ঢাকা ০১:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এখনও ডিজেলে লোকসান লিটারে ৭০ টাকা : রিজভী জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যে তেমন প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: মৎস্যমন্ত্রী বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় ভারতকে পণ্য আমদানি বাড়ানোর তাগিদ জাতিসংঘে জিয়া পরিবার বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরের চার দশকের পথচলা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি   কিলোমিটার প্রতি বাসভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ, এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ৮১তম জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ফারাক্কা লংমার্চ: নব্বই বছরের ভাসানীর ঐতিহাসিক প্রতিবাদ

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:৪৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ ১৮২ বার পড়া হয়েছে

মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৯৭৫ সালে ভারতের নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের জন্য এক গভীর পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সংকটের সূচনা করে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত এই বাঁধের উদ্দেশ্য ছিল কলকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষা করা।

কিন্তু এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। নদী শুকিয়ে যাওয়া, কৃষিতে ক্ষতি, মৎস্যসম্পদের ধ্বংস এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৬ মে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ-এর নেতৃত্ব দেন। তখন তার বয়স ছিল ৯০ বছরেরও বেশি।

অসুস্থতা থেকে সদ্য হাসপাতাল ফেরত এই নেতা ঘোষণা দেন, বাংলাদেশকে পানির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে তিনি আন্দোলনে নামবেন।

ফারাক্কা লংমার্চ: নব্বই বছরের ভাসানীর ঐতিহাসিক প্রতিবাদ
ফারাক্কা লংমার্চ: নব্বই বছরের ভাসানীর ঐতিহাসিক প্রতিবাদ

লংমার্চ বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭৬ সালের ২ মে ফারাক্কা মিছিল পরিচালনা জাতীয় কমিটি” গঠন করা হয়। এর আগে ভাসানী ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী-কে চিঠি লিখে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানান।

১৬ মে রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দান থেকে হাজার-হাজার মানুষের অংশগ্রহণে লংমার্চ শুরু হয়। রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হয়ে শিবগঞ্জ অভিমুখে প্রায় ৬৪ মাইল পথ অতিক্রম করার পরিকল্পনা ছিল।

প্রবল বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও জনস্রোত থেমে যায়নি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন।

সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন তাঁর স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেন, মাদ্রাসা ময়দানে জনসমুদ্রের সামনে ভাসানী সংক্ষিপ্ত ভাষণে ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানান। পথে পথে সাধারণ মানুষ মিছিলকারীদের পানি ও খাবার দিয়ে সহায়তা করেন।

ফারাক্কা লংমার্চ: নব্বই বছরের ভাসানীর ঐতিহাসিক প্রতিবাদ
ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার পদ্মা নদীর উপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচ দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে গাড়ি চলতে পারে : ছবি সংগ্রহ

কানসাটের জনসভায় ভাসানী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের পানির ন্যায্য দাবি অগ্রাহ্য করে, তবে ভারতীয় পণ্য বর্জনের আন্দোলন শুরু হবে।

তবে সীমান্তে উত্তেজনা এড়াতে তিনি মিছিলকারীদের সীমান্তের কাছে যেতে নিষেধ করেন। এভাবেই শেষ হয় ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ।

ফারাক্কা আন্দোলন বাংলাদেশের পানির অধিকার প্রশ্নকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনায় নিয়ে আসে। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবুও শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রাপ্তি নিয়ে এখনও অভিযোগ রয়েছে।

ফারাক্কা লংমার্চ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না; এটি ছিল বাংলাদেশের অস্তিত্ব, পরিবেশ ও ন্যায্য পানির অধিকারের পক্ষে এক ঐতিহাসিক গণআন্দোলন।

নব্বই বছর বয়সে ভাসানীর নেতৃত্ব আজও সংগ্রাম ও সাহসের অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :