ঢাকা ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংসদে হাসনাতের বক্তব্যের প্রতিবাদ মধ্যরাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আশার আলো ১০ হাজার কর্মীর ‘জিরো কস্ট’ যাত্রায় আইএমএফের পূর্বাভাস ২০৩০ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনাম-থাইল্যান্ডকে ছাড়াবে বাংলাদেশ আন্দোলন করে বিএনপিকে জিম্মি করতে চায় বিরোধী দল: পানিসম্পদ মন্ত্রী পাহাড়ে আটকে আছে ৫০ লাখ ঘনমিটার পানি, ভেঙে গেলে যে মহাবিপদ হতে পারে কাতারের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বই ছাপায়ও সিন্ডিকেট  আওয়ামী লীগ নেতা রাব্বানীর একক দরপত্র, বাড়তি খরচ ৩ কোটি টাকা হিমালয় থেকে নেমে এলো মৃত্যুর স্রোত: নেপালে বন্যায় মৃত্যু ৩৮৯, নিখোঁজ প্রায় হাজার আশ্রয়প্রার্থীদের ২ লাখ ভিসা বাতিল করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন রোহিঙ্গাদের অধিকার নিরাপদ প্রত্যাবাসনে ঐক্যবদ্ধ ১৬ কূটনৈতিক মিশন

১১ বছরের শিশু কন্যা সন্তানের মা ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের ডিএনএ মিলেছে

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

‘ডিএনএ বলছে, সেই মাদ্রাসা শিক্ষকই বাবা’

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যে মাদ্রাসায় অভিভাবকেরা সন্তানকে পাঠান ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার আশায়, সেই শিক্ষালয়ই যদি একটি শিশুর জন্য আতঙ্ক ও নির্যাতনের স্থানে পরিণত হয়, তার চেয়ে বেদনাদায়ক আর কী হতে পারে?

নেত্রকোনার মদন উপজেলার ১১ বছরের এক শিশুকে ঘিরে উঠে আসা অভিযোগ আমাদের সেই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

এই পরিস্থিতিতে পরিবারের বিশ্বাস ছিল, মাদ্রাসাটি মেয়েটির জন্য নিরাপদ একটি শিক্ষালয়। কিন্তু সেই বিশ্বাসই যেন ভয়াবহভাবে ভেঙে গেছে।

১৮ এপ্রিল চিকিৎসা পরীক্ষায় শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে তার মা মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দাবি, সেই পরীক্ষায় নবজাতক কন্যাশিশুর সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের ডিএনএ মিলেছে। অর্থাৎ তদন্তে তিনি শিশুটির সন্তানের জৈবিক বাবা হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

সোমবার নেত্রকোণা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) নুরুল কবীর রুবেল দাবি করেন, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের জন্যে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আমার মতামত নেওয়ার জন্যে আসেন। তখন ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির পরীক্ষার প্রতিবেদনটি আমি দেখি।

ডিএনএ প্রোফাইল মিলেছে। অর্থাৎ ১১ বছরের শিশুটির কন্যাসন্তানের ‘জৈবিক বাবা’ আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর এটা প্রমাণিত হয়েছে।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অধ্যায়টি এরপর। নিরাপত্তার জন্য আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে সেফ হোমে নেওয়া হয়। সেখানেই ২ জুলাই সে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। মাত্র ১১ বছর বয়সে একটি শিশুর মা হয়ে যাওয়ার এই বাস্তবতা শুধু একটি পরিবারের নয়, আমাদের পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো।

এই ঘটনা কোনোভাবেই শুধু একটি মামলার বিবরণ নয়। এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা, অভিভাবকদের আস্থা এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এনেছে।

ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রতিটি শিক্ষালয় শিশুর জন্য নিরাপদ আশ্রয় হওয়া জরুরি। বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কোনো শিক্ষক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি যেন শিশুর প্রতি সহিংসতা চালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের সর্বোচ্চ কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ পথ এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।

এই ১১ বছরের শিশুর ভবিষ্যৎ যেন তার ওপর ঘটে যাওয়া অপরাধের অন্ধকারে হারিয়ে না যায়, এটাই এখন সবচেয়ে বড় মানবিক দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

১১ বছরের শিশু কন্যা সন্তানের মা ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের ডিএনএ মিলেছে

আপডেট সময় : ১১:৪৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

যে মাদ্রাসায় অভিভাবকেরা সন্তানকে পাঠান ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার আশায়, সেই শিক্ষালয়ই যদি একটি শিশুর জন্য আতঙ্ক ও নির্যাতনের স্থানে পরিণত হয়, তার চেয়ে বেদনাদায়ক আর কী হতে পারে?

নেত্রকোনার মদন উপজেলার ১১ বছরের এক শিশুকে ঘিরে উঠে আসা অভিযোগ আমাদের সেই নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। তার মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন।

এই পরিস্থিতিতে পরিবারের বিশ্বাস ছিল, মাদ্রাসাটি মেয়েটির জন্য নিরাপদ একটি শিক্ষালয়। কিন্তু সেই বিশ্বাসই যেন ভয়াবহভাবে ভেঙে গেছে।

১৮ এপ্রিল চিকিৎসা পরীক্ষায় শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে তার মা মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর আদালতের নির্দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দাবি, সেই পরীক্ষায় নবজাতক কন্যাশিশুর সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের ডিএনএ মিলেছে। অর্থাৎ তদন্তে তিনি শিশুটির সন্তানের জৈবিক বাবা হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।

সোমবার নেত্রকোণা জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) নুরুল কবীর রুবেল দাবি করেন, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের জন্যে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আমার মতামত নেওয়ার জন্যে আসেন। তখন ডিএনএ প্রোফাইল তৈরির পরীক্ষার প্রতিবেদনটি আমি দেখি।

ডিএনএ প্রোফাইল মিলেছে। অর্থাৎ ১১ বছরের শিশুটির কন্যাসন্তানের ‘জৈবিক বাবা’ আসামি আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর এটা প্রমাণিত হয়েছে।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক অধ্যায়টি এরপর। নিরাপত্তার জন্য আদালতের নির্দেশে শিশুটিকে সেফ হোমে নেওয়া হয়। সেখানেই ২ জুলাই সে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। মাত্র ১১ বছর বয়সে একটি শিশুর মা হয়ে যাওয়ার এই বাস্তবতা শুধু একটি পরিবারের নয়, আমাদের পুরো সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো।

এই ঘটনা কোনোভাবেই শুধু একটি মামলার বিবরণ নয়। এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা, অভিভাবকদের আস্থা এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এনেছে।

ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রতিটি শিক্ষালয় শিশুর জন্য নিরাপদ আশ্রয় হওয়া জরুরি। বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কোনো শিক্ষক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি যেন শিশুর প্রতি সহিংসতা চালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের সর্বোচ্চ কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা, অভিযোগ জানানোর নিরাপদ পথ এবং কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।

এই ১১ বছরের শিশুর ভবিষ্যৎ যেন তার ওপর ঘটে যাওয়া অপরাধের অন্ধকারে হারিয়ে না যায়, এটাই এখন সবচেয়ে বড় মানবিক দাবি।