ঢাকা ০৯:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মিথ্যাবাদীদের পক্ষে বিবৃতিদাতারাও সেই পর্যায়েই পড়ে: তথ্যমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১ ১৪১ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

সম্প্রচার ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছে, হেফাজত নেতারা যে নষ্ট এবং ভণ্ড, তা প্রমাণিত। কারণ মামুনুলের অনৈতিক, অনৈসলামী কাণ্ডকে তারা যেভাবে তড়িঘড়ি করে ইসলামের আলোকে বৈধতা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে, সেটিই তার প্রমাণ। একই সঙ্গে তাদের নেতৃত্বে হেফাজত সারাদেশে তাণ্ডব চালিয়েছে। তারা নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ি-সহায়-সম্পত্তি, যানবাহন পুড়িয়ে দিয়েছে। ভূমি অফিসে আগুন দিয়ে সাধারণ মানুষের জমির দলিলপত্র পোড়ানো ছাড়াও ফায়ার-রেল-পুলিশ স্টেশনে হামলা চালিয়েছে। মহাসড়কের ওপর দেয়াল তুলে দিয়েছে। অথচ নিজেদের এসব কর্মকান্ড অস্বীকার করেছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, হেফাজত যে এসব করেছে, সেই দিবালোকের মতো সত্যকেও তারা অস্বীকার করেছে। সুতরাং এই মিথ্যাবাদী, নষ্ট ও ভণ্ড নেতৃত্বের পক্ষ নিয়ে যারা বিবৃতি দেয়, তারাও সেই পর্যায়েই পড়ে।

 

হেফাজতে ইসলামের নেতাদের মুক্তির দাবিতে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টু রোডের বাসভবন থেকে বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত ‘আমাদের পৃথিবী পুণরুদ্ধার : বাংলাদেশ দৃষ্টিকোণ ও ভবিষ্যৎ পথযাত্রা’ শীর্ষক ওয়েবিনার শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

সাংবাদিকরা এ সময় করোনাকালে আওয়ামী লীগের মানুষের পাশে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে দলের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গত একবছর ধরে করোনাকালে আওয়ামী লীগ মানুষের পাশে রয়েছে এবং থাকবে। দলের পক্ষ থেকে প্রথম দফায় ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং কোটি কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের প্রায় একশ দশজন এমপি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন পাঁচজন। করোনায় কয়েকজন উপদেষ্টাসহ তিনজন প্রেসিডিয়াম সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এই আক্রান্ত ও মৃত্যুর কারণ আওয়ামী লীগ নেতারা করোনাকালে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর এখন তারা কৃষকের ধান কেটে গোলায় তুলে দিচ্ছেন।

অপরদিকে যারা বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে নীতিকথা বলেন, তাদের তো দূরবীণ দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মানুষের জন্য কিছু করবেন এমন কথা বলে বিদেশিদের কাছ থেকে অর্থ আনা, কয়েকজন দরিদ্রকে ডেকে ত্রাণ দেওয়ার ছবি বিদেশে পাঠানোই তাদের কাজ।

এর আগে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির ওয়েবিনারে দেওয়া বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের নিজেদের পৃথিবীর একচ্ছত্র অধিপতি ভাবা এবং সবকিছুকেই নিজের কাজে ব্যবহারের মনোবৃত্তি পরিহার করতে হবে। অন্যথায় পৃথিবী ও মানুষ দুইই বিপন্ন হবে।

পরিবেশরক্ষায় সকলের অংশগ্রহণ আবশ্যক এবং তা নিশ্চিত করতে পরিবেশ স্বাক্ষরতা (এনভায়রনমেন্ট লিটরেসি) বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই, বলেন ড. হাছান মাহমুদ।

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে এবং দলের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ চেয়ারম্যান ড. আতিক রহমানের মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন-গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কিউ এম মাহবুব, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমাদ, স্থপতি ইকবাল হাবিব ও গাজী টিভির প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মিথ্যাবাদীদের পক্ষে বিবৃতিদাতারাও সেই পর্যায়েই পড়ে: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১

 

সম্প্রচার ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছে, হেফাজত নেতারা যে নষ্ট এবং ভণ্ড, তা প্রমাণিত। কারণ মামুনুলের অনৈতিক, অনৈসলামী কাণ্ডকে তারা যেভাবে তড়িঘড়ি করে ইসলামের আলোকে বৈধতা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে, সেটিই তার প্রমাণ। একই সঙ্গে তাদের নেতৃত্বে হেফাজত সারাদেশে তাণ্ডব চালিয়েছে। তারা নিরীহ মানুষের ঘরবাড়ি-সহায়-সম্পত্তি, যানবাহন পুড়িয়ে দিয়েছে। ভূমি অফিসে আগুন দিয়ে সাধারণ মানুষের জমির দলিলপত্র পোড়ানো ছাড়াও ফায়ার-রেল-পুলিশ স্টেশনে হামলা চালিয়েছে। মহাসড়কের ওপর দেয়াল তুলে দিয়েছে। অথচ নিজেদের এসব কর্মকান্ড অস্বীকার করেছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, হেফাজত যে এসব করেছে, সেই দিবালোকের মতো সত্যকেও তারা অস্বীকার করেছে। সুতরাং এই মিথ্যাবাদী, নষ্ট ও ভণ্ড নেতৃত্বের পক্ষ নিয়ে যারা বিবৃতি দেয়, তারাও সেই পর্যায়েই পড়ে।

 

হেফাজতে ইসলামের নেতাদের মুক্তির দাবিতে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিন্টু রোডের বাসভবন থেকে বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটি আয়োজিত ‘আমাদের পৃথিবী পুণরুদ্ধার : বাংলাদেশ দৃষ্টিকোণ ও ভবিষ্যৎ পথযাত্রা’ শীর্ষক ওয়েবিনার শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

সাংবাদিকরা এ সময় করোনাকালে আওয়ামী লীগের মানুষের পাশে থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে দলের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গত একবছর ধরে করোনাকালে আওয়ামী লীগ মানুষের পাশে রয়েছে এবং থাকবে। দলের পক্ষ থেকে প্রথম দফায় ১ কোটি ২৫ লাখ মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং কোটি কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের প্রায় একশ দশজন এমপি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন পাঁচজন। করোনায় কয়েকজন উপদেষ্টাসহ তিনজন প্রেসিডিয়াম সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এই আক্রান্ত ও মৃত্যুর কারণ আওয়ামী লীগ নেতারা করোনাকালে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর এখন তারা কৃষকের ধান কেটে গোলায় তুলে দিচ্ছেন।

অপরদিকে যারা বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে নীতিকথা বলেন, তাদের তো দূরবীণ দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মানুষের জন্য কিছু করবেন এমন কথা বলে বিদেশিদের কাছ থেকে অর্থ আনা, কয়েকজন দরিদ্রকে ডেকে ত্রাণ দেওয়ার ছবি বিদেশে পাঠানোই তাদের কাজ।

এর আগে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির ওয়েবিনারে দেওয়া বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মানুষের নিজেদের পৃথিবীর একচ্ছত্র অধিপতি ভাবা এবং সবকিছুকেই নিজের কাজে ব্যবহারের মনোবৃত্তি পরিহার করতে হবে। অন্যথায় পৃথিবী ও মানুষ দুইই বিপন্ন হবে।

পরিবেশরক্ষায় সকলের অংশগ্রহণ আবশ্যক এবং তা নিশ্চিত করতে পরিবেশ স্বাক্ষরতা (এনভায়রনমেন্ট লিটরেসি) বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই, বলেন ড. হাছান মাহমুদ।

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে এবং দলের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ চেয়ারম্যান ড. আতিক রহমানের মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন-গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কিউ এম মাহবুব, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমাদ, স্থপতি ইকবাল হাবিব ও গাজী টিভির প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা।