প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী উদ্যোগ নারী শিক্ষায় অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনা
- আপডেট সময় : ০৯:১৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
নারী শিক্ষার বিস্তারে অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার ঘোষণা বাংলাদেশের শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ ঘোষণা শুধু নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষিত, দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার একটি সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ।
রোববার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার নারীদের অনার্স পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে। একই সঙ্গে ভালো ফলাফল করা ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এখনো অনেক পরিবারের প্রধান বাধা অর্থনৈতিক সংকট। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েরা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। শিক্ষা ব্যয়, যাতায়াত, আবাসন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচের কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন মাঝপথে থেমে যায়। সরকারের প্রস্তাবিত বিনামূল্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা সেই বাধা অনেকটাই দূর করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পিছিয়ে রেখে কোনো দেশই টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারে না। ফলে নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা মানে শুধু একজন নারীকে শিক্ষিত করা নয়; এর মাধ্যমে একটি পরিবার, একটি প্রজন্ম এবং শেষ পর্যন্ত পুরো সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারের সময় নারীদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। সেই ধারাবাহিকতায় অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের নারী শিক্ষা নীতিতে একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
নারী শিক্ষার প্রসারের সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও সরাসরি সম্পর্কিত। উচ্চশিক্ষিত নারী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের পাশাপাশি উদ্যোক্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, প্রশাসক ও বিভিন্ন পেশায় দক্ষ জনশক্তি হিসেবে অবদান রাখতে পারেন। একই সঙ্গে শিক্ষিত মায়েরা সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে অধিক সচেতন হয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
শুধু উচ্চশিক্ষা নয়, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দরিদ্র পরিবারের প্রায় এক কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুল ব্যাগ এবং প্রতিবছর স্কুল ড্রেস পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের কথা বলেছেন তিনি। নতুন বইয়ের পাশাপাশি এসব শিক্ষা-সহায়ক উপকরণ সরবরাহ করা হলে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং ঝরে পড়া কমানোর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
নারীদের স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবারের নারী প্রধানদের পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি ঘরে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
সব মিলিয়ে নারীদের অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার ঘোষণা কেবল একটি শিক্ষা-সুবিধা নয়; এটি নারী ক্ষমতায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক বৈষম্য কমানোর একটি বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তবে এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের কাছে সুবিধাটি কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার ওপর। ঘোষণা বাস্তবে রূপ নিলে বাংলাদেশের নারী শিক্ষার ইতিহাসে এটি নিঃসন্দেহে একটি স্মরণীয় ও যুগান্তকারী অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে।




















