম্মানজনক, পরিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য ও কল্যাণময়তা কামনা করেন।












