ঢাকা ০২:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি  স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক আলোচনা

Exceptional educational institution: ব্যতিক্রমী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর নামে গাছ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ৫২১ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘বৃক্ষসখা জন্মদিন পালন’ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রতিটা শিশুর নামে আছে একটি করে গাছ। যে শিশুর যে দিন জন্মদিন সেই নির্দিষ্ট দিনে তার নামাঙ্কিত গাছের গোড়ায় তার জন্মদিন পালন করা হয়। বার্থডে ক্যাপ পরিয়ে, কেক কেটে, মায়েদের ডেকে পায়েস খাইয়ে। বিদ্যালয়ের সমস্ত গাছ বেলুন বেঁধে সুসজ্জিত করে ব্যান্ড বাজিয়ে শিশুরা আনন্দ মুখর পরিবেশ গড়ে তোলে’

ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ

স্যার রাজদূত সামন্ত প্রধান শিক্ষকের আমন্ত্রণে হাটগাছা, উলুবেড়িয়া, হাওড়া এর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাড়রংমাজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় যেখানে সারাদিন ব্যাপী পালিত হলো প্রকৃতি নিয়ে নানা কর্মসূচি। যেখানে শহরের বুকে ছাত্রদের অভাবে সরকারী স্কুল গুলি একের পর এক বন্ধের পথে, সেখানে এই স্কুলের বাচ্চারা কেউ ক্লাস ফাইভের পর স্কুল আর হেড স্যারকে ছেড়ে যেতে চাইছেনা। আর এরা সবাই স্বেচ্ছায় সকাল দশটা থেকে ৫টা অবধি স্কুলে কাটায়। অসাধারণ লাগলো বাচ্চাদের দেখে। আর ওদের কাজ দেখে। প্রকৃতি আর পরিবেশ নিয়ে সারাদিন ব্যাপী চললো, আলোচনা , বৃক্ষরোপণ, বসে আঁকো ও ছোট্ট বন্ধুদের ব্যায়াম প্রদর্শন।

‘বৃক্ষসখা জন্মদিন পালন’ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রতিটা শিশুর নামে আছে একটি করে গাছ। যে শিশুর যে দিন জন্মদিন সেই নির্দিষ্ট দিনে তার নামাঙ্কিত গাছের গোড়ায় তার জন্মদিন পালন করা হয়। বার্থডে ক্যাপ পরিয়ে, কেক কেটে, মায়েদের ডেকে পায়েস খাইয়ে। বিদ্যালয়ের সমস্ত গাছ বেলুন বেঁধে সুসজ্জিত করে ব্যান্ড বাজিয়ে শিশুরা আনন্দ মুখর পরিবেশ গড়ে তোলে

সমস্ত শিশু ও তাদের মায়েদের নিয়ে বিদ্যালয়ে সেদিন সবুজ পরিচর্যা, সবুজ রক্ষা,সবুজ রোপন বিষয়ে সচেতন করা হয়। গাছের গুরুত্ব বোঝানো হয়। বছরের শুরুর মাসে সমস্ত শিশুদের নিয়ে ,যাদের জন্মদিন তাদের বার্থডে ক্যাপ পরিয়ে ব্যান্ড বাজিয়ে পরিবেশ সচেতনতা মূলক পোস্টার নিয়ে বিদ্যালয় সন্নিহিত এলাকা পরিক্রমা করা হয়। এতে শিশু ও তাদের অভিভাবকদের দারুন সাড়া পাওয়া যায়। এখানে নিম্ন লিখিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয় প্রধান শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে।

এরমধ্যে ঊপড়-ঋৎরবহফষু পাওয়ার বল প্রতিযোগিতা। বিদ্যালয়ের শিশুদের চারটি টিমে ভাগ করে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতা। বিদ্যালয়ের শিশুদের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিই এই প্রতিযোগিতার প্রধান লক্ষ্য। চারটি টীম সবুজ বাহিনী: বিদ্যালয় ও পরিবেশে সবুজায়ন ,সবুজ সচেতনতা ,সবুজ পরিচর্চা,সবুজ রক্ষা এই টিমের মূল দায়িত্ব। এই টিমের বার্তা : গাছ লাগবো মোরা, সবুজ হবে ধরা। প্লাস্টিক মুক্ত পৃথিবী: প্লাস্টিক সম্পর্কে সচেতনতা ,প্লাস্টিক বর্জন,প্লাস্টিক বর্জন বিষয়ে পরিবেশ সচেতনতা এই টিমের প্রধান দায়িত্ব।

এই টিমের বার্তা:-প্লাস্টিক বর্জন করুন। জল ধরো জল ভরো: ভৌম জলের অপচয় রোধ ও বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি এই টিমের প্রধান দায়িত্ব। বিদ্যালয়ের ছাদের বৃষ্টির জল পাইপের মাধ্যমে চৌবাচ্চায় সংরক্ষণ করে বিদ্যালয়ের গাছ পরিচর্যা ও চৌবাচ্চা ভর্তি হয়ে গেলে সেই অতিরিক্ত জল ওয়াটার হার্ভাস্টিং প্রসেস এর মাধ্যমে সংরক্ষণ করার পদ্ধতি বিদ্যালয়ে আছে। শিশুদেরকে এই বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।এবং চৌবাচ্চায় সংরক্ষিত জলে যাতে মশা জন্মাতে না পারে তার জন্য চৌবাচ্চায় গাপটি মাছের চাষ হয়। আরো একটি চৌবাচ্চায় রঙিন মাছের চাষ হয়।

এই টিমের বার্তা: জল ধরো জল ভরো। মাঠে পাঠান মোবাইল ছাড়ান: বর্তমানে শিশুদের পড়াশোনার প্রধান অন্তরায় মোবাইল আসক্তি ।তাই এই টীম গঠন করে বিদ্যালয়ের শিশুদের টীম মিটিংয়ে মোবাইল আসক্তির কুফল বোঝান হয়।শিশুদের মায়েদের মিটিংয়ে ডেকে মোবাইল আসক্তির কুফল সম্পর্কে সচেতন করা হয় ও মোবাইল আসক্তি ছড়ানোর কিছু পদ্ধতি বলে দেওয়া হয়।

এই টিমের বার্তা: বই পড়ি দেশ গড়ি। বিদ্যালয়টিতে গল্প, কবিতা, ছবি আঁকা, কুইজ মনীষীদের বাণীর মতো কিছু বই কিনে শিশুদের দিয়ে শিশুদের বই পড়ার প্রতি আকৃষ্ট করা হয়।সমস্ত অনুষ্ঠান ছিল অসাধারণ আর অভিভাবক দের যোগদান তাকে আরো সফল করে তুলেছিল।সমস্ত প্রাথমিক আর মাধ্যমিক স্তরের স্কুল গুলি যদি এভাবে ছাত্রদের উৎসাহ দেয় তাহলে আগামী দিনে সরকারী স্কুল গুলির ভবিষ্যৎ অন্যরকম হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

Exceptional educational institution: ব্যতিক্রমী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থীর নামে গাছ

আপডেট সময় : ০৯:১৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২২

‘বৃক্ষসখা জন্মদিন পালন’ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রতিটা শিশুর নামে আছে একটি করে গাছ। যে শিশুর যে দিন জন্মদিন সেই নির্দিষ্ট দিনে তার নামাঙ্কিত গাছের গোড়ায় তার জন্মদিন পালন করা হয়। বার্থডে ক্যাপ পরিয়ে, কেক কেটে, মায়েদের ডেকে পায়েস খাইয়ে। বিদ্যালয়ের সমস্ত গাছ বেলুন বেঁধে সুসজ্জিত করে ব্যান্ড বাজিয়ে শিশুরা আনন্দ মুখর পরিবেশ গড়ে তোলে’

ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ

স্যার রাজদূত সামন্ত প্রধান শিক্ষকের আমন্ত্রণে হাটগাছা, উলুবেড়িয়া, হাওড়া এর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাড়রংমাজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় যেখানে সারাদিন ব্যাপী পালিত হলো প্রকৃতি নিয়ে নানা কর্মসূচি। যেখানে শহরের বুকে ছাত্রদের অভাবে সরকারী স্কুল গুলি একের পর এক বন্ধের পথে, সেখানে এই স্কুলের বাচ্চারা কেউ ক্লাস ফাইভের পর স্কুল আর হেড স্যারকে ছেড়ে যেতে চাইছেনা। আর এরা সবাই স্বেচ্ছায় সকাল দশটা থেকে ৫টা অবধি স্কুলে কাটায়। অসাধারণ লাগলো বাচ্চাদের দেখে। আর ওদের কাজ দেখে। প্রকৃতি আর পরিবেশ নিয়ে সারাদিন ব্যাপী চললো, আলোচনা , বৃক্ষরোপণ, বসে আঁকো ও ছোট্ট বন্ধুদের ব্যায়াম প্রদর্শন।

‘বৃক্ষসখা জন্মদিন পালন’ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রতিটা শিশুর নামে আছে একটি করে গাছ। যে শিশুর যে দিন জন্মদিন সেই নির্দিষ্ট দিনে তার নামাঙ্কিত গাছের গোড়ায় তার জন্মদিন পালন করা হয়। বার্থডে ক্যাপ পরিয়ে, কেক কেটে, মায়েদের ডেকে পায়েস খাইয়ে। বিদ্যালয়ের সমস্ত গাছ বেলুন বেঁধে সুসজ্জিত করে ব্যান্ড বাজিয়ে শিশুরা আনন্দ মুখর পরিবেশ গড়ে তোলে

সমস্ত শিশু ও তাদের মায়েদের নিয়ে বিদ্যালয়ে সেদিন সবুজ পরিচর্যা, সবুজ রক্ষা,সবুজ রোপন বিষয়ে সচেতন করা হয়। গাছের গুরুত্ব বোঝানো হয়। বছরের শুরুর মাসে সমস্ত শিশুদের নিয়ে ,যাদের জন্মদিন তাদের বার্থডে ক্যাপ পরিয়ে ব্যান্ড বাজিয়ে পরিবেশ সচেতনতা মূলক পোস্টার নিয়ে বিদ্যালয় সন্নিহিত এলাকা পরিক্রমা করা হয়। এতে শিশু ও তাদের অভিভাবকদের দারুন সাড়া পাওয়া যায়। এখানে নিম্ন লিখিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয় প্রধান শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে।

এরমধ্যে ঊপড়-ঋৎরবহফষু পাওয়ার বল প্রতিযোগিতা। বিদ্যালয়ের শিশুদের চারটি টিমে ভাগ করে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতা। বিদ্যালয়ের শিশুদের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিই এই প্রতিযোগিতার প্রধান লক্ষ্য। চারটি টীম সবুজ বাহিনী: বিদ্যালয় ও পরিবেশে সবুজায়ন ,সবুজ সচেতনতা ,সবুজ পরিচর্চা,সবুজ রক্ষা এই টিমের মূল দায়িত্ব। এই টিমের বার্তা : গাছ লাগবো মোরা, সবুজ হবে ধরা। প্লাস্টিক মুক্ত পৃথিবী: প্লাস্টিক সম্পর্কে সচেতনতা ,প্লাস্টিক বর্জন,প্লাস্টিক বর্জন বিষয়ে পরিবেশ সচেতনতা এই টিমের প্রধান দায়িত্ব।

এই টিমের বার্তা:-প্লাস্টিক বর্জন করুন। জল ধরো জল ভরো: ভৌম জলের অপচয় রোধ ও বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি এই টিমের প্রধান দায়িত্ব। বিদ্যালয়ের ছাদের বৃষ্টির জল পাইপের মাধ্যমে চৌবাচ্চায় সংরক্ষণ করে বিদ্যালয়ের গাছ পরিচর্যা ও চৌবাচ্চা ভর্তি হয়ে গেলে সেই অতিরিক্ত জল ওয়াটার হার্ভাস্টিং প্রসেস এর মাধ্যমে সংরক্ষণ করার পদ্ধতি বিদ্যালয়ে আছে। শিশুদেরকে এই বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়।এবং চৌবাচ্চায় সংরক্ষিত জলে যাতে মশা জন্মাতে না পারে তার জন্য চৌবাচ্চায় গাপটি মাছের চাষ হয়। আরো একটি চৌবাচ্চায় রঙিন মাছের চাষ হয়।

এই টিমের বার্তা: জল ধরো জল ভরো। মাঠে পাঠান মোবাইল ছাড়ান: বর্তমানে শিশুদের পড়াশোনার প্রধান অন্তরায় মোবাইল আসক্তি ।তাই এই টীম গঠন করে বিদ্যালয়ের শিশুদের টীম মিটিংয়ে মোবাইল আসক্তির কুফল বোঝান হয়।শিশুদের মায়েদের মিটিংয়ে ডেকে মোবাইল আসক্তির কুফল সম্পর্কে সচেতন করা হয় ও মোবাইল আসক্তি ছড়ানোর কিছু পদ্ধতি বলে দেওয়া হয়।

এই টিমের বার্তা: বই পড়ি দেশ গড়ি। বিদ্যালয়টিতে গল্প, কবিতা, ছবি আঁকা, কুইজ মনীষীদের বাণীর মতো কিছু বই কিনে শিশুদের দিয়ে শিশুদের বই পড়ার প্রতি আকৃষ্ট করা হয়।সমস্ত অনুষ্ঠান ছিল অসাধারণ আর অভিভাবক দের যোগদান তাকে আরো সফল করে তুলেছিল।সমস্ত প্রাথমিক আর মাধ্যমিক স্তরের স্কুল গুলি যদি এভাবে ছাত্রদের উৎসাহ দেয় তাহলে আগামী দিনে সরকারী স্কুল গুলির ভবিষ্যৎ অন্যরকম হবে।