ঢাকা ১১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নদীদূষণ রোধে পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী হাসিনার বক্তব্য ‘সমর্থন করে না  ভারত,  জানালেন রণধীর জয়সওয়াল হাইকমিশনের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, সতর্ক করলো ভারতীয় হাইকমিশন দ্বিতীয় চেষ্টায় ইলিয়াস আলীকে অপহরণ, নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউল: প্রধান কৌঁসুলি ঢাকায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সময় চিকিৎসককে হাতেনাতে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী  ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তফসিল ঘোষণা ভারত থেকে পাইপলাইনে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব বাংলাদেশের দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ঢাকার বিপৎসীমার ওপরে তিস্তা কুশিয়ারা উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কায় ১০ জেলা

দেড় কোটি মানুষ ছাড়ছে ঢাকা, ঈদে জনস্রোত সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ

আমিনুল হক ভূইয়া
  • আপডেট সময় : ০৫:১১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ১৫৮ বার পড়া হয়েছে

ঈদযাত্রা : ফাইল ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আসন্ন  ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে সরকার টানা সাতদিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। সম্ভাব্য ঈদের দিন ২১ মার্চ, আর এর আগে ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি। দীর্ঘ এই ছুটির কারণে ইতিমধ্যেই ঢাকায় বসবাসকারী অনেকেই স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। এবারের ঈদযাত্রা বিশেষভাবে ভিন্ন, কারণ ধাপে ধাপে প্রায় দেড় কোটি মানুষ  ঢাকা ছাড়বেন, যা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ।

সরকার এ বিপুল জনস্রোত সামাল দিতে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। এই ছুটি ধাপে ধাপে মানুষকে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করবে, যাতে অযথা যানজট ও বিপদ এড়ানো যায়। নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সর্বক্ষণের জন্য প্রস্তুত থাকবে। ঈদের ছুটিতে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, অন্যান্য জ্বালানি,  ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা, ডাক, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনকারী কর্মী ও যানবাহন এবং  হাসপাতাল ও জরুরি সেবা কার্ক্রম চালু থাকবে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদযাত্রার সময় দূরপাল্লার সড়কে প্রায় ৮০ হাজার বাস চলাচল করবে। এর মধ্যে লক্কড়-ঝক্কর বাসের সংখ্যা ১৫ হাজার, যার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে এস আলম ও শ্যামলী পরিবহন। দীর্ঘ ছুটির কারণে এই বিশাল জনস্রোত পরিচালনা করা প্রশাসনের জন্য চরম চ্যালেঞ্জ। মোজাম্মেল হক চৌধুরী  বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ছাড়বে।

সড়ক, মহাসড়ক, রেল ও নৌপথে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের আগে তিন দিন মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে, শুধুমাত্র নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন চলতে পারবে। এছাড়া, ঈদ উপলক্ষে সিএনজি ও ফিলিং স্টেশনগুলো সাতদিন আগেও এবং পাঁচদিন পরেও সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে। গার্মেন্টসসহ শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের ছুটি পর্যায়ক্রমে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত যাত্রী চাপ সৃষ্টি না হয়।

দেড় কোটি মানুষ ছাড়ছে ঢাকা, ঈদে জনস্রোত সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ”
ফাইল ছবি

সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনায় প্রশাসন, পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ আরও বেশি তৎপর। তিনি জানিয়েছেন, অল্প কয়েক দিনের মধ্যে দেড় কোটি মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা করা বড় চ্যালেঞ্জ, তবে সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করা হবে। সরকার একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

নির্ধারিত হারের বেশি ভাড়া আদায় করলে পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল হবে। ঈদের দিনসহ আগের ও পরের সাতদিন মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। চাঁদাবাজি ও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে। সব বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে চুরি-ছিনতাই, পকেটমার এবং অন্যান্য অপরাধ রোধে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ২০৭টি স্থান যানজট ঝুঁকিতে আছে। এসব জায়গায় আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকার সদরঘাট, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়া—এই পাঁচটি টার্মিনালে প্রয়োজনীয় সিসিটিভি ও সার্চলাইট স্থাপন করা হবে এবং তা সরাসরি মনিটরিং করা যাবে। মন্ত্রী আরও জানান, সব বাস টার্মিনাল, মহাসড়ক ও মোটরযান চলাচল নিয়ন্ত্রণে থাকবে। লক্কড়-ঝক্কড়, ফিটনেসবিহীন বা ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না। ঈদের দিনসহ পূর্বের তিন দিন এবং পরের তিন দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে, শুধুমাত্র পচনশীল ও ভোগ্যপণ্যবাহী যানবাহন চলবে।

এবারের ঈদযাত্রা শুধু আনন্দ নয়, এটি ধৈর্য, সচেতনতা ও সুশৃঙ্খলতা পরীক্ষারও। দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাবে, কিন্তু সরকারের দৃঢ় পরিকল্পনা ও তৎপর প্রশাসনের কারণে প্রত্যেক যাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও মনোজ্ঞ হবে। এই বিপুল জনস্রোতের মাঝে সবাই যেন ঈদের আনন্দ নিঃশ্বাসের মতো গভীরভাবে অনুভব করতে পারে, সেটিই লক্ষ্য।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

দেড় কোটি মানুষ ছাড়ছে ঢাকা, ঈদে জনস্রোত সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০৫:১১:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

আসন্ন  ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে সরকার টানা সাতদিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। সম্ভাব্য ঈদের দিন ২১ মার্চ, আর এর আগে ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি। দীর্ঘ এই ছুটির কারণে ইতিমধ্যেই ঢাকায় বসবাসকারী অনেকেই স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। এবারের ঈদযাত্রা বিশেষভাবে ভিন্ন, কারণ ধাপে ধাপে প্রায় দেড় কোটি মানুষ  ঢাকা ছাড়বেন, যা একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ।

সরকার এ বিপুল জনস্রোত সামাল দিতে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে। এই ছুটি ধাপে ধাপে মানুষকে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করবে, যাতে অযথা যানজট ও বিপদ এড়ানো যায়। নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সর্বক্ষণের জন্য প্রস্তুত থাকবে। ঈদের ছুটিতে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, অন্যান্য জ্বালানি,  ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা, ডাক, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনকারী কর্মী ও যানবাহন এবং  হাসপাতাল ও জরুরি সেবা কার্ক্রম চালু থাকবে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদযাত্রার সময় দূরপাল্লার সড়কে প্রায় ৮০ হাজার বাস চলাচল করবে। এর মধ্যে লক্কড়-ঝক্কর বাসের সংখ্যা ১৫ হাজার, যার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে এস আলম ও শ্যামলী পরিবহন। দীর্ঘ ছুটির কারণে এই বিশাল জনস্রোত পরিচালনা করা প্রশাসনের জন্য চরম চ্যালেঞ্জ। মোজাম্মেল হক চৌধুরী  বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ছাড়বে।

সড়ক, মহাসড়ক, রেল ও নৌপথে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদের আগে তিন দিন মহাসড়কে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে, শুধুমাত্র নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন চলতে পারবে। এছাড়া, ঈদ উপলক্ষে সিএনজি ও ফিলিং স্টেশনগুলো সাতদিন আগেও এবং পাঁচদিন পরেও সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে। গার্মেন্টসসহ শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের ছুটি পর্যায়ক্রমে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে একসঙ্গে অতিরিক্ত যাত্রী চাপ সৃষ্টি না হয়।

দেড় কোটি মানুষ ছাড়ছে ঢাকা, ঈদে জনস্রোত সামাল দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ”
ফাইল ছবি

সড়ক ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা ব্যবস্থাপনায় প্রশাসন, পুলিশ, পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ আরও বেশি তৎপর। তিনি জানিয়েছেন, অল্প কয়েক দিনের মধ্যে দেড় কোটি মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা করা বড় চ্যালেঞ্জ, তবে সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করা হবে। সরকার একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

নির্ধারিত হারের বেশি ভাড়া আদায় করলে পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল হবে। ঈদের দিনসহ আগের ও পরের সাতদিন মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। চাঁদাবাজি ও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে। সব বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে চুরি-ছিনতাই, পকেটমার এবং অন্যান্য অপরাধ রোধে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ২০৭টি স্থান যানজট ঝুঁকিতে আছে। এসব জায়গায় আগেভাগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকার সদরঘাট, মহাখালী, সায়েদাবাদ, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়া—এই পাঁচটি টার্মিনালে প্রয়োজনীয় সিসিটিভি ও সার্চলাইট স্থাপন করা হবে এবং তা সরাসরি মনিটরিং করা যাবে। মন্ত্রী আরও জানান, সব বাস টার্মিনাল, মহাসড়ক ও মোটরযান চলাচল নিয়ন্ত্রণে থাকবে। লক্কড়-ঝক্কড়, ফিটনেসবিহীন বা ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলতে দেওয়া হবে না। ঈদের দিনসহ পূর্বের তিন দিন এবং পরের তিন দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরি চলাচল বন্ধ থাকবে, শুধুমাত্র পচনশীল ও ভোগ্যপণ্যবাহী যানবাহন চলবে।

এবারের ঈদযাত্রা শুধু আনন্দ নয়, এটি ধৈর্য, সচেতনতা ও সুশৃঙ্খলতা পরীক্ষারও। দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাবে, কিন্তু সরকারের দৃঢ় পরিকল্পনা ও তৎপর প্রশাসনের কারণে প্রত্যেক যাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও মনোজ্ঞ হবে। এই বিপুল জনস্রোতের মাঝে সবাই যেন ঈদের আনন্দ নিঃশ্বাসের মতো গভীরভাবে অনুভব করতে পারে, সেটিই লক্ষ্য।