ঢাকা ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এখনও ডিজেলে লোকসান লিটারে ৭০ টাকা : রিজভী জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যে তেমন প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: মৎস্যমন্ত্রী বাণিজ্য ভারসাম্য রক্ষায় ভারতকে পণ্য আমদানি বাড়ানোর তাগিদ জাতিসংঘে জিয়া পরিবার বাংলাদেশের কণ্ঠস্বরের চার দশকের পথচলা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি   কিলোমিটার প্রতি বাসভাড়া বাড়ল ১৭ পয়সা দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ, এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ট্রাক ভাড়া বেড়েছে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ৮১তম জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণু ঠেকানো না গেলে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে : শেখ হাসিনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মে ২০২১ ২৬১ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি: পিএমও

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণু ঠেকানো না গেলে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সে বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাতটি পদক্ষেপে জোর দিতে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স (এএমআর) বিষয়ে ‘ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপ’ এর দ্বিতীয় সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি একথা বলেন। কোভিড-১৯ মহামারী বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য সঙ্কট, যা এরই মধ্যে ত্রিশ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছে।

তবে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স মহামারীর আকার নিলে তা পুরো বিশ্বের জনস্বাস্থ্যের আরও বড় ক্ষতি করবে। এটা কেবল মানুষ, পশুপাখি আর উদ্ভিদকে বিপদে ফেলবে না, খাদ্য নিরাপত্তা এবং এসডিজি অর্জনের পথেও হুমকি তৈরি করবে।

বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটোলির সঙ্গে গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শেখ হাসিনা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স এর হুমকি মোকাবেলা এবং একটি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তুলতে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই গ্রুপের উদ্বোধনী সভার পাশাপাশি গত সপ্তাহে সাধারণ পরিষদের বৈঠকে কিছু পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন এএমআর মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে।

এদিন নতুন কিছু বিষয়ে তিনি বিশ্ব নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যেগুলোতে নজর দেওয়া উচিৎ বলে তিনি মনে করেন। এর মধ্যে-অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স কনটেইনমেন্টের (এআরসি) লক্ষ্য অর্জনে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক এবং জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যপ্রদান ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বা পরজীবী প্রতিরোধী ওষুধের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কয়েক স্তরের নীতিমালা এবং নীতি কাঠামো গড়ে তোলা। এএমআর বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জ্ঞান ও প্রযুক্তি সহায়তা বিনিময়।

প্রযুক্তি বিনিময় ও মালিকানা ভাগাভাগির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যের এবং কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য চিকিৎসা সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

এএমআর নিয়ন্ত্রণে যথাযথ মনোযোগ ও পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে পর্যাপ্ত ও টেকসই অর্থায়ন। এএমআর প্রতিরোধে বিনিয়োগের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক, সাশ্রয়ী এবং টেকসই সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তোলা।

ডব্লিউএইচও, এফএও এবং ওআইই জীবাণুর ‘ওষুধ প্রতিরোধী’ হয়ে ওঠার বিপদ ঠেকাতে বিস্তৃত ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে যে কৌশল নির্ধারণের কাজ করছে, তার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশে এ বিষয়ে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স কনটেইনমেন্ট-এআরসি সম্পর্কিত ছয় বছর মেয়াদী জাতীয় কৌশলপত্র এবং জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছি। এই পরিকল্পনাগুলোর লক্ষ্য মানব স্বাস্থ্য, গবাদি পশু, মৎস্য ও কৃষি খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

আমরা ২০১৯ সাল থেকে ডব্লিউএইচও গ্লাস প্ল্যাটফর্মে এএমআর ডেটা সরবরাহ করছি। এছাড়া, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স সম্পর্কে গণমানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে আমরা গণমাধ্যমকেও সম্পৃক্ত করছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণু ঠেকানো না গেলে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে : শেখ হাসিনা

আপডেট সময় : ১১:১০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ মে ২০২১

ছবি: পিএমও

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণু ঠেকানো না গেলে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সে বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাতটি পদক্ষেপে জোর দিতে বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বাংলাদেশের সরকার প্রধান।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স (এএমআর) বিষয়ে ‘ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপ’ এর দ্বিতীয় সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি একথা বলেন। কোভিড-১৯ মহামারী বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য সঙ্কট, যা এরই মধ্যে ত্রিশ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটিয়েছে।

তবে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স মহামারীর আকার নিলে তা পুরো বিশ্বের জনস্বাস্থ্যের আরও বড় ক্ষতি করবে। এটা কেবল মানুষ, পশুপাখি আর উদ্ভিদকে বিপদে ফেলবে না, খাদ্য নিরাপত্তা এবং এসডিজি অর্জনের পথেও হুমকি তৈরি করবে।

বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটোলির সঙ্গে গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শেখ হাসিনা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স এর হুমকি মোকাবেলা এবং একটি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তুলতে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই গ্রুপের উদ্বোধনী সভার পাশাপাশি গত সপ্তাহে সাধারণ পরিষদের বৈঠকে কিছু পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমি বিশ্বাস করি, এই সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন এএমআর মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে।

এদিন নতুন কিছু বিষয়ে তিনি বিশ্ব নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যেগুলোতে নজর দেওয়া উচিৎ বলে তিনি মনে করেন। এর মধ্যে-অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স কনটেইনমেন্টের (এআরসি) লক্ষ্য অর্জনে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক এবং জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক পর্যবেক্ষণ এবং তথ্যপ্রদান ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বা পরজীবী প্রতিরোধী ওষুধের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কয়েক স্তরের নীতিমালা এবং নীতি কাঠামো গড়ে তোলা। এএমআর বিষয়ে কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জ্ঞান ও প্রযুক্তি সহায়তা বিনিময়।

প্রযুক্তি বিনিময় ও মালিকানা ভাগাভাগির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যের এবং কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য চিকিৎসা সুবিধা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

এএমআর নিয়ন্ত্রণে যথাযথ মনোযোগ ও পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে পর্যাপ্ত ও টেকসই অর্থায়ন। এএমআর প্রতিরোধে বিনিয়োগের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক, সাশ্রয়ী এবং টেকসই সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তোলা।

ডব্লিউএইচও, এফএও এবং ওআইই জীবাণুর ‘ওষুধ প্রতিরোধী’ হয়ে ওঠার বিপদ ঠেকাতে বিস্তৃত ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে যে কৌশল নির্ধারণের কাজ করছে, তার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশে এ বিষয়ে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স কনটেইনমেন্ট-এআরসি সম্পর্কিত ছয় বছর মেয়াদী জাতীয় কৌশলপত্র এবং জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছি। এই পরিকল্পনাগুলোর লক্ষ্য মানব স্বাস্থ্য, গবাদি পশু, মৎস্য ও কৃষি খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

আমরা ২০১৯ সাল থেকে ডব্লিউএইচও গ্লাস প্ল্যাটফর্মে এএমআর ডেটা সরবরাহ করছি। এছাড়া, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিসট্যান্স সম্পর্কে গণমানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে আমরা গণমাধ্যমকেও সম্পৃক্ত করছি।