ঢাকা ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪০২, দুর্ঘটনার শীর্ষে মোটরসাইকেল মতিঝিলে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি করে ১৭ হাজার ডলার ছিনতাই বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে, চারদিন দুই বেলা বসবে সংসদ সন্তানহারা পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা: প্রশাসনিক তৎপরতায় দায় স্বীকারে বাধ্য আদ-দ্বীন রামিসা হত্যা মামলার রায়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান বজ্রপাত দেশের বিভিন্ন জেলায় ১১ জনের প্রাণহানি এটি বাংলাদেশের ও গণতন্ত্রের জয় সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, জাতিসংঘের সভাপতি পদে জয়ী হয়ে আশ্বস্ত করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের জেরে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে মামলা আদ-দ্বীনে  ৬ নবজাতকের মৃত্যু: হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি

Tanuja Devvarman : প্রতিথযশা কণ্ঠশিল্পী তনুজা দেববর্মন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ মার্চ ২০২২ ৩৪৫ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুরে সুরে সমাজের মলিনতা দূর করতে চান

 

উদয়ন চৌধুরী

‘বঙ্গঅঞ্চলে কীর্তন বা সুরে সুরে ঈশ্বর বন্দনার ইতিহাস প্রাচীন। ইতিহাস বলছে, চর্যাগীতির পরই নাথগীতিতে বাংলা সঙ্গীতের উল্লেখযোগ্য স্থান। দিন দিন শ্রোতার সংখ্যা অসম্ভব আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যমে গান সংগ্রহ ও দেয়া-নেয়ার মাধ্যমে বর্তমান সঙ্গীত শিল্প প্রসারিত হয়েছে। চিত্ত বিনোদনের অন্যতম হচ্ছে সংগীত’

আজকের আলোচিত শিল্পী বহুমাত্রিক সঙ্গীতের সঙ্গী। সুরের সঙ্গেই তার বসবাস। সকাল-সন্ধ্যা অষ্টপ্রহর হৃদমন্দিরে কেবল সুরের আবহ। সুরের সাধনায় মশগুল হয়েই জীবন কাটিয়ে দেবার বাসনা তার। নাম তনুজা দেববর্মন। একের মধ্যে বহুগুণাবলি তার। একাধারে নিয়ম করে গানের চর্চা, ঘর-সংসার, সামাজিক দায়িত্ব পালন, সংগঠক এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের স্থায়ী বাসিন্দা। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য তার মন কাঁদে। অগ্রসর শ্রেণীর মানুষের জন্য সবার অলক্ষ্যে যতটুকু সম্ভব হাত বাড়ান।

গানের হাতে খড়ি যথারীতি পারিবারিকভাবেই। শৈশব থেকেই গানের নেশা তার। বলা যায় বাউল-বৈরাগীর একতারার সুর শুনে ছুটে যেতে বাড়ির কাছের আখড়ায়। মনোমুগ্ধ হতেন গানের সুরে। সুরমুর্ছূনায় হারিয়ে যেতেন। সেই সুর কি ছাড়া যায়? এ যে মনের গহিনের বাসিন্দা। তাই সুরের স্রোতস্বীনিতে গা ভাসালেন তনুজা।

লেখাপড়ার পাশাপাশি কঠিন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে গানের চর্চা। কোমলমতি তনুজার ধ্যান-জ্ঞান কেবলই গান। পড়ার টেবিলে, সতীর্থদের সঙ্গে আড্ডায়, খেলায় সবখানেই তার সঙ্গী সুর। সুর পাগল তনুজা দেববর্মন ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠার সিঁড়িতে হাটতে থাকেন।

জানালেন সবরকমের গানই করে থাকেন। বিশেষ করে শচীন কর্তার গানে তিনি অনন্য। লোকসঙ্গীত, আধুনিক এবং হিন্দ গানের সুর স্বয়ং বিধাতা তার গলায় তুলে দিয়েছে। লতা মঙ্গেশকরের গান যেন জন্মগতভাবেই তার গলায় ওঠে এসেছে। এক অসাধারণ কণ্ঠের অধিকারী তনুজা অবলীলায় যেকোন গান গেয়ে যেতে পারেন। জাতশিল্পী যাকে বলে।

শচীন কর্তার গান নিয়ে দু’বাংলায় সমান জনপ্রিয় এই শিল্পী। নিরহংকার, কোমল কণ্ঠের এই শিল্পী মানবকল্যাণে তার গানকে নিবেদীত করেছেন। একমাত্র সন্তানও তার গানের সঙ্গী। বাবা চলে যাবার পর সেই স্থানটি পুরণ করেছেন স্বামী। কখনও তনুজাকে বাবার কষ্টকে মনে করতে দেননি। এক অসাধারণ বন্ধনে গড়েছেন কাঙ্খিত সংসার। যেন শান্তির শীতল ছায়ায় সঙ্গীতের সাধনার মন্দির গড়েছেন তনুজা দেববর্মন।

ত্রিপুরার আগরতলার বাসিন্দা তনুজা। সঙ্গীতের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। জানালেন, তার সব কাজই মানবকল্যাণের জন্য। ‘মানবসেবার সেবাই ধর্ম, কর্মই জীবন’ এই মন্ত্রে দীক্ষিত তনুজা প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করতে সাহসিনী এক হার না মানা নারী। যিনি নিজেকে কখনও অবলা ভাবেন না।

 

বাবা-মায়ের পর স্বামীর অনুপ্রেরণাকে সঙ্গী করে নিজেকে সঙ্গীতাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাই বহুমাত্রিক অভিধাটি তাকেই মানায়। এ কারণেই আজকের সমাজে একজন আলোকিত নারী তিনি। নিজেকে আপন বলয়ে আত্মকেন্দ্রিকতার দেয়ালে বন্দী না রেখে তিনি সমর্পিত হয়েছেন বহুজনের মাঝে শুভ, সুন্দর, কল্যাণের মঙ্গলালোকে। তিনি আমাদের সমাজের শুভবোধের সারথী।

আগামী দিনগুলোতে সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কাজ করার সংকল্প রয়েছে শিল্পীর। তিনি মনে করেন, সংস্কৃতি হচ্ছে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। তাই ‘সুরে সুরে সমাজের মলিনতা দূর করতে চান’ প্রতিথযশা কণ্ঠশিল্পী তনুজা দেববর্মন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Tanuja Devvarman : প্রতিথযশা কণ্ঠশিল্পী তনুজা দেববর্মন

আপডেট সময় : ১১:২৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ মার্চ ২০২২

সুরে সুরে সমাজের মলিনতা দূর করতে চান

 

উদয়ন চৌধুরী

‘বঙ্গঅঞ্চলে কীর্তন বা সুরে সুরে ঈশ্বর বন্দনার ইতিহাস প্রাচীন। ইতিহাস বলছে, চর্যাগীতির পরই নাথগীতিতে বাংলা সঙ্গীতের উল্লেখযোগ্য স্থান। দিন দিন শ্রোতার সংখ্যা অসম্ভব আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যমে গান সংগ্রহ ও দেয়া-নেয়ার মাধ্যমে বর্তমান সঙ্গীত শিল্প প্রসারিত হয়েছে। চিত্ত বিনোদনের অন্যতম হচ্ছে সংগীত’

আজকের আলোচিত শিল্পী বহুমাত্রিক সঙ্গীতের সঙ্গী। সুরের সঙ্গেই তার বসবাস। সকাল-সন্ধ্যা অষ্টপ্রহর হৃদমন্দিরে কেবল সুরের আবহ। সুরের সাধনায় মশগুল হয়েই জীবন কাটিয়ে দেবার বাসনা তার। নাম তনুজা দেববর্মন। একের মধ্যে বহুগুণাবলি তার। একাধারে নিয়ম করে গানের চর্চা, ঘর-সংসার, সামাজিক দায়িত্ব পালন, সংগঠক এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের স্থায়ী বাসিন্দা। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য তার মন কাঁদে। অগ্রসর শ্রেণীর মানুষের জন্য সবার অলক্ষ্যে যতটুকু সম্ভব হাত বাড়ান।

গানের হাতে খড়ি যথারীতি পারিবারিকভাবেই। শৈশব থেকেই গানের নেশা তার। বলা যায় বাউল-বৈরাগীর একতারার সুর শুনে ছুটে যেতে বাড়ির কাছের আখড়ায়। মনোমুগ্ধ হতেন গানের সুরে। সুরমুর্ছূনায় হারিয়ে যেতেন। সেই সুর কি ছাড়া যায়? এ যে মনের গহিনের বাসিন্দা। তাই সুরের স্রোতস্বীনিতে গা ভাসালেন তনুজা।

লেখাপড়ার পাশাপাশি কঠিন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে গানের চর্চা। কোমলমতি তনুজার ধ্যান-জ্ঞান কেবলই গান। পড়ার টেবিলে, সতীর্থদের সঙ্গে আড্ডায়, খেলায় সবখানেই তার সঙ্গী সুর। সুর পাগল তনুজা দেববর্মন ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠার সিঁড়িতে হাটতে থাকেন।

জানালেন সবরকমের গানই করে থাকেন। বিশেষ করে শচীন কর্তার গানে তিনি অনন্য। লোকসঙ্গীত, আধুনিক এবং হিন্দ গানের সুর স্বয়ং বিধাতা তার গলায় তুলে দিয়েছে। লতা মঙ্গেশকরের গান যেন জন্মগতভাবেই তার গলায় ওঠে এসেছে। এক অসাধারণ কণ্ঠের অধিকারী তনুজা অবলীলায় যেকোন গান গেয়ে যেতে পারেন। জাতশিল্পী যাকে বলে।

শচীন কর্তার গান নিয়ে দু’বাংলায় সমান জনপ্রিয় এই শিল্পী। নিরহংকার, কোমল কণ্ঠের এই শিল্পী মানবকল্যাণে তার গানকে নিবেদীত করেছেন। একমাত্র সন্তানও তার গানের সঙ্গী। বাবা চলে যাবার পর সেই স্থানটি পুরণ করেছেন স্বামী। কখনও তনুজাকে বাবার কষ্টকে মনে করতে দেননি। এক অসাধারণ বন্ধনে গড়েছেন কাঙ্খিত সংসার। যেন শান্তির শীতল ছায়ায় সঙ্গীতের সাধনার মন্দির গড়েছেন তনুজা দেববর্মন।

ত্রিপুরার আগরতলার বাসিন্দা তনুজা। সঙ্গীতের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। জানালেন, তার সব কাজই মানবকল্যাণের জন্য। ‘মানবসেবার সেবাই ধর্ম, কর্মই জীবন’ এই মন্ত্রে দীক্ষিত তনুজা প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করতে সাহসিনী এক হার না মানা নারী। যিনি নিজেকে কখনও অবলা ভাবেন না।

 

বাবা-মায়ের পর স্বামীর অনুপ্রেরণাকে সঙ্গী করে নিজেকে সঙ্গীতাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাই বহুমাত্রিক অভিধাটি তাকেই মানায়। এ কারণেই আজকের সমাজে একজন আলোকিত নারী তিনি। নিজেকে আপন বলয়ে আত্মকেন্দ্রিকতার দেয়ালে বন্দী না রেখে তিনি সমর্পিত হয়েছেন বহুজনের মাঝে শুভ, সুন্দর, কল্যাণের মঙ্গলালোকে। তিনি আমাদের সমাজের শুভবোধের সারথী।

আগামী দিনগুলোতে সাংস্কৃতিক উন্নয়নে কাজ করার সংকল্প রয়েছে শিল্পীর। তিনি মনে করেন, সংস্কৃতি হচ্ছে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। তাই ‘সুরে সুরে সমাজের মলিনতা দূর করতে চান’ প্রতিথযশা কণ্ঠশিল্পী তনুজা দেববর্মন।